আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা ● ১৬-৩১ মার্চ, ২০২৬ ● ১-১৫ চৈত্র, ১৪৩২

প্রবন্ধ

সন্ত্রাস মুক্ত বিশ্বের ভাবনা

নিখিলরঞ্জন গুহ


খনিজ তেল সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ভুরাজনীতিতে আগাগোড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী এবং তিনি এখন ড্রাগ চোরাচালানের অভিযোগে সস্ত্রীক মার্কিনমুলুকের টিব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগার মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি। বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি স্তম্ভিত হলেও এখনও পর্যন্ত তাদের তেমন ইতিবাচক ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বলা যেতে পারে রাষ্ট্রসঙ্ঘও নির্বিকার। একটা দেশের আইন কীভাবে অন্য একটা স্বাধীন রাষ্ট্রে প্রযুক্ত হতে পারে সেই প্রশ্ন থাকলেও একগুঁয়ে ডোলান্ড ট্রাম্পের তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকা যখন বিশ্বে নির্বিষ সমালোচনার মুখে তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানের উপর হামলা এবং সে দেশের প্রধানকে হত্যা করার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্ব বিচলিত। একই ভাবে লিবিয়া ও ইরাককেও মার্কিন আগ্রাসনের শিকার হতে দেখা গিয়েছে। সেখানে গদ্দাফি এবং সাদ্দামকে হত্যার ঘটনা থেকেও বিশ্ব যে শিক্ষা নেয়নি এই ঘটনাগুলি তার প্রমাণ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বঘোষিত বিচারক স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অভিযুক্ত রাষ্ট্রের আত্মপক্ষ সমর্থনের জায়গা নেই। রাষ্ট্রসংঘ নামে একটা সংস্থা আছে বটে তবে তা নখদন্তহীন বৃদ্ধ সিংহ যেখানে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সামরিক জোটভুক্ত দেশগুলির আধিপত্য মোটামুটি শুরু থেকেই বর্তমান। চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া) কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভেটো প্রয়োগ করলেও স্থায়ীভাবে বিশ্বের অস্থিরতা কেটেছে বলা যাবে না। রাষ্ট্রসংঘকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য থেকে তার গুরুত্ব নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ডোনান্ড ট্রাম্প একসময় রাষ্ট্রসংঘকে অকর্মণ্য বৃদ্ধদের সময় কাটানোর আখড়া হিসেবে পরিহাস করেছিলেন। অধুনা তার একটি মন্তব্য বিশ্ববাসীর কাছে আশঙ্কার কারণ। তার পরিকল্পনায় জাতিসংঘ নয়, বিশ্বকে চালাবে তার প্রস্তাবিত ও প্রতিষ্ঠিত 'বোর্ড অফ পিস'। জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে 'বোর্ড অফ পিস' কাজ করবে কী করবে না তা বড়ো কথা নয়; অভিজ্ঞতা বলছে বর্তমান বিশ্ব তার সেই ভাবনা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

প্যালেন্সটাইনের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্রয় পুষ্ট ইজরায়েলের লাগাতার সামরিক অভিযান, নির্বিচারে শিশু, নারী হত্যায় তার প্রকাশ ঘটতে দেখা যায়। বলা যায়, বর্তমান বিশ্বে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপস্থিতিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিড়ির এই বাড়বাড়ান্তের কারণ। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের নির্দিষ্ট অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী যুদ্ধজোটকে সংযত থাকতে বাধ্য করেছিল। জর্জ ওয়াশিংটন বা আব্রাহাম লিংকনের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বর্তমান বিশ্বে যারা গণতন্ত্রের পুজারী হিসেবে মান্যতা দিয়ে থাকেন তাদের পক্ষে এটা মেনে নিতে কষ্ট হলেও এটা সত্য - এই দেশটি শুধু মানবতা বিরোধীই নয় সন্ত্রাসবাদী দেশ হিসেবেও বিশ্বের কাছে আতঙ্ক বিশেষ। এই বাস্তবতায় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি যদি প্রয়োজনীয় ভূমিকা নেবার প্রশ্নে নির্বিকার থাকে তবে আরও রাষ্ট্রপ্রধানদের একই পরিণতির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দস্যুবৃত্তির কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে তার অর্থনীতি একদিকে যেমন সমরাস্ত্রের বিশ্ববাজা্র নির্ভর তেমনই তা নির্ভরশীল বৈদেশিক বানিজ্যে আধিপত্য কায়েমের উপর। বিদেশনীতি নির্ধারণের প্রশ্নে দেশটিতে কোনোদিনই মানবাধিকার স্থান পায়নি।

বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হলেও দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য খুব একটা সন্তোষজনক নয়। দেশটির বেকারত্বের বর্তমান হার ৪.৪ শতাংশ (বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ)। সেই সাথে Bureau of Economic Analysis-এর রিপোর্ট (২০২৫) দেশটির বৈদেশিক বানিজ্যে বিপুল ঘটতির কথা বলছে যার পরিমাণ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে। তার মোকাবিলায় মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন সহজ পথ হিসেবে বহিরাগত শ্রমিকদের উপর যেমন নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেমনই বিদেশে লগ্নিকারীদের উপরেও একটার পর একটা শর্ত চাপিয়ে চলেছে। লক্ষ্য মার্কিন ভূখণ্ডে লগ্নি ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করা। ফলে সস্তায় শ্রমশক্তির অভাব প্রতিযোগিতার বাজারে যেমন বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে বিপাকে ফেলেছে তেমনই তাদের মধ্যে অসন্তোষও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই অসন্তোষ প্রশমনের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন আমদানীকৃত পণ্যের উপর লাগামহীন শুল্ক চাপিয়ে আভ্যন্তরীণ বাজার তৈরির কৌশল নেবার সাথে বিদেশে সহজ শর্তে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা ক'রে চলেছে। মনে রাখতে হবে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের শর্তে চুক্তিবদ্ধ হতে বাধ্য করার কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতির মধ্যে নিহিত। লক্ষ্যণীয় হল উল্লিখিত ব্যবস্থাগুলি নিলেও দেশটি সমস্যা মুক্ত হতে পেরেছে এমন নয়। একটি হিসেব বলছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বানিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ এখনও ২৯৫ বিলিয়ন ডলার (২০২৪)। তার উপর আবার মাথায় বিপুল অংকের ঋণ যা প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের উপর (বিশ্বে ঋণগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে শীর্ষে)।

বিভিন্ন দেশের সম্পদের দখল নিতে ট্রাম্প্রশাসনের বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে এই অবস্থাকে দায়ী করা যায়। এই প্রশ্নে ভেনেজুয়েলায় যদি লক্ষ্য হয় খনিজ তেলের ভাণ্ডার তবে প্রাচ্যের উপর আধিপত্যকে দৃঢ় করার পেছনেও একই উদ্দেশ্য কাজ করছে। এই প্রশ্নে ব্যতিক্রমী রাষ্ট্র হল ইরান। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপর তার নিয়ন্ত্রণকে দৃঢ় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা স্বার্থবিরোধী রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যা বা বন্দী করার জন্য বিগত দিনগুলিতে যে কারণগুলিকে মার্কিন সরকার এবং পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলি প্রচা্রের সামনে এনেছে বাস্তবে তার কোনটিতেই ন্যায্যতা ছিল না। ভেনেজুয়েলারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে সেদেশের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি ছিল যুক্তিহীন। কারণ মাদকদ্রব্য কোকেন এবং ফেন্টালিন উৎপাদনকারী প্রধান দেশ হল কলোম্বিয়া এবং মেক্সিকো। পাচারের উদ্দেশে তার ক্ষুদ্র অংশের জন্য ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ব্যবহৃত হয়ে থাকলেও তার জন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রপতিকে পাচারকারী বলা যায় না। আশ্চর্যজনক ভাবে এই দেশ দুটির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীরব। অতীত ঘাটলে দেখা যাবে একসময় এই দেশটির সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সুসম্পর্ক থাকলেও যেদিন থেকে দেশটি রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেছে সেদিন থেকেই উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। বলা যায় মতাদর্শগত বিভিন্নতা এবং স্বাধীন বৈদেশিক নীতির কারণেই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোষের মুখে পড়তে হয়।

বিশ্ব বানিজ্যে ডলারের বিকল্প হিসেবে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইরান সহ দশটি দেশ নিয়ে গঠিত ব্রিকস (BRICS)-এর সদস্য হতে আগ্রহ দেখালে বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়।

লিবিয়ার ক্ষেত্রেও বলা যায় উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি প্রায় এক। মধ্যপ্রাচ্যে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির নেতৃত্ব ইজরায়েলের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালে বলা যায় তার প্রাণনাশের চক্রান্তের শুরু। মার্কিন এবং পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাব মুক্ত করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করতে লিবিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান গাদ্দাফি এগিয়ে এলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিষ নজরে পড়েন। তিনি যেমন আরব-আফ্রিকান ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তেমনই তার লক্ষ্য ছিল ইজরায়েলের কতৃত্বকে দুর্বল করা। উপনিবেশ বিরোধী আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলিতেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তার এই প্রয়াসই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সন্ত্রাসবাদী কার্য হিসেবে আখ্যাত হয় যা পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলি ফলাও ক'রে প্রচার করতে থাকে।

বিভিন্ন দেশে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার চক্রান্তের সাথে যুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ তোলার আদৌ অধিকার আছে কিনা সেটা বিবেচ্য। যে অভিযোগের ভিত্তিতে সদ্দামের হুসেনের মৃত্যুদণ্ড তাও এক কলঙ্কিত চক্রান্তের ফল। যে রাসায়নিক অস্ত্রের উজুহাতে বাথ পার্টির নেতা তথা ইরাকের প্রেসিডেন্টকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল তা পরে অসত্য প্রমাণিত হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার জন্য জবাবদিহি করতে হয়নি। তার সমাজতান্ত্রিক ভাবনা ইরাককে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার, নারী স্বাধীনতা, শিক্ষা বিস্তার এবং শিল্প ও ব্যাঙ্কের জাতীয়করণ মধ্যপ্রাচ্যে এক আধুনিক রাষ্ট্রের উপহার দিয়েছিল যা পশ্চিমা শক্তির কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খনিজ তেল উত্তোলনে ওপেকের শর্ত লঙ্ঘন এবং ইরাকের খনিজ তেলের চুরির অভিযোগে আক্রান্ত কুয়েতকে সামনে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা শক্তির ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মূল কারণ ছিল রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প এবং ব্যাঙ্কের সাথে যুক্ত তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ।

রাশিয়ার সাথে ইউক্রনের বর্তমান যুদ্ধের কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, মার্কিন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যভুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তৎকালীন ইউক্রেনের নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট ইয়ানুকোভিচকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতপুষ্ট তথাকথিত 'মর্যাদার বিপ্লব'-এর ফলে রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে হয়েছিল। পরর্তীতে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে গণভোটের মাধ্যমে রুশভাষীরা স্বায়ত্ব শাসনের দাবী করলে নেমে আসে ভয়ংকর সামরিক অভিযান এবং হাজার হাজার মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে বিভিন্ন রাষ্ট্রে পুতুল সরকার গঠনের লক্ষ্যে আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনধিকার হস্তক্ষেপে স্থিতিশীলিতা নষ্ট করার পশ্চিমাশক্তির প্রয়াস আজও অব্যাহত। এই প্রশ্নে গুপ্তচর বৃত্তি, অর্থ, অস্ত্র প্রভৃতির ব্যবহার হতে দেখা গিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদেশের মাটিতে সংঘঠিত যুদ্ধে মার্কিন সৈন্যের প্রাণহানির বিনিময়ে সমরাস্ত্র ও বৈদেশিক বানিজ্যের বিস্তার ঘটলেও মূল ভূখণ্ড নিরাপদ থেকেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাপানের উপর পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ যে ভবিষ্যৎ বিশ্বকে শাসন করার প্রাকশর্ত ছিল তা আজ স্পষ্ট। সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা দেশগুলি যাতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে তার জন্য নানা বাধানিষেধ আরোপ ক'রে চলেছে এই শক্তি। এই উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রসংঘের তাবেদার সংস্থাগুলিও বিশেষভাবে সক্রিয়।

ইরানের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি আজ বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে। ইরানের অস্ত্র ভাণ্ডারে পেন্টাগনে হামলা চালানোর মতো পরমাণু শক্তিহীনতাই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দুঃসাহসী ক'রে তুলেছে তাতে সন্দেহ নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, ক্ষুধামুক্ত দেশ, না দেশের সার্বভৌমত্ব - এই প্রশ্ন আজ প্রধান।