আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ত্রয়োদশ সংখ্যা ● ১-১৫ জুলাই, ২০২৬ ● ১৬-৩২ আষাঢ়, ১৪৩৩

প্রবন্ধ

এক ব্যক্তিগত প্রবাল স্মরণ

অমিয় দেব


এটা কী হল! প্রবাল (দাশগুপ্ত) চলে গেল! যাবার কথা তো আমার মতো নবতিপর অথর্বের; তা নয়, গেল অমন তরতাজা প্রবাল! কতই বা বয়স হয়েছিল ওর? বাহাত্তর পূর্ণ করেছিল। রোগশয্যায় তো ছিল না। আর গেলও ভোরে ঘুমের মধ্যে। আগের সন্ধেতেই ওর দুটো স্বভাবসিদ্ধ ধীমন্ত মন্তব্য কোথাও পড়েছি - মন নড়েচড়ে বসেছে। শুনলাম ওর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, তবে কোনও চিকিৎসার অবকাশ মেলেনি। লক্ষণ যা দু-একটা দেখা গিয়েছিল তা পাকিয়ে উঠবার আগেই ওকে মৃত্যু টেনে নিল। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বললেই আমার ১৯৬০-এর জুনে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ও ১৯৭৪-এর মার্চে বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যুর কথা মনে পড়ে। শুনেছি, বন্ধুগৃহে উপভোগ্য সন্ধ্যা কাটিয়ে মাঝরাতে রাজেশ্বরীসহ বাড়ি ফিরে এসে, শুতে গিয়ে ঘুমোতে পারছিলেন না সুধীন্দ্রনাথ, ঘোলাটে চোখে জেগে বসে ছিলেন, শেষরাতে একটা সিগারেট ধরাতে গিয়ে মাথা এলিয়ে পড়ে। আর বুদ্ধদেব সন্ধ্যার মুখে সংজ্ঞা হারালে তাঁকে হাসপাতাল নিয়ে গেলেও, রাত তিনটের চৌকাঠ তিনি ডিঙোতে পারেননি। প্রবাল কি তার দুই প্রিয় মহাজনের সঙ্গ নিল? বুদ্ধদেবকে সে 'ভাষাশ্রমিক'-এর মর্যাদা দিয়েছিল - সেই মর্মে দুজনের পত্রবিনিময়ও হয়েছিল বলে মনে পড়ছে। আর কিছুদিন আগেই সে শুভা চক্রবর্তী দাশগুপ্ত ও সুব্রত সিন্‌‌হা সম্পাদিত 'রুটলেজ'-এর বাংলা সমালোচনামূলকতার সংকলনের জন্য সুধীন্দ্রনাথের অগ্রগামী প্রবন্ধ 'কাব্যের মুক্তি'-র ইংরেজি অনুবাদ করেছিল।

প্রবালকে আমি চিনি অনেক দিন। প্রথমে ওর মা, মানসী দাশগুপ্তের সঙ্গে পরিচয় হয় নরেশ গুহর বাড়িতে। সেটা সাতষট্টি না আটষট্টি সাল ঠিক মনে নেই। নরেশ গুহ যেমন নরেশদা, অর্চনা গুহ যেমন চিনুদি, তেমনি মানসী দাশগুপ্তও অচিরেই মানসীদি হয়ে উঠলেন। অবশ্য তাঁর স্বামী অরুণকুমার দাশগুপ্তকে অরুণবাবুই বলতাম। তাঁরা একসময় গড়িয়াহাটের মোড়ে এক দোতলা বা তেতলায় থাকতেন। সেখানে আবার কিছুদিন তাঁদের কাছে আমার বন্ধুও, তখন সহকর্মীও, মানব (মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়) ছিল 'পেয়িং গেস্ট'। সেখানেই চেনা হয় তাঁদের ছেলে মুকুরের তথা প্রবালের সঙ্গে। সে তখন ভাষাতত্ত্বের ছাত্র - বিএ অনার্স পড়ছে সংস্কৃত কলেজে। স্বভাব-গবেষক। আমি কীভাবে 'প্রত্যাখ্যান' শব্দটি উচ্চারণ করি - অর্থাৎ পরপর দুই 'য-ফলা আ-কার' ঠিক কীভাবে বলি - তা একবার সে পরখ করে নিয়েছিল। তার ভবিষ্যতের একটি বীজ বুঝি-বা নিহিত ছিল ওই ব্যতিক্রমী কৈশোরে। আমরা জানি সে ভাষাতত্ত্বে পরের পাঠ নেয় পুণের ডেকান কলেজে যেখানে, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে এসে, সে পড়িয়েওছিল। মরাঠী 'ভাষা আনি জীবন' পত্রিকার সম্পাদক, স্নিগ্ধস্বভাব অশোক কেলকার-এর সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দিয়েছিল সে-ই। তার কাছে আমার অনেক ঋণের একটা তাও।

একসময় সে কলেজ স্ট্রীট কফিহাউসের তিনতলায় 'জিজ্ঞাসা' পত্রিকার ঘরে বাংলা ভাষা নিয়ে কয়েকটি বক্তৃতা করে। কোনও তত্ত্বের বাতাবরণ ছাড়া সহজবোধ্য বাংলায়। [সিএমডিএ-র তদানীন্তন অধ্যক্ষ ও] নানাভাষাবিদ সুনীলবরণ রায়, কণিকা সরকার ও আমি তিনজনে মিলে সেসব শুনতে যেতাম। নিয়ত যে-ভাষা আমরা বলি তার রহস্যভেদে প্রবালের গোয়েন্দাগিরিতে আমরা মুগ্ধ হতাম। তার 'কথার ক্রিয়াকর্ম' বইয়ের পেছনে ওই বক্তৃতাগুলো হয়তো-বা কাজ করছিল। আর বইটি যে অ-তাত্ত্বিকেরও পাঠ্য তা অবশ্যই বলবো। প্রবালের একটা বড়ো গুণ, সে শুধু ভাষা বোঝেই না, ভাষা লেখেও। তার ভেতর ব্যোমকেশ-অজিত বা অজিত-ব্যোমকেশ দুইই আছে। আর যারা [ভাষা] লেখে তাদের এক অবিসংবাদিত কর্ম [ভাষা] পড়াও। বস্তুত, যারা সাহিত্যের ক্লাসে বসে সাহিত্য পড়ে তাদের অনেকের চেয়েও বেশি সাহিত্য বোধকরি প্রবাল পড়েছিল। তার লেখায় তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমনকী বাংলা সাহিত্যজগতের অনেক ঘরের কথাও তার জানা ছিল। যেমন তার মহাগ্রন্থগোছের 'ছিন্ন কথায় সাজায়ে তরণী'-র ১৯৫ পৃষ্ঠায় বন্ধনীতে আছে 'রমেশ, তুমি পাণিনির সন্ধি-সংগীত পড়িয়াছ?' তা নিশ্চয়ই, রমেশ দত্ত রবীন্দ্রনাথের 'সন্ধ্যাসংগীত' পড়েছেন কিনা - বঙ্কিমের সেই জিজ্ঞাসার এক প্রকরণ।

আমাদের এই রমেশ কিন্তু অনেক কিছু পড়িয়াছিল। রবীন্দ্রনাথ তো তার গলাতেই ছিলেন। গলা থেকে মাথায় নিয়ে যেতে বেগ পