আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা ● ১৬-৩১ মার্চ, ২০২৬ ● ১-১৫ চৈত্র, ১৪৩২

প্রবন্ধ

প্রহেলিকার নাম নীতীশ কুমার

গৌতম হোড়


বাচ্চাটার বয়স মাস দুই-তিন হবে। দুই পা ছড়িয়ে তার উপর বাচ্চাটিকে রেখে সুর করে কথাগুলো বলছিলেন গীতা দেবী। 'আমাদের বাপ-ঠাকুরদাও দেখতে পায়নি, আমরাও পাব না, দ্যাখ তুই যদি দেখতে পাস, ওরে আমার বাবু রে, তুইও দেখতে পাবি কিনা তা অবশ্য আমি জানি না।'

নাতনি তাকিয়ে আছে তার ঠাকুমার দিকে। মাঝে মধ্যে আপনমনে হাসছে, ওই বয়সের বাচ্চারা যেমন হাসে, হাসতেই থাকে। গীতা দেবীও হাসতে হাসতে সুর করে কথাগুলো বলছেন ঠিকই, কিন্তু তার মধ্যে জমা হয়েছি্ল একরাশ কষ্ট, বিরক্তি। না পাওয়ার কষ্ট। নিজের বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া ছোট একটা দোকান আছে গীতা দেবীর। তার সামনেই খাটিয়ায় বসে ছড়া বলার মতো করে এই কথাগুলো বলছিলেন তিনি।

কী দেখতে পাননি তাঁরা বা তাঁদের বাবা-দাদারা? একটা পিচের বা সিমেন্টের রাস্তা। গ্রামের ভিতর দিয়ে যা চলে যাবে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র উপায় হিসাবে। এখন যা আছে, তাকে রাস্তা বলা যাবে না। এবড়ো-খেবড়ো পথ। ধুলোময়, পাথর উঠে থাকা পথ। বৃষ্টি পড়লে সেখান দিয়ে যাওয়ার থেকে কষ্টকর কাজ আর নেই। গাড়িতে গেলে এতটাই ঝাঁকুনি লাগে যে মনে হয় কোমর বা ঘাড়ে ব্যথা অনিবার্য। মোটর সাইকেল বা স্কুটারে গেলে পড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। অথচ, শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এই পথ দিয়েই তো তাদের যেতে হয়। এক কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে টিউবওয়েল থেকে জল আনতে হয় তাদের। সেই জলের কাছে পৌঁছাতে নীচে নামতে হয়। জল ভরতি বালতি, ঘড়া নিয়ে উঠতে হয়। বাইরে কোথাও যেতে হলেও তো ভরসা এই পথটুকু।

এই জায়গার নাম দোন। বিহারের বাল্মীকি অভয়ারণ্যের পাশে দোন এলাকায় ঢোকার মুখে পথের ধারে বড় পোস্টার লাগানো। সেখানে লেখা রয়েছে,' দোনবাসীকা ইয়ে পুকার/ আবকি বার ভোট বহিস্কার'। তার নীচে লেখা, 'রোড নেহি তো ভোট নেহি, পুল নেহি তো ভোট নেহি, বিজলি নেহি তো ভোট নেহি, স্বাস্থ্য সুবিধা নেহি তো ভোট নেহি, সঞ্চার নেহি তো ভোট নেহি, শিক্ষা নেহি তো ভোট নেহি'। একেবারে তলায় লেখা, দোন অঞ্চলের সকল গ্রামবাসী। তাদের অভিজ্ঞতা বলছে, ভোট এলে রাস্তায় মাটির আস্তরণ পড়ে। প্রচারে আসেন ভোটবাবুরা। ভোটের পর সেই মাটির আস্তরণ চলে যায় এবং আবার পাথর বিছানো রাস্তা ফিরে পান দোনবাসীরা।

তাঁর নিকানো দাওয়ায় বসে ধর্মেন্দ্র কুমার বলছিলেন, 'প্রতিবার নেতারা প্রতিশ্রুতি দেন, সব হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ হবে, রাস্তা হবে, জলের ব্যবস্থা হবে, সেতু হবে। তারপর ভোট চলে গেলে যে কে সেই। আমি তো ১৫ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। প্রতিবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখছি। ভোট শেষ হলে ওরা সব ভুলে যান। এদিকে আসেনও না। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভোট দেব না। যখন কোনও সুবিধাই নেই, তখন ভোট দেব কেন'? ধর্মেন্দ্রর যুক্তিটা সম্ভবত এরকম, তারা ভোট দেন সরকার গঠনের জন্য। সরকারের কাজ হল, এই ন্যূনতম সুবিধা দেওয়া। সেই সুবিধাই বছরের পর বছর তারা পাচ্ছেন না, তাই ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত।

বলা যেতে পারে, এ হলো অহিংস অসহযোগের পথ। মনে পড়ে গেল, একদিন আগেই মতিহারিতে দেখে এসেছি, সেই স্থান, যেখানে গান্ধীজি ভারতে প্রথমবার অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। নীল চাষীদের স্বার্থে। যে জায়গায় গান্ধীজিকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য বিচার করেছিল ব্রিটিশ আমলের আদালত, গান্ধীজি যেখানে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই জায়গাটিতে তৈরি হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। নন্দলাল বসুর পরিকল্পনায়। গোটা জায়গাটা জুড়ে তৈরি হয়েছে গান্ধী স্মৃতি স্মারক। সেখান থেকে এই দোনের দূরত্ব তো মাত্র দেড়শ কিলোমিটার। সচেতনভাবে নয় হয়ত, কিন্তু সেই মানুষটির পথেই হেঁটেছেন দোনবাসীরা। ধর্মেন্দ্র বলছিলেন, 'বহুবার বলেছি আমরা। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। কী করব? কেউ যখন শুনছে না। তখন এই পথ নিতে হল।'

যে জায়গায় গীতা দেবীর গ্রাম সেটা বিহারের বেতিয়া থেকে ঘণ্টা দুয়েক গিয়ে বাল্মীকি অভয়ারণ্যের পাশে। এক আধটা নয়, অনেকখানি এলাকা জুড়ে ২২টি মৌজার ৩০ হাজার মানুষের এই অবস্থা। এখানে যাঁরা থাকেন, তাঁরা মূলত ওরাঁও জনজাতির মানুষ। কী অসম্ভব সুন্দর জায়গাটা। দুপাশে জঙ্গল। মাঝখান দিয়ে পথ চলে গেছে। কোনোদিন তাতে পিচের আস্তরণ ছিল হয়ত, এখন শুধুই মাটি, পাথরের রাস্তা। সেই রাস্তা নেমে গেছে নদীর মধ্যে দিয়ে। নদীতে কোথাও অল্প, কোথাও কিছুটা বেশি জল। সেই জল বাঁচিয়ে দুলতে দুলতে গাড়ি বা দ্বিচক্রযানে করে যাতায়াত। এই নদী পেরিয়ে আরও কিছুটা পথ অতিক্রম করে পৌঁছাতে হয় গীতা দেবীদের গ্রামে। কোনও অসুস্থ মানুষকে এই রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। গ্রামবাসীরা যা বলছিলেন, তা হল, তারা ভগবান ভরসায় থাকেন।

২০২৫ সালের বিধানসভা ভোটের সময় এই ২২টা গ্রাম এককাট্টা হয়ে ঘোষণা করেছিল, তারা ভোট বয়কট করেছে। ভোট প্রচারের কোনো গাড়িকে তারা ঢুকতে দেবে না। তারা চায় আগে রাস্তা, জল, বিদ্যুৎ আসুক, তারপর তারা ভোট দেবেন। জীবনযাপনের এই অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস না পেলে তারা কিছুতেই ভোট দেবেন না।

আমাদের সামনেই একটা গাড়ি প্রচারের জন্য এল। গ্রামবাসীরা তার সামনে হাতজোড় করে বললেন, ফিরে যান। আমরা এবার ভোট দেব না। ফলে প্রচারের কোনও দরকার নেই। গাড়িতে বসে থাকা প্রচারকারীরা কোনও কথা না বাড়িয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল। সে দিকে উদাসভাবে চেয়ে থাকলেন গীতা দেবী। তারপর আবার সেই কথাগুলো বলে নাতনিকে ঘুম পাড়াতে থাকলেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, তারা প্রশাসনের সর্বস্তরে জানিয়েছেন তাদের এই দাবি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। তাঁদের ওখানে কোনো বড় নেতা আসেন না, প্রশাসনের কর্তাদের নজর পড়ে না। ২২টি গ্রামের মূলত জনজাতি মানুষরা তাই মরিয়া হয়ে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদি তাদের সমস্যার কথা কর্তাব্যক্তিদের কানে যায়।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে বলা হয় সুশাসনবাবু। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের, জোট বদলের যত অভিযোগই থাকুক না কেন, সাধারণ মানুষের কাছে তিনি সুশাসনবাবুই। এমনকী যে জায়গার কথা বলছি্, সেই বাল্মীকি অভয়ারণ্যের পাশের গ্রামগুলির মানুষেরও নেই। তারা জল, বিদ্যুৎ, রাস্তার দাবিতে ভোট বয়কট করছেন ঠিকই, কিন্তু নীতীশ সম্পর্কে তাঁরা যথেষ্ট শ্রদ্ধাবান। গীতার গ্রাম, তার পাশের গ্রামের মহিলারা জানিয়েছিলেন, ভোট দেওয়ার হলে তাঁরা নীতীশকেই দিতেন। কারণ, একে তো নীতিশ সাফ-সুতরা ভালো রাজনীতিক, তার উপরে ভোটের আগে সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করবেন। কেউ দোকান দেবেন, কেউ ঝাড়ু ও ঝুড়ির ব্যবসা করবেন, কেউ বা অন্যকিছুর ব্যবসা। তাই রাস্তা, জল, বিদ্যুৎ নিয়ে যত অভিযোগই থাক না কেন, যতই ভোট বয়কট করা হোক না কেন, নীতীশের ছবি তাদের কাছে অমলিন। এই নীতীশই তো ভোটের কয়েক মাস আগে ঘোষণা করেন, বিহারে ১ কোটি ৬৭ লাখ পরিবারকে তিনি ১২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রতিমাসে বিনা পয়সায় দেবেন। যে নীতীশ এতগুলি পরিবারকে বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ দিতে পারেন, সেই তিনিই কিনা দোন অঞ্চলের ৩০ হাজার মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারেন না! হয়ত তাঁর কাছে এই খবর প্রশাসন ও দল মারফৎ পৌঁছায়নি। ভোট বয়কটের খবর নিঃসন্দেহে পৌঁছে গিয়েছে। এবার কি তিনি জল, বিদ্যুৎ, রাস্তা পৌঁছে দেবেন এই জনজাতি মানুষের বসতিতে। একেবারে প্রান্তিক জনজাতি মানুষের দাবি কি পূরণ হবে?

আসলে এই বৈপরীত্য নিয়েই তো চলছে ভারতের রাজনীতি। আর সেই রাজনীতিতে নীতীশ কুমার হল এক প্রহেলিকার নাম। ২০০০ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে নীতীশ দশবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। অধিকাংশ সময়ে বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে, তার পাশাপাশি দুবার আরজেডি, কংগ্রেস, বামেদের মহাজোটের সঙ্গে। রাতারাতি জোটবদল করেছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই থেকে গেছেন। আবার লোকসভা নির্বাচনে দল খারাপ ফল করেছে বলে নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে ইস্তফা দিয়ে অতি-অনগ্রসর জিতন রাম মাঁঝিকে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। তারপর আবার বিধানসভা ভোটে জিতে নিজে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি এতদিন ধরে বিজেপি-র সঙ্গে থেকেও মহাজোটের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন, তাতে তাঁর ও মহাজোট কারও কোনও অসুবিধা হয় না। আবার সেখান থেকে বেরিয়ে বিজেপি-র সঙ্গে যোগ দিতে পারেন, তাতেও তাঁর ও বিজেপি-র কোনও অসুবিধা হয় না। যারা সড়ক, বিজলি, পানির দাবিতে ভোট বয়কট করছেন তাঁদেরও নীতীশ কুমার সম্পর্কে কোনও অভিযোগ নেই। একাধিক জনজাতি মহিলা জানিয়েছিলেন, বয়কটের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে এবার ভোট দেবেন না, তবে ভোট দিলে সেটা নীতীশকেই দিতেন। রাজনীতিতে পারসেপশন বা ধারণাটাই তো বড় কথা। সেখানে তিনি রাজনৈতিকভাবে যাই করুন না কেন, নীতীশ সম্পর্কে মানুষের ধারণাটা তাতে বদলায় না। তার কারণও আছে। নীতীশ এখনও পর্যন্ত তাঁর পরিবারের কাউকে রাজনীতিতে আসতে দেননি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আইন-শৃঙ্খলার সমস্যার কড়া হাতে মোকাবিলা করেছেন, স্কুল শিক্ষকদের নিয়োগ করেছেন(কোনওরকম বেনিয়মের অভিযোগ ছাড়া), মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার জন্য সাইকেল দিয়েছেন, গরিবদের পেনশনের পরিমাণ বাড়িয়েছেন, সমবায়ের সঙ্গে জড়িত মেয়েদের দশ হাজার টাকা দিয়েছেন নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য। ব্যবসা শুরু হলে আরও দশ হাজার দেবেন বলেছেন, বিহারের রাস্তাঘাট আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।

