আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ প্রথম সংখ্যা ● ১-১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ● ১৬-২৯ পৌষ, ১৪৩২

প্রবন্ধ

অনিরুদ্ধ লাহিড়ী এবং ইন্দ্রদাকে যেমন দেখেছি

অরিন্দম দাশগুপ্ত


[লেখক অনিরুদ্ধ লাহিড়ীর একটি গ্রন্থ প্রকাশ উপলক্ষ্যে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। সেই রোমন্থনে 'সুবর্ণরেখা'র ইন্দ্রনাথ মজুমদার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।]

আজকে যাঁর বইয়ের মোড়ক খোলা হবে বলে আমরা এখানে হাজির হয়েছি তাঁর পোশাকি নাম অনিরুদ্ধ লাহিড়ী আর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছে চাঁদ। তাই তিনি কারো চাঁদদা, চাঁদমামা বা স্রেফ চাঁদ। আজকে উপযুক্ত হতো যদি তাঁর কোনো বন্ধু বা ছাত্র তাঁকে নিয়ে কিছু বলতেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুবর্গের বেশিরভাগই গত হয়েছেন, যাঁরা জীবিত তাঁরা এতই ওজনদার যে নির্ঝরের মতো প্রকাশকের পক্ষে তাঁদের নাগাল পাওয়াটা সময়সাপেক্ষ। বাকিরা অনেকেই পূর্বস্মৃতি রোমন্থন করতে নারাজ। অতএব তাঁকে যে সব থেকে কম জানে ও চেনে সেই আমার উপর কিছু বলার জন্য গুরুদায়িত্বটা চাপিয়ে দিলেন শ্রী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। আমার প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রাজি হলাম একটা কথা ভেবে যে, অনিরুদ্ধ লাহিড়ীর ছড়িয়ে থাকা লেখাগুলোকে বই করার এই পরিকল্পনাকে আমি সমর্থন করি। আজকের দিনে কিছু ফেসবুক ওয়ারিয়ারদের মতো শুধু লাইক ডিসলাইকে নিজেকে আটকে না রেখে ময়দানে নেমে সমর্থন দেখানোটা অনেক জরুরি।


অনিরুদ্ধ লাহিড়ী

অনিরুদ্ধবাবুর পরিচয় তিনি বিদগ্ধ চিন্তক, সুরসিক এবং সুরারসিক। সমাজের যে উচ্চ কোটির মানুষ-জনের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা তাঁরা আমাদের নমস্য। তাঁদের বৈঠকে আমি হাজির থাকব এমন ভাবনা আমি দুঃস্বপ্নেও দেখিনি। তিনি যে রসের রসিক ছিলেন তাতেও আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমার মতো চিরকালের ব্যাকবেঞ্চার তাঁর বৈদগ্ধের টানে কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবে এমনটাও হওয়ার নয়। তাহলে সওয়াল ওঠা স্বাভাবিক কী করে আমি তাঁকে চিনলাম। অনিরুদ্ধবাবু ও আমার একটা সাধারণ যোগসূত্র ছিল, তা হল 'সুবর্ণরেখা'র ইন্দ্রদা। প্রথম দিকে তাঁকে খুব একটা দোকানে আসতে দেখিনি; কারণটা পরে জেনেছিলাম। মাঝেমধ্যে তিনি আসতেন ঠিকই তবে সেটা 'অনুষ্টুপ'-এ লেখা জমা দিতে বা অন্য কোনো কাজে। ইন্দ্রদার ছিল তাঁর প্রতি অসম্ভব টান। দেখামাত্র বলে উঠতেন, "আরে চাঁদ! এসো এসো, কষ্ট করে সিঁড়ি ভাঙলে কেন, আমাকেই ডাকতে পারতে।" একবার কলকাতায় এসেছেন সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর কাছ থেকে আমার জানার ছিল কয়েকটি বিষয়, আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল, সময় হল দোকান বন্ধ করার। ইন্দ্রদা বললেন, তুমি চলো আমাদের সঙ্গে বসে কথা বলে নেবে। গন্তব্য প্রেস ক্লাব। সেই আমার প্রেস ক্লাবে প্রথম ও শেষ যাওয়া। প্রেস ক্লাবে ইন্দ্রদারা সান্ধ্য আহ্ণিক শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পরে হাজির হলেন অনিরুদ্ধবাবু কয়েকজন বন্ধু পরিবৃত হয়ে। ইন্দ্রদা তো "চাঁদ, চাঁদ" বলে উঠে দাঁড়ালেন৷ তারপর শুরু হল এমন একটা কাণ্ড যা দেখার জন্য আমি অন্তত তৈরি ছিলাম না। ইন্দ্রদা তাঁর স্নেহভাজন চাঁদের বুক পকেটে টাকা গুঁজে দেবেনই আর তিনি "আজ আছে, আজ আছে" বলে ছিটকে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই নাটকের অবসান হল, ইন্দ্রদা বসতে বসতে স্বগোতক্তি করলেন, "চাঁদটা যে আজকাল কাদের সঙ্গে মেশে!" আসলে তাঁর উদ্বেগ ছিল টাকার অভাবে যেন অনিরুদ্ধবাবুর সন্ধ্যা আসর পণ্ড না হয়।

