আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ প্রথম সংখ্যা ● ১-১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ● ১৬-২৯ পৌষ, ১৪৩২

প্রবন্ধ

পাপীজনশরণ প্রভু! ক্ষম হে মম দীনতা!

রঞ্জন রায়


ভূমিকা

যারা দেশের অর্থব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ধ্বসিয়ে দেবার চেষ্টা করে তাদের দেশদ্রোহী বলবেন কিনা ভেবে নিন। ধরুন, যারা সরকারি ব্যাংককে বোকা বানিয়ে বা সোজাসুজি ঠকিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে মৌজমস্তি করছে, বিলাসে ডুবে আছে, খেলার মাঠে দুই পরীকে বগলদাবা করে হাজির হয়ে আমাদের দেশের অর্থব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে তাদের কি ক্রিমিনাল মনে করবেন না?

তবে আগে তো তার টিকির নাগাল পান, তাদের হাতকড়ি পড়িয়ে এদেশে নিয়ে আসুন। কিন্তু তারা যদি অনুতপ্ত হয়, ক্ষমা চায়? তখন কী করবেন? অনুতাপে মানুষ শুদ্ধ হয়, পবিত্র হয়। আমাদের ট্র্যাডিশন আমাদের সংস্কৃতি কী বলে?

'ভালবাসো, অন্তর হতে বিদ্বেষ বিষ নাশো'।

এমনই একটি ক্ষমা চাওয়া এবং পাওয়ার কেস হল সন্দেসরা ভাইদের। নীতিন ও চেতন সন্দেসরা হলেন 'স্টারলিং বায়োটেক' লোন ফ্রডের নায়ক। ওদের পুরো পরিবার মিলেমিশে আমাদের দেশের কিছু ব্যাংককে ঠকিয়েছে। কত টাকা? ১৬,০০০ কোটি!

পলাতক সন্দেসরা পরিবার

গত ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে ব্যাংক ফ্রড করে বিদেশে পলাতক দুই ভাই, নীতিন ও চেতন সন্দেসরা বড়ো রকম সুবিধে পেয়েছে। এককালীন কিছু টাকা জমা করার কড়ারে ওদের ক্ষমা করে সমস্ত এফআইআর তুলে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে মহামান্য আদালত। সরকার পক্ষও সহমত।

ওরা কোথায়? ২০১৭ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারপর নাইজেরিয়াতে গেড়ে বসেছে। তদন্ত কে করেছে? ভারত সরকারের সিবিআই ও ইডি। সরকার মনে করে, এগুলো ক্রিমিনাল কৃত্য। তাই অনেকগুলো এফআইআর করা হয়েছিল। ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মানি লন্ডারিং (বে-আইনি ভাবে বিদেশে টাকা পাচার), বিদেশে 'শেল কোম্পানি' (নকল কোম্পানি) খোলা, বেনামি ফার্মের মাধ্যমে জালি লেনদেন দেখিয়ে ব্যাঙ্কের টাকার অপব্যয় করা। সেপ্টেম্বর ২০২০ নাগাদ ভারত সরকার ওদের আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা না করার অপরাধে 'পলাতক আর্থিক অপরাধী' (Fugitive Economic Offender) ঘোষণা করে।

লক্ষণীয় যে ২০১৮ সালের Fugitive Economic Offender আইন অনুসারে যাদের অমন দাগিয়ে দেওয়া হয়, তারা বা তাদের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কোম্পানি কোনো সিভিল আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দেওয়ানি মামলা করতে পারবে না এবং আদালতে আইনের সাহায্যে নিজেদের সমর্থনে কিছু করতে পারবে না। সন্দেসরা ভাইদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মামলা করা হয়। যেমন, PMLA, Fugitive Economic Offender Act, SFIO, Black Money Act, Income Tax আইনের বিভিন্ন ধারায়। কিন্তু তারা অনেকটা বকেয়া ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট শর্তে তাদের ক্ষমা করার এবং সব মামলা (দেওয়ানি এবং ফৌজদারি সিবিআই কোর্ট বা ইডি) তুলে নেবার আদেশ জারি করে।

গত ১৯ নভেম্বর, ২০২৫-এর রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলে, যদি অপরাধীরা এক থেকে ৫,১০০ কোটি টাকা জমা করে তবেই; নচেৎ নয়।