সেই নীতীশ কুমার এখন এমন একটা ঘোষণা করেছেন, যাতে তাঁকে ঘিরে থাকা প্রহেলিকা আরও বেড়েছে। সেটা হলো, তিনি ঘোষণা করেছেন, তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। রাজনৈতিক জীবনের প্রথম থেকে তিনি চেয়েছেন, সংসদের দুই কক্ষের সদস্য হতে। রাজ্যসভার সদস্য হননি। তাই জীবনের সেই ইচ্ছেপূরণ করবেন। সার কথা, বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হবেন। ভারতের যে কোনও রাজনীতিককে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ও রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার মধ্যে একটাকে বেছে নিতে বললে, তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব বাছবেন। এই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য নীতীশ কুমার একাধি্কবার জোট বদল করেছেন। তিনি যদি বলতেন, বিহারে মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ড করে ফেলেছেন, দশবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, ফলে তিনি এবার অবসর নিচ্ছেন, তাহলে বোঝা যেত। কিন্তু রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিচ্ছেন, এই যুক্তি কি ধোপে টেকে? ওই যে প্রহেলিকার নাম নীতীশ কুমার। তিনি কখন কী করবেন তা কেউ জানে না। কেন করছেন, সেটাও পরে বোঝা যায়।

তবে এবারও ভোটের সময় বিহারে গিয়ে দেখেছি, নীতীশ কুমার এমনই এক চরিত্র বিরোধীরাও যাঁর বিরুদ্ধে সেভাবে আক্রমণ শানাতে পারেন না। বিজেপি-র সঙ্গে হাত মেলানোর পরেও সাধারণ মানুষের ধারণা হলো, তিনি বিজেপি-কে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং নিজের কর্মসূচি পালন করছেন। আর তিনি সততার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রিত্ব চালান। এই ধারণাই তো নীতীশের শক্তি। না হলে জাতপাতের বিহারে কুর্মি নেতা হয়েও তিনি এতদিন ধরে ক্ষমতা ধরে রাখলেন কী করে? এই নীতীশই তো আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া রাজ্য বিহারে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করে দেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করে দেবেন। কারণ, মদ খেয়ে গার্হস্থ হিংসা ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে গেছে, গরিব মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে এবং গরিবরা মদের পিছনে অযথা টাকা খরচ করছে। ক্ষমতায় এসে রাজস্ব হারানোর তোয়াক্কা না করে সেই কাজ তিনি করেছেন। ফলে মেয়েরা বিশেষ করে বিহারের গ্রামের মেয়েরা আন্তরিকভাবে নীতিশকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। মেয়েরা পড়লে নীতীশ তাদের সাইকেল দিয়েছেন, স্বনিযুক্তির জন্য অর্থ দিয়েছেন, পেনশনের পরিমাণ বাড়িয়েছেন, এর ফলে মেয়েদের ভোট তিনি ঢালাও পেয়েছেন। নীতীশ ছিলেন কুর্মি নেতা। বিহারের জনসংখ্যায় কুর্মিরা তিন শতাংশও নয়। কিন্তু নীতীশ মহিলা, অনগ্রসর, অতি অনগ্রসরদের ভোট নিজের দিকে নিয়ে আসতে পেরেছেন বলে সাফল্য পেয়েছেন।

এহেন নীতীশ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষভাগে এসে আরেকটা চমক দিয়েছেন। এই চমক দিয়ে তিনি কোথায় যেতে চান, তা দেখার জন্য আগামী দিনগুলির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এটাও দেখতে হবে, গীতা দেবী, তাঁর নাতনি রাস্তা, জল, বিদ্যুতের মুখ দেখেন কিনা!