আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা ● ১৬-৩১ মার্চ, ২০২৬ ● ১-১৫ চৈত্র, ১৪৩২

প্রবন্ধ

ন্যারেটিভ, আতঙ্ক ও ভোটার তালিকা

বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়


সোশ্যাল মিডিয়া ও জনমত নির্মাণ

ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি? অথবা রাজনীতি? এতটা অবুঝ বোধহয় আমরা কেউই নই যে কোনটা রাজনীতি আর কোনটা রাজনীতির মোড়কে ব্যক্তিগত কুৎসা তা বুঝিনা। তবুও ফাঁদে পা দিই। প্রতিদিন। প্রতি মুহূর্তে। তিরিশ সেকেন্ডের রিলস থেকে তৈরি জনমত। সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির ছড়িয়ে দেওয়া বিজ্ঞান, ইতিহাসের জ্ঞানবার্তা। অন্তর্জাল ব্যবহার করতে করতে কখন যে পুঁজির জালে আটকা পড়েছি, আর এতক্ষণ ঘাপটি মেরে বসে থাকা মাকড়শাটা একটু একটু করে ক্রমশ ধেয়ে আসছে, সেই বোধটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে চটকদার, সস্তা কনটেন্ট। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা নয়, আমাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ব্যক্তিগত কুৎসা, পিএনপিসি। বোধকে বিপথগামী করতে যার জুড়ি নেই। কোন রাজনীতিবিদ র'ফলা উচ্চারণ করলেন নাআর কোন মঞ্চের ব্যাকড্রপে বানান ভুল লেখা তা নিয়ে তোলপাড় করে আর যাই হোক রাজনীতি হয়না। তাহা 'অতি বিষম বস্তু'।

পপুলিস্ট রাজনীতির কৌশল

পুরোনোর সঙ্গে নতুনের কিছু পার্থক্য থাকেই। নতুনের ক্ষেত্রে সবসময় লক্ষ্য থাকে পুরোনো ভুলগুলো শুধরে মোড়ক বদলে বিষয়কে সামনে আনা। তাই আগেকার প্রকাশ্য বিষয় সামনে আসে বেশ রেখেঢেকে। চকচকে রূপ নিয়ে। এক সময়ের 'ওয়ান নেশন, ওয়ান এম্পায়ার, ওয়ান লিডার' নব্য রূপে গণতান্ত্রিক মোড়কে হয়ে যায় 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস' অথবা 'ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন' কিংবা 'মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়'। মুশকিল একটাই - এই 'সবকা'র মধ্যে কারা কারা পড়ে সেটা সবারই অজানা। পাশাপাশি থাকে কাল্পনিক বহিরাগতের বিরুদ্ধে আক্রোশ তৈরি, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করে দেওয়া, গঠনমূলক সমালোচনা বন্ধ করা, প্রতিষ্ঠান নিষ্ক্রিয় করে ব্যক্তি ইমেজকে প্রাধান্য দেওয়া, আমিত্ব-র প্রাধান্য, পপুলিস্ট শ্লোগান তৈরি ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম হাজারো উপসর্গের কথা লেখা যেতে পারে। সবগুলোই আমাদের জানা। তফাৎ একটাই। পুরোনো থেকে নতুনের পথে উত্তোরণ, তথাকথিত গণতান্ত্রিক মোড়কের আড়ালে কৌশলগত পরিবর্তনের দাঁত নখ বুঝতে একটু বেশি সময় লেগে যায় এই যা। যার মূল উপপাদ্য রাজনীতিকে লঘু করে মানুষকে ক্রমশ ক্রমশ বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া। রুটি, রুজি, ছাদের লড়াই থেকে সরিয়ে দেওয়া। নোটবাতিল থেকে লিঙ্ক করা, এনআরসি, সিএএ থেকে এসআইআর - সবই মানুষকে ব্যতিব্যস্ত রেখে লড়াই সংগ্রাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবার বৃহত্তর পরিকল্পনা।

ন্যারেটিভ নির্মাণ ও এসআইআর

এসআইআর প্রসঙ্গ যখন এলই তখন তা নিয়েই দু'চার কথা বলা যাক। এরকম নয় যে এই প্রথম ভোটার তালিকায় সংশোধন হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার নিঃশব্দেভোটার তালিকার ঝাড়াই বাছাই হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম এসআইআর শুরুর অনেক আগে থেকেই শোরগোল ফেলা হয়েছিল 'বহিরাগত' 'রোহিঙ্গা' 'ঘুসপেঠিয়া' এইসব বলে। যারা এসব নিয়ে শোরগোল তুলেছিলেন তাঁরা একবারও বলেননি যে যদি এদেশে বহিরাগত ঢুকে থাকে, বসবাস করে থাকে সে ব্যর্থতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। সীমান্ত রক্ষার দায় তাদের ওপরেই। তবুও 'পপুলিস্ট' শব্দবন্ধের বহুল ব্যবহারেপ্রাথমিকভাবে মানুষকে বিশ্বাস করিয়ে দেওয়া গেছিল যে আপনার আমার চারপাশে ভর্তি অনুপ্রবেশকারী।