ইন্দ্রদার মুখেই শুনেছিলাম তাঁর স্নেহের চাঁদের আরেক কিসসা। অনিরুদ্ধবাবু তখন আর স্কুলে পড়ান না, রোজগারের উৎস ছাত্র ঠেঙানো। কেউ তাঁকে বোঝালো, ইনকাম যখন করছেন তখন ট্যাক্স দেওয়াটা কর্তব্যর মধ্যে পড়ে। সেই শুনে তিনি হাজির হলেন ব্যাম্বু ভিলার আয়কর দপ্তরে। কোনো এক আধিকারিকের ঘরে সটান ঢুকে পড়ে জানতে চাইলেন, আমি তো আয় করছি আমাকে কি ট্যাক্স দিতে হবে? উল্টোদিক থেকে জানতে চাওয়া হল, আপনার আয়ের উৎস কী? জবাব মিলল, ছাত্র পড়ানো। ভিন রাজ্যবাসী আধিকারিক এরপর আর সামলাতে পারেননি, নিজের দেশোয়ালি লব্জে বলে ওঠেন, "ই কোন পাগল বা!" আসরের গল্পে তো কিছুটা বাড়তি কমতি থাকবেই, তা না হলে আর মৌতাত কিসের।

অনিরুদ্ধবাবুদের বেড়ে ওঠা যে কলকাতায় তখন সময়টা ছিল এমনই যাঁরা রাস্তার এধারে ওধারে চক্কর কেটে বেড়াতেন কিংবা কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথে বা কফি হাউসে আড্ডা জমাতেন তাঁরাই পরবর্তী জীবনে হয়ে উঠলেন এক একজন কেষ্ট বিষ্টু। আমরা এখন যাঁদের দেখলে সসম্ভ্রমে পিছিয়ে যাই, অনিরুদ্ধবাবুদের ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটা নয়। এঁরাই ছিলেন তাঁদের ইয়ার-দোস্ত। পরে বিখ্যাত হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পক্ষে আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা খালাসিটোলায় প্রকাশ্যে ঠেক মারাটা ছিল বে-মুনাসিব। ফলে আসরগুলো বসতে লাগল তাঁদের এক এক জনের বাড়িতে। সেখানকার টুকরো টাকরা খবর কোনোভাবে বাইরে এসে পড়লে আমাদের মতো নালায়েক, নাদানরা কেবল অবাক বিস্ময়ে সে সব গিলতাম।