মাননীয় আদালতের যুক্তিঃ ওরা দুই দশক আগে ব্যাংকগুলো থেকে লোন নিয়ে মেরে দিয়েছিল ৫,৩৮৩ কোটি টাকা। যা ইডির মতে সুদে আসলে দাঁড়িয়েছে ১৬,০০০ কোটি টাকা। ইডি এরমধ্যে ওদের ১৪,৫২১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। (সমঝোতা হয়ে ওদের বিরুদ্ধে কেস উঠে গেলে এই সম্পত্তি ওদের ফেরত করে দেওয়া হবে)।

ইতিমধ্যে সন্দেসরা ভাইয়েরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে দরদাম করে চুক্তি করেছে যে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে এককালীন ৩,৮২৫ কোটি টাকা এবং বিদেশি জামিন থাকা কোম্পানিগুলোকে ২,৯৩৫ কোটি টাকা দিয়ে One Time Settlement করে ঝামেলা চুকিয়ে দেবে। মানে, ১৬,০০০ কোটি টাকা লোন ফ্রডের ফয়সালা হবে মোট ৬,৭৬১ কোটি টাকা দিয়ে। অর্থাৎ ব্যাড লোন মাফ করা হোল ৯,২৩৯ কোটি (=১৬০০০-৬৭৬১) টাকায়। তাহলে অত টাকা ডুবল কার? সরকারের, মানে নাগরিকদের।

ঠিক আছে। তবে ওই ৬,৭৬১ কোটি টাকার মধ্যে কত টাকা আদায় হয়েছে? আদালতের হিসেবে ৩,৫০৭.৬৩ কোটি টাকা। এছাড়া ওদের দেউলিয়া ঘোষণা করে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল-এর আদালতি পদক্ষেপে স্টারলিং বায়োটেক, স্টারলিং এসইজেড এবং পিএমটি মেশিন কোম্পানিগুলো থেকে মোট আদায় হয়েছে ১,১৯২ কোটি টাকা। অতএব, আদালতের হিসেবে সমঝোতা রাশির বকেয়া রয়েছে ২,০৬১.৩৭ কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্টে সরকারের সলিসিটর জেনারেল বলেন - সব মিলিয়ে অন্ততঃ ৫,১০০ কোটি টাকা জমা করলে তবে ঠিক হবে। (এতে আনুষঙ্গিক খরচা যোগ করা হয়ে থাকে)।

সরকার মনে করে সন্দেসরা পরিবার বহু বছর ধরে নাইজেরিয়া এবং আলবেনিয়ায় বসবাস করছে। ওদের বিষয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার (এক্সট্রাডিশন) আবেদন লটকে রয়েছে। ওদের বিদেশে গ্রেফতারের জন্যে জারি রেড কর্নার নোটিসও ঠান্ডা হয়ে যায় নি।

তবে সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলেছে দুটো কথা:

এক, অনাদায়ী পাবলিক মানি'র একটা বড়ো অংশ উদ্ধার হয়ে গেলে সরকারের কেস চালানোর কোনো মানে হয় না। তাই সমস্ত এফআইআর বাতিল করা হোক। সরকার আপত্তি করে নি।

দুই, তবে এই রায় একটি বিশেষ কেসে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে। একে উদ্ধৃত করে পরে কেউ অনুরূপ সুবিধে পাবে না।

কিন্তু, একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র ইডি অফিসার বলেছেন যে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন বটে, কিন্তু আর যারা পালিয়েছে তাদের উকিলেরা ঠিক রাস্তা বের করে নেবে।

অন্য পলাতকেরাঃ বর্তমান হাল-হকিকত

চারজন রাঘব বোয়ালের কথা বলা যাক।

বিজয় মালিয়া

স্টেট ব্যাংক সমেত ১৭টি ব্যাংকের কনসর্টিয়াম বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে 'কিংফিশার এয়ারলাইন্স'-এর নামে ঠকিয়ে লোন নেওয়ার এবং মানি লণ্ডারিং করার অভিযোগ করল। সিবিআই ও ইডি তদন্ত করে কেস দিল। মালিয়া ২ মার্চ, ২০১৬ সালে ইউকে-তে পালিয়ে গেল। ডেটা রিকভারি ট্রাইব্যুনালের হিসেবে ২০১৩ সালে মূল ফ্রড লোন ছিল ৬,০৯৭ কোটি টাকা। সুদে আসলে এখন সেটা হয়েছে ১৭,৭৮১ কোটি টাকা।