এ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিভিন্ন সভায় রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গার যে সংখ্যা বলেন সারা পৃথিবীতে অত রোহিঙ্গা জনসংখ্যা নেই (ভারত সরকারের অনুমান এ দেশে ৪০ হাজারের কাছাকাছি রোহিঙ্গা আছে। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুসারে এ দেশে নথিভুক্ত রোহিঙ্গার সংখ্যা ২০ থেকে ২২ হাজার। তবে ভারত সরকার রাষ্ট্রসংঘের এই শাখার কাজে মান্যতা দেয় না।)। তাদের মাতৃভাষাও রোহিঙ্গা বা রোয়াইঙ্গা, বাংলা নয়। যে ভাষা চট্টগ্রামের কথ্য ভাষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রোহিঙ্গারা তাদের কথায় রাখাইন এবং বার্মিজ শব্দ ব্যবহার করেন। কথ্য বাংলার চেয়ে ঢের দূরে যার অবস্থান। তবুও আমরা বিশ্বাস করেছি। বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হবার পরে কতজন 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' ধরা পড়লো নির্বাচন কমিশন তা বলতে না পারা সত্ত্বেও।

এসআইআর ও বাস্তবতা

এবার রাজ্যের এসআইআর। ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং। এনুমুরেশন ফর্ম পূরণ ইত্যাদি পর্ব পেরিয়ে খসড়া তালিকা। যে তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত, একাধিক জায়গায় থাকা ভোটারের নাম বাদ। পশ্চিমবঙ্গে খসড়া তালিকায় বাদ ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের নাম। যার মধ্যে নিখোঁজ ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন। মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২। অনুপস্থিত ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৮ এবং ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৮ হাজার। সঠিক কাজ। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল করতে গেলে এগুলো করতেই হবে। স্বভাবতই এসব নিয়ে কোনও আপত্তি ছিলনা। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গেই এলো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। প্রায় দেড় কোটি ভোটারের তথ্যগত অসঙ্গতি। যা খসড়া তালিকায় থাকা মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ।

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি - দায় কার?

প্রশ্ন একটাই! তথ্যগত অসঙ্গতি কীভাবে? দায় কার? ভোটারের? নাকি নির্বাচন কমিশনের? ভোটার তো ভোটার তালিকা তৈরি করে না। করে কমিশন। কমিশন নিযুক্ত কর্মীরা। তাই তালিকায় যদি কোনও ভোটারের নাম ভুল থাকে বা ঠিকানা ভুল থাকে তার দায় পুরোপুরি কমিশনের। ফলে যুক্তিগ্রাহ্যভাবে সমস্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির দায় নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু তা সম্পূর্ণ চাপিয়ে দেওয়া হল ভোটারদের, নাগরিকদের ওপর। এর আগেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, ঘুসপেঠিয়া বলে এমন আতঙ্কের আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল যে ভোটাররা নিজেরাই নিজেদের অপরাধী ভাবতে শুরু করলেন। আতঙ্কিত নাগরিকরা তালিকায় নাম হারানোর ভয়ে দৌড়োদৌড়ি শুরু করলেন এ দরজা থেকে ও দরজায়। এই তালিকায় এরকম বহু মানুষ আছেন যারা বংশানুক্রমে এদেশে বসবাস করছেন। তাদের কারোর বয়স হয়তো ৮০ বা তার বেশি। কারোর ৬০, কেউবা ৫০-এর নিচে। এর আগে বেশ কয়েকবার ভোট দিয়েছেন। ২০০২-এ নাম ছিল। অথচ নতুন করে পরিচয় আর ভোট দেওয়ার অধিকার প্রমাণ করার জন্য তাদেরই গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হল। এই হেনস্তার দায় কার সে প্রশ্ন ওঠা কি খুবই অসঙ্গত?