ইন্দ্রনাথ মজুমদার

ইন্দ্রদার ভাই বিমল মজুমদার যিনি ছকা বলেও পরিচিত, ছিলেন HMV-র শিল্পী। নাম-ডাকও ছিল যথেষ্ট। সিনেমার টাইটেল কার্ড লেখার জন্য তাঁকে নামি দামী চিত্রপরিচালকরা অনুরোধ করতেন। তাঁর ভূমিকাটা স্রেফ ওতেই সীমাবদ্ধ থাকত না। 'সুবর্ণরেখা'র ম্যানেজার অমল গুপ্তর ভাইপো ছিলেন চিত্রপরিচালক গৌতম ঘোষের ইউনিটের হিসেব রক্ষক। পরিচালকের নির্দেশ থাকত, ছকাকে নিয়ে যাওয়াটাও খরচের মধ্যে ধরবেন। ছকা কোনো কারণে যেতে না পারলে সারা ইউনিটে হাহাকার পড়ে যেত! কী সেই কারণ! না শুটিং-এর পর ছকা না থাকলে কে জমাবে আসর, তাই ভরপুর মস্তির জন্য চাই ছকা। হয়তো ক্লান্ত ইউনিট সারাদিন কাজের পর ফিরে এসেছে। এখন তাদের চা-টা ইত্যাদি পান করার ও খাওয়ার সময়। দেখা গেল পানীয় আছে, কিন্তু খাদ্য নিঃশেষ। সবই শেষ করে রেখেছে ছকা। তারপর যে বাক্য আদান প্রদান হতো তাতেই গড়িয়ে যেত সন্ধ্যা। কিংবা ইউনিট ফিরেছে কোনো একজন অভিনেতাকে লক্ষ্য করে ছকা বলে উঠলেন, "কী হে ভিড় কুমার আজ কেমন হল!" অভিনেতা সমেত পুরো ইউনিট তখন এই সম্বোধনে হতবাক। তারপর ছকার মুখ থেকেই শোনা যেত এর ব্যাখ্যা। উত্তমকুমার তো সবাই হয় না, একটাই হয়, বাকিরা সবাই ভিড় কুমার, সিনেমায় ভিড়ের দৃশ্যের অভিনেতা। শোনা কথা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বা গৌতম ঘোষরাও নাকি শুটিং-র সময় আউটডোরে অনিরুদ্ধবাবুকে নিয়ে যেতেন। সেটা যে তিনি তাদের বন্ধু এই জন্য নয় কিংবা তাঁর তত্ত্বকথা শুনবেন বলে তেমনটাও তো মনে হয় না। আবার অনিরুদ্ধবাবু ছকাও নন। ফলে সন্ধ্যা আসরে তাঁরও একটা ভূমিকা অবশ্যই থাকত। কী সেই ভূমিকা বা কেমন তাঁর আসর জমানোর ক্ষমতা সেটা আমার কাছে অজানাই।

সাউথ পয়েন্ট স্কুলের শিক্ষক হওয়ার সুবাদেই কিনা জানি না অনিরুদ্ধবাবু ছিলেন কমলকুমার মজুমদারের ঘনিষ্ঠ ও স্নেহধন্য। কমলবাবুকে তিনি আরো অনেকের মতো গুরু মানতেন। সেই কমলকুমারকে নিয়েই তিনি এক বড়ো প্রবন্ধ ফেঁদেছিলেন 'অনুষ্টুপ' পত্রিকার জন্য। পত্রিকা প্রকাশিত হলে খোদ সম্পাদক অনিল আচার্য এক কপি নিয়ে হাজির হলেন ইন্দ্রদাকে উপহার দেবেন বলে। মুখে তাঁর তখন কেমন একটা কেল্লা ফতে হাসি। একটা বিশেষ জায়গা খুলে এগিয়ে দিলেন ইন্দ্রদার দিকে। ইন্দ্রদা মন দিয়ে লেখাটা পড়ে গম্ভীর হয়ে গেলেন, তারপর অনিল আচার্যকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "চাঁদটা যে কী করে!" পরে যখন প্রবন্ধটি পড়ি তখন দেখেছিলাম সেখানে খুব সম্ভব লেখা ছিল, কমলকুমারের সঙ্গে যাঁরা ঘুরতেন তাঁরা ছিলেন তাঁর পরিকর আর নির্মাল্য আচার্যের মতো যাঁরা সত্যজিৎ রায়কে ঘিরে থাকেন তাঁরা হলেন চামচা। অনেক পরে অনিরুদ্ধবাবুকে আমি আমার অপত্তির কথা জানিয়ে ছিলাম যা একান্তই আমার ব্যক্তিগত। আমি মনে করি কারো সম্পর্কে বিরূপ কিছু যদি বলতেই হয় তবে সেটা সামনাসামনি কেন নয়! অপর পক্ষেরও তো কিছু বলার থাকতে পারে। তাঁর দিক থেকে উপযুক্ত হতো যদি নির্মাল্যবাবু বেঁচে থাকতে এই লেখাটা লিখতেন, কারণ সেই সুযোগ তাঁর ছিল, আর নির্মাল্যবাবুর যদি এই বিষয়ে কিছু বলার থাকত তাহলে সেটাও সবাই জানতেন। জবাবে অনিরুদ্ধবাবু অনেক কথাই বলেছিলেন, যার থেকে জানতে পারি কেন তিনি 'সুবর্ণরেখা' যাওয়া ছেড়েছিলেন; কারণটা হল নির্মাল্যবাবুর উপস্থিতি।

