আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা ● ১-১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ● ১৬-৩০ মাঘ, ১৪৩২

প্রবন্ধ

ইরান - ক্রোধ যা রক্তের স্বাদ দেয়

মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়


অন্ধকারে আমি তোমার নাম ধরে ডাকলাম। সবকিছু নীরব ছিল এবং বাতাস পর্দাগুলো সরিয়ে দিচ্ছিল।
মৃদু আকাশে
একটি তারা জ্বলছিল,
একটি তারা চলে যাচ্ছিল,
একটি তারা মরে যাচ্ছিল।

- 'অন্ধকারে', ইরানের বিখ্যাত নারী কবি ফরগ ফারুখজাদ (ইংরেজি থেকে অনুবাদ বর্তমান লেখকের)

সারা ইরান জুড়ে আলো নিভে যায়, বাতাস স্তব্ধ হয়ে যায়। তরুণ তারারা প্রস্ফুটিত হবার আগেই অন্ধকারে ডুবে যায়। এক তারা, দুই তারা, সহস্র সহস্র তারা। অগণিত রক্তে রাঙা তারা।

বারবার, প্রতিবার।

সেবারে শুরুটা হয়েছিল ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাসা আমিনী জেনির মৃত্যুর পরে। মনে আছে সেই ইরানি তরুণী মাসা আমিনী জেনির কথা? চার বছর তো কম কথা নয়! চলমান পৃথিবী, গতিশীল জীবন। ২২ বছর-বয়সী আমিনী ছিলেন একজন কুর্দি মুসলিম। নিজের রাজ্য কুর্দিস্তান থেকে তেহরান শহরে ভাইয়ের সঙ্গে এসেছিলেন, মাথায় ছিল আলগা করে বাঁধা হিজাব, তার কয়েক গোছা চুল দেখা যাচ্ছিল। আমিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সে হিজাব ঠিকমতো পরেনি, সেই অপরাধে ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যেক্ষদর্শীদের বয়ান অনুসারে পুলিশের ভয়ঙ্কর অত্যাচারে তিন দিন পরে কারাগারে আমিনীর মৃত্যু হয়।

দু'কথাতে ইরানের আধুনিক ইতিহাস

ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী (শাসনকাল ১৯৪১-১৯৭৯) ছিলেন একজন পাশ্চাত্য-ঘনিষ্ঠ স্বৈরশাসক।

তবে ওই সময়ে মজলিস দ্বারা নির্বাচিত মোহাম্মদ মোসাদ্দেঘ ১৯৫১ থেকে মাত্র দুই বছরের জন্য ইরানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন; অবশ্য তিনি ততদিনই দেশের প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন যতদিন না ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য শলা করে। ক্ষমতা থেকে অপসারণের আগে মোহাম্মদ মোসাদ্দেঘ সরকার ইরানের খনিজ তেল শিল্পের জাতীয়করণ করতে চেয়েছিল, তার প্রশাসন ভূমি সংস্কার চালু করেছিল।

তেল বড়ো পিচ্ছিল বস্তু। তেলের জন্য ভেনিজুয়েলার প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করা যায়, সৌদি আরবে এক মৌলবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পাশ্চাত্য উদার গণতন্ত্র দশকের পর দশক ধরে সমর্থন করে। ইরানে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে স্বৈরতন্ত্রের কুক্ষিগত করতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়।

যাহোক, সেসব কুজনের কথা। মোদ্দা কথা, আমেরিকা ও ব্রিটিশ রাষ্ট্রশক্তি ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীকে ইরানের একচ্ছত্র ক্ষমতা দখলে সাহায্য করে৷ স্বৈরতান্ত্রিক রেজা পাহলভী ইরানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখল করবার পরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না, কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। ইরানের কমিউনিস্ট পার্টি ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়।অসন্তুষ্ট, অত্যাচারিত মানুষ একত্রিত হয়ে আবারও দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার পট পরিবর্তন করে।

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের প্রাক্কালে আয়াতোল্লা খোমেইনী ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইরানের শেষ রাজা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি দেশ ছেড়ে মিশরে আশ্রয় নেন। তখন ফ্রান্স থেকে ফিরে আসেন খোমেইনী। গোটা আন্দোলন সংগ্রামে রাশিয়াপন্থী বামগোষ্ঠী ইরানের তুদে পার্টি খোমেইনীকে সমর্থন করেছে এবং বিপ্লবের পক্ষে থেকেছে। যে বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে একত্রিতভাবে খোমেইনী অনুসারীরা রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ করেছিল, বিপ্লব পরবর্তী সময়ে তাদেরই ধ্বংস করতে রাষ্ট্রশক্তিকে চূড়ান্তভাবে ব্যবহার করা হয়।