নির্বাচন কমিশন তথ্য যাচাই করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। আর্টিফিশিয়াল ইনটালিজেন্স। যদিও এক্ষেত্রে কোনও পরীক্ষিত সফটওয়ার ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, সেই সফটওয়ার ব্যবহারের যথাযথ অনুমতি আছে কিনা তা অস্বচ্ছ। ২০০২-এ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা এআই কতটা সঠিক ভাবে পড়তে পেরেছে সে প্রশ্নের উত্তর দেবে কে? সফটওয়্যারচিহ্নিত করেছে প্রায় দেড় কোটি ভোটারের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। যদিও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ অনেক জায়গাতেই জানানো হয়নি। বাবার নাম মুখোপাধ্যায়, ছেলে মুখার্জি - লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। শেখ, সেখ - লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। চৌধুরী বানান অনেকেই আলাদা আলাদা লেখেন - লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। খাতুন, বিবি - লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। বাংলার ৪ নাকি ইংরেজির ৮ হয়েছে। ফলে ৪০ বছরের ব্যক্তির বয়স হয়েছে ৮০ - লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। সৌজন্যে কমিশনের সফটওয়্যার। এই প্রযুক্তিগত ভুলের দায় কার? সাধারণ মানুষের? নাকি নির্বাচন কমিশনের?

আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন, ট্রাইব্যুনাল ও অনিশ্চয়তা

এরপর কমিশন আদালত টানাপোড়েন শেষে চূড়ান্ত, অথচ চূড়ান্ত নয় ভোটার তালিকা। যেখানে যুক্ত হল আরও এক নতুন শব্দবন্ধ। 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন'। 'বিচারাধীন'। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম, ঠিকানা সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, তাঁদের সরাসরি বাদ না দিয়ে 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রাখা হল। অর্থাৎ, তাঁদের ভোটাধিকার আপাতত স্থগিত নয়, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তাতেই থাকতে হবে। যা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি, পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল এবং বাসস্থানের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে।

রাজ্যের যে জেলাগুলোতেআন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে শীর্ষে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই ২৪ পরগনাএবং উত্তর দিনাজপুর। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে বিচারাধীন ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫। মালদহে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ১২৭। আর উত্তর দিনাজপুরে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৪১। অর্থাৎ ৩ জেলায় মোট বিচারাধীন ২৪ লক্ষ ৯ হাজার ৬১৩ জন। শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি এটাই যে এই আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে এসে শেষমেষ যারা আটকে তাঁদের অধিকাংশই প্রান্তিক, গরিব, খেটে খাওয়া, দিন আনি দিন খাই মানুষ।এঁদের অধিকাংশই কয়েক পুরুষ ধরে এখানেই আছেন, জন্মেছেন, বড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বড়ো সংখ্যকই মুসলমান হলেও সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি হিন্দু, আদিবাসী, মতুয়া বা অন্যান্য জনগোষ্ঠী।

এরপর আদালত বলেছে ট্রাইব্যুনাল। সেই ট্র্যাইব্যুনালে যেসব নাম যাবে এবং তার কবে নিষ্পত্তি হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এ বিষয়ে যথেষ্ট খারাপ উদাহরণ হিসেবে আসামের নাম করাই যায়। এ রাজ্যেও ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ কতদূর এগিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাইব্যুনালে কারা আবেদন করতে পারবেন, তার পদ্ধতি কী হবে তাও স্পষ্ট নয়। ট্রাইব্যুনাল গঠন না করে কীভাবে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে তাও স্পষ্ট নয়। পুরো প্রক্রিয়াটাই বিশ বাঁও জলে। অর্থাৎ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যতই বলুন, একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না তা কতদূর মানা হবে তাও স্পষ্ট নয়।

অতএব - যা কাম্য ছিলো না

গণতন্ত্রে ভোটাধিকার কোনও দয়া বা প্রশাসনিক অনুগ্রহ নয়। নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার প্রমাণ করার দায় যদি বারবার সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে - এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য কি সত্যিই ভোটার তালিকা নির্ভুল করা, নাকি অনিশ্চয়তা তৈরি করে নাগরিকদের এক অংশকে ক্রমশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া? কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নাগরিকের অধিকার - দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন সেই প্রক্রিয়াই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং সন্দেহ তৈরি করে, তখন তা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি থাকে না; তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। তাই ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা বানান ভুলের তর্কে আটকে না থেকে আমাদের ফিরে তাকানো দরকার মূল প্রশ্নগুলোর দিকে - নাগরিক অধিকার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার দিকে। কারণ, রাজনীতি যতই হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করা হোক, তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে সাধারণ মানুষের রুটি, রুজি এবং ভোটাধিকারেই।