আদায় হয়েছে কত? বিত্তমন্ত্রকে ২০২৫-এর বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী ইডি ১৪,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকদের হস্তান্তর করেছে।

মালিয়াকে ভারত সরকার 'পলাতক আর্থিক অপরাধী' (Fugitive Economic Offender) ঘোষণা করেছে। যুক্তরাজ্যের একটি আদালত তাকে ভারতে বন্দী হিসেবে ফেরত পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের অন্তিম কদমের অপেক্ষায় সবাই। ততদিন মালিয়া ওদেশেই থাকবে।

নীরব মোদী

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৩,০০০ কোটি টাকা জালিয়াতির মুখ্য অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ হল - ওই ব্যাংকের ব্র্যাডি হাউস শাখা মুম্বাই থেকে জাল লেটার অফ আন্ডারটেকিং ইস্যু করানো এবং সিবিআইয়ের কথায়, ব্যাংক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশে বিদেশে টাকা পাচার ইত্যাদি।

ব্যাংককে কত টাকা ঠকানো হয়েছে? ৬,৪৯৮ কোটি টাকা।

ইডি নীরব মোদীর জুয়েলারি এবং ফার্ম হাউস মিলিয়ে মোট ২,৬২৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংককে ১,০৫২ কোটি টাকার সম্পত্তির দখল দিয়েছে।

নীরব মোদীকে পলাতক আর্থিক অপরাধী ঘোষণা করে যুক্তরাজ্যে ২০১৯ সালে গ্রেফতার করানো হয়েছিল। যাতে ফিরে আসতে না হয় তার জন্যে বিলেতের আদালতে নীরব মোদী আইনি লড়াই করছে। তবে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের 'প্রত্যর্পণ চুক্তি' (extradition pact) আছে। তাই ভারত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যে আইনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মেহুল চোকসি

ইনি উপরোক্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ফ্রড কেসে নীরব মোদীর সঙ্গে সহ-অভিযুক্ত। ইনিই মাস্টারমাইন্ড। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শেল ফার্মের মাধ্যমে জালিয়াতির সাপ্লাই চেন তৈরি করার পরিকল্পনা, বিদেশে টাকা পাচার এবং নকল হীরে বিক্রি করা।

এর সমস্ত ফার্ম মিলিয়ে ব্যাংককে দেয় টাকা ৬,০৯৭ কোটি আদায় করতে হবে।

ইডি চোকসির প্রায় ২,৫৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। বিত্তমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এর পাওনাদারদের ৩১০ কোটি টাকার সম্পত্তি দেওয়া হয়েছে। অন্য সম্পত্তিগুলো ব্যাংককে দেওয়ার আইনি কাজ এগিয়ে চলেছে।

ইনি ২০১৮ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। আন্টিগুয়া এবং বারবুডা নামের দুটো ক্যারিবিয়ান দ্বীপের নাগরিকত্ব পেয়ে গেছেন। একে ডোমিনিকায় মে ২০২১ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আইনের ফাঁকে পালিয়ে যায়। এই বছরের গোড়ায় বেলজিয়াম পুলিশ গ্রেফতার করে। বেলজিয়াম কোর্ট ভারতের প্রত্যর্পণের আবেদন মঞ্জুর করে। কিন্তু ও এখন ওখানকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।

যতীন মেহতা

রাঘব বোয়াল ঠগ। ভারতে হীরের ব্যবসায়ে সবচেয়ে বড়ো ব্যাংক জালিয়াতির নায়ক। সার্কুলার ট্রেডিং (এর টুপি তার মাথায়) এবং বুলিয়ন সিকিউরিটির ভিত্তিতে পাওয়া ব্যাংক লোনের পয়সা নয়ছয় করার দায়ে অভিযুক্ত। সবটা এখনও টের পাওয়া যায়নি। ইডি, সিবিআই এবং ব্যাংকের তদন্ত চলছে। তার দুটো ফার্ম; দ্য উইনসাম ডায়মন্ডস এবং ফরএভার প্রেশাস জুয়েলারি; ২০১৩ সালে ব্যাংক-কে ৬,৮০০ কোটি পাওনা টাকা দেয়নি যা এখন ১০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ইডি ১,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। যুক্তরাজ্যের আদালতে ব্যাংক মাত্র ১৫৭ কোটি টাকা উদ্ধার করতে পেরেছে।

২০১৩ সালে মেহতা ভারত থেকে পালিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট কিটস্‌ অ্যান্ড নেভিস রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে। ভারতের বিভিন্ন এজেন্সি তাকে ফেরত আনার অনুরোধ করে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো তাকে উইলফুল ডিফল্টার ঘোষণা করেছে। এখনও তদন্ত চলছে।

যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু

সুপ্রিম কোর্টের পরিবেশ আইন নিয়ে আরেকটি সাম্প্রতিক রায় -

কারও মাথা কেটে ফের জোড়া লাগিয়ে দেওয়া যায়? যায় না। যার মাথা কাটা গেছে তার আত্মীয়-পরিজনকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিলে হারিয়ে যাওয়া মানুষটার অভাব পূরণ হয়? হয় না। বনভূমি এবং পরিবেশ সুরক্ষা আইন ভেঙে বিনা অনুমতিতে ঘন অরণ্য কেটে সাফ করে কারখানা বানিয়ে তারপর পেনাল্টি দিলে কি রাতারাতি বনভূমি গজিয়ে ওঠে? পরিবেশের যা ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হয়?

তাহলে সুপ্রিম কোর্ট গত ১৮ নভেম্বর তারিখে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ এটা কী রায় দিলেন? বিশেষ করে যখন দিল্লির পরিবেশ দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গেছে?

মনে রাখা দরকার, ইন্ডাস্ট্রি বা কোনো বাণিজ্যিক প্রোজেক্ট শুরু করতে হলে যে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয় সেটা কোনো কাগুজে নিয়মপালন নয়, এটি নাগরিকদের সুস্থ জীবনের জন্য একটি সাংবিধানিক সুরক্ষা। আর্টিকল ২১ আমাদের যে জীবনের অধিকার দেয়, তার আবশ্যিক অঙ্গ হল বিশুদ্ধ বায়ু, বিশুদ্ধ হাওয়া এবং বিশুদ্ধ পরিবেশ।

বনমন্ত্রক বনাম ভারত সরকার কেস

পরিবেশ মন্ত্রক বিগত ২০১৭ সালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং পরে ২০২১ সালে আর একটি মেমোরান্ডাম জারি করে। সেগুলোর মাধ্যমে কোনো প্রোজেক্টের পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের মূল্যায়নের (ETA Rules) নিয়মগুলোকে ঢিলে করে দেয়। তাতে সোজাসুজি 'ডেভেলপার' দের প্রোজেক্ট শুরু করার পরে পরিবেশ সম্বন্ধিত গ্রিন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের এনজিও 'বনশক্তি' সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। এই কেসে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গবইয়ের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চ ১৬ মে তারিখে রায় দিয়ে বলল, পোস্ট-ফ্যাক্টো ক্লিয়ারেন্স বা পরিবেশ আইন ভেঙে তারপর অনুমতি পাওয়া পুরোপুরি বে-আইনি।

তারপর 'কনফেডারেশন অফ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার্স অফ ইন্ডিয়া' রিভিউ আবেদন করল। ওদের চিন্তা, এই রায়ের রিভিউ না হলে ২০,০০০ কোটি টাকার পাবলিক প্রোজেক্ট ভেঙে দিতে হবে। তাই তিন সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়া হল। কিন্তু সেই বেঞ্চ গত ১৮ নভেম্বরে ২-১ বিভক্ত রায়ে আগের রায় পুরোপুরি পালটে দিয়ে বিনা অনুমতি প্রোজেক্ট শুরু করে পরে গ্রিন ক্লিয়ারেন্স নেওয়াকে বৈধ করে দিল!

জাস্টিস উজ্জ্বল ভুঁইয়া অসহমত হলেন:

সুপ্রিম কোর্ট নিয়মিত পরিবেশ রক্ষার প্রাথমিক নীতিগুলোর পক্ষে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে কমন কজ বনাম ভারত সরকার কেসে বলেছে, পরিবেশ রক্ষার সার্টিফিকেট কোনো যান্ত্রিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্যে নয়। আর পোস্ট-ফ্যাক্টো ক্লিয়ারেন্স পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করবে।

তিন বছর পরে অ্যালেম্বিক ফার্মাসিউটিক্যাল কেসেও জোর দিয়ে বলেছে, পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের মূল্যায়নের (ETA Rules) নিয়মগুলোকে কড়াভাবে পালন করা উচিত। বনভূমি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বের কথা তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গবই বলেছিলেন।

আমরা কি আর একবার ওই রায় পুনর্বিবেচনার আশা করতে পারি?