১৯৮২ সাল থেকে তুদে পার্টিকে ইরানে আবারও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপরে অধিকাংশ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে, হাজার হাজার পার্টি সদস্য ও সমর্থককে আটক করে তুদে পার্টিকে বিনাশ করার সমস্ত প্রচেষ্টা নিয়েছে খোমেইনী সরকার।

ইসলামি বিপ্লবের পরে - আশাতীত হতাশা থেকে তীব্র ক্রোধ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খোমেইনী ছাড়া সব রাষ্ট্রপ্রধানকেই কোনো না কোনো ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। হয় ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের হঠাৎ করে মৃত্যু হয়েছে অথবা কারাবাসে যেতে হয়েছে, কেউবা দেশছাড়া হয়েছেন।

তবে ইরানের মানুষকে দমিয়ে রাখা অত সহজ নয়। এই দেশের সঙ্গে চারপাশের অন্য দেশগুলির ঠিক তুলনা চলে না। ইরানের সাক্ষরতার হার বেশ ভালো, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষর। ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের সংখ্যাও বেশ বেশি। তবে একই সঙ্গে এই দেশে সামগ্রিক মানব উন্নয়ন সূচক খুবই নিচে। নাগরিকরা হতাশ হয়েছেন, তাদের স্বাধীনতা ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়েছে, নারীরা অবদমিত। তারা এই মৌলবাদী ব্যবস্থাকে মেনে নিতে পারছেন না। বারবার তারা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন।

এই তো ২০২২ সালের কথা। মাসা আমিনীর প্রতি রাষ্ট্রের নির্মমতায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলে দলে নারীরা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, পাশে ছিলেন তরুণরা। মাসা আমিনী তখন শুধু রাষ্ট্রের হাতে খুন হওয়া এক কুর্দি নারীর প্রতীক ছিলেন না তিনি সারা দেশের স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

রাষ্ট্র তাদের দমন করেছে, কয়েকশ তরুণ তরুণীকে খুন করে, কয়েক হাজার প্রতিবাদীকে কারাগারে আটক করে তখনকার মতো মুখ বন্ধ করা গেছিল। তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। গত ১৭ বছর ধরে ইরানিরা তাদের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে বারবার রাস্তায় নেমেছেন। বছরের পর বছর ধরে প্রতিবাদের প্রতিটি তরঙ্গ - ২০০৯, ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ - স্বৈরাচারী সরকারের বৈধতার একেকটি স্তর ছিনিয়ে নিয়েছে।

কিন্তু এই বছরের শুরুতে যে বিশাল বিক্ষোভগুলি দেখা গেল তার মতো বড়ো বিক্ষোভ আগে দেখা যায়নি; অবশ্য পূর্ববর্তী সময়ের মতো, নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গা-পুলিশ নিজ দেশের নাগরিকের উপরে গুলি ব্যবহার করে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

আবারও জান কবুল ইরানের মানুষ

ইরানের মুদ্রার তীব্র পতনের পরে, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, প্রয়োজনীয় পরিষেবার রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাত্রার অবনতির চূড়ান্ত পর্যায়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। আজকে ১ মার্কিন ডলার প্রতি ইরানি রিয়াল হল ৪২১২৫। রিয়ালের তীব্র পতনের পরে বিক্ষোভ শুরু হয়, তেহরানের 'গ্র্যান্ড বাজার'-এর দোকানদাররা দোকান বন্ধ করেন। খুব দ্রুত আরও বেশি মানুষ তাতে যোগ দেন - বিক্ষোভগুলি দেশব্যাপী গণ-রাস্তা প্রতিবাদে পরিণত হয়।

ইরানের বর্তমান বিক্ষোভের ঢেউ শুধুই কি মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি এবং দমন-পীড়নের কারণে হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা যায়? এই ব্যাখ্যাগুলি ভুল নয় - তবে এগুলি অসম্পূর্ণ। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের নীচে আরও অস্থিতিশীল শক্তি রয়েছে যা এখনও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে অনুপস্থিত: পরিবেশগত ভাঙ্গন। ইরান একটিমাত্র পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন নয় বরং বেশ কয়েকটি পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে - রয়েছে পানীয় জলের অভাব, ভূমির ক্ষয়, বায়ু দূষণ, জ্বালানি ব্যর্থতা। এই সব মিলিয়ে দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাই আজ যখন নাগরিকরা প্রতিবাদ করছেন তখন তারা কেবল কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ করছেন না, তারা এমন একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছেন যা তাকে বেঁচে থাকার মৌলিক বিষয়গুলিকে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পান করার জন্য জল নেই, শ্বাস নেওয়ার জন্য বাতাস নেই, দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য বিদ্যুৎ নেই ।

বিক্ষোভ বাড়ার সাথে সাথে অর্থনৈতিক দাবিগুলিতে তা থেমে থাকে না, বৃহত্তর দাবি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থার অবসানের দাবিতে পরিবর্তিত হয়। দেশব্যাপী এক ভাঙন - এর মাত্রা এবং পরিণতি এখন এমন জায়গায় গেছে যে পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ফিরে আসা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

লন্ডনে অবস্থিত 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল' অনুযায়ী বিক্ষোভ শুরুর এক মাস পরে, ৪০০টিরও বেশি শহরে, ৪,০০০ পৃথক স্থানে সংঘর্ষ এবং দমন-পীড়নে কমপক্ষে ৩৬,৫০০ জন নিহত হয়েছেন। এ কোনো অলীক সংখ্যা নয়৷ স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বর্তমান বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ৩০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা 'টাইম ম্যাগাজিন'-কে বলেছেন, শুধুমাত্র ৮ এবং ৯ জানুয়ারী ইরানের রাস্তায় ৩০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, সম্ভবত বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। শবদেহ ধারনের বস্তা নিঃশেষিত।

আন্দোলনের এই তীব্রতা সারা পৃথিবীর আধুনিক ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ।

মানুষের দাবি ও ভূরাজনৈতিক অবস্থা

বিক্ষোভকারীরা মৌলিক পরিবর্তন চাইছেন; জনগণের মানবাধিকার এবং মর্যাদাকে সম্মান করে এমন এক নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রূপান্তরের দাবি করছেন। তবে এখানে কিছু কথা আছে। ইরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমেরিকার রয়েছে তীব্র বিরোধ। এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট মুহুর্মুহ হুমকি দিচ্ছেন ইরান দেশে সৈন্য পাঠিয়ে আয়াতোল্লা আলী খোমেইনীকে অপসারণ করবার। এই অবস্থায় পৃথিবীর গণতান্ত্রিক শক্তি সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধান্বিত।

ইরানের তুদে পার্টি দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভকে ক্ষমতাসীন ধর্মীয় মৌলবাদী শাসনের বিরুদ্ধে 'বৈধ এবং জনপ্রিয় বিদ্রোহ' হিসেবে দেখছে। তারা এই আন্দোলনকে দারিদ্র্য, দুর্নীতি এবং স্বাধীনতা দমন সহ গুরুতর অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংকটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা একে আখ্যা দিয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের 'অপরাধমূলক' এবং 'জনবিরোধী' হিসেবে৷ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তারা নৃশংস দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে - হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হচ্ছে। তুদে পার্টি যেমন ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

তারা ইতিহাসের পুনরাবৃত্ত করতে রাজি নন। এই শক্তিগুলি আগেও আন্দোলনকে 'হাইজ্যাক' করে, তাদের নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করেছে, নিজেদের পছন্দের শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমেরিকা তার লেজুড় পুরোনো রাজতন্ত্রকেই আবারও প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে। রাজতন্ত্র ইরানের জনগণের সেবা করবে না। দেশ আবারও ফিরে যাবে ইসলামিক বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ে।

তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে একটি 'জাতীয়-গণতান্ত্রিক' সরকার গঠনের পক্ষে ডাক দিয়েছে যারা রাষ্ট্র থেকে ধর্মের বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করবে, মানবাধিকার রক্ষা করবে এবং অ-নব্য উদারনৈতিক অর্থনৈতিক নৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

তবে তাদের শক্তি খুবই সীমিত। এদিকে জনগণ অতিষ্ঠ, উৎপীড়ক শাসক সহস্র সহস্র প্রতিবাদী জনগণের রক্তে হাত রাঙিয়েছে।

এইভাবেই কি রক্তরাঙা ইরানের তারারা তমসাচ্ছন্ন আকাশে নিভে যাবে? ভবিষ্যৎ নিয়ে গল্প রচনা করি না, শুধু আশা রাখি, একদিন সত্যের জয় হবে।

একদিন সূর্যের ভোর
একদিন স্বপ্নের ভোর
একদিন সত্যের ভোর আসবে...
এই মনে আছে বিশ্বাস
আমরা করি বিশ্বাস।
সত্যের ভোর আসবে একদিন।