ইন্দ্রদা মারা যাওয়ার পর সাময়িক পত্র-পত্রিকায় বেশ কিছু লেখাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। তখনই স্থির হয় তাঁকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখা হবে যার দায়িত্ব নেবেন অনিরুদ্ধ লাহিড়ী। আমি এই বিষয়ে কিছু তথ্য দিতে পারি কথাটা খুব সম্ভব অনিরুদ্ধবাবুর ঘনিষ্ঠ আলাপী বিমান সিংহ তাঁর কানে তোলেন। এরপর মুখোমুখি নয় ফোনে ফোনে দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা হয়েছে, কাজের কথার থেকে আড্ডাই বেশি। কথা বলে তাঁর হয়তো ভালো লেগেছিল; আমারও ভালোই লাগত। অনেক পরিকল্পনার মতো এটিও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। অনিরুদ্ধবাবু তারই খানিকটা সাজিয়ে গুছিয়ে ২০১৪ সালে 'চতুরঙ্গ' পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এতো আড্ডার পরেও তিনি ফস করে লিখে বসেন, আমি নাকি ছিলাম 'সুবর্ণরেখা'র কর্মচারি। কথাটা শুনে ভালো লাগেনি, মনে হয়েছিল এত কিছুর শেষে এই! 'হরপ্পা' পত্রিকার সম্পাদক সৈকত মুখোপাধ্যায় মাঝে মধ্যেই নানা কারণে অনিরুদ্ধবাবুর বাড়িতে যেতেন। তাঁকে আমি আমার উষ্মার কারণটা জানিয়েছিলাম। সৈকত সুযোগ পেতেই বাড়িয়ে চড়িয়ে সেটা তাঁর কানে তুলে দেয়। সৈকতের জবান মতো, তিনি নাকি জিব কেটে বলতে থাকেন, ভারি ভুল হয়ে গেছে, দাঁড়াও এখুনি ওকে ফোন করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, গোস্তাকি মাফ, ইত্যাদি ইত্যাদি। সৈকত এরপর তাঁকে ফোন করা থেকে বিরত করে, কতকটা আমাকে অস্বস্তির হাত থেকে বাঁচাতে আর কতকটা নিজের গালগল্প ফাঁস হয়ে গেলে বেইজ্জত হতে হবে সেই আশঙ্কায় তা আমি বলতে পারব না।

অনিরুদ্ধবাবুদের বেড়ে ওঠার সময়টাই ছিল এমন যে আজকের মতো কেউ তাঁরা খুব একটা ভবিষ্যতের ভাবনা নিয়ে ভাবিত হতেন না। কিছু একটা হবে এটাই ছিল কম বেশি তাঁদের মনোভাব। বাড়ির লোকেদেরও নিশ্চয় তাতে সায় ছিল। অনেকেই জীবনে সফল হয়েছেন, আবার অনেকেই হননি। সুভদ্র, অভিজাত অনিরুদ্ধ লাহিড়ী ছিলেন এই দ্বিতীয় দলের অর্ন্তভুক্ত। এর জন্য তিনি যে খুব কাতর ছিলেন তাও নয়। বয়স হয়ে যাওয়ায় আর্থিক নিরাপত্তার অভাব তাঁকে বিচলিত করত ঠিকই কিন্তু সেটা সাময়িক। যতটা পড়তেন তার ভগ্নাংশ মাত্র লেখায় প্রকাশ করেছেন। আমি যে তাঁর বাংলা লেখার খুব গুণমুগ্ধ ছিলাম তা বলতে পারব না। তাঁর খুব সাধারণ লেখার মধ্যেও তিনি এমন সব উদ্ধৃতি, অনুসঙ্গ ও তত্ত্বের অবতারণা করতেন যা ধরতে চাইলে সেই নিয়ে চর্চার প্রয়োজন পড়ে। আমার মতো যাদের সেই চর্চা নেই তাদের মাথার উপর দিয়ে যেত তাঁর বক্তব্য, ফলে মনে হতো এ বড়ো জটিল গদ্য। বাংলা বইয়ের এই মন্দার বাজারে অনিরুদ্ধবাবুর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লেখাগুলোকে দুই মলাটের মধ্যে নিয়ে আসার যে চেষ্টা 'নির্ঝর' সাহস দেখিয়ে করেছে এর জন্য অভিনন্দন। এই উদ্যোগটা না নিলে আর কিছুদিন পরে সে সবের সন্ধান পাওয়াটাই দুষ্কর হয়ে উঠবে। আসলে সফল মানুষদের কীর্তিকাহিনি সবাই মনে রাখে অনিরুদ্ধবাবুদের মনে রাখে ক'জন!

চিত্র: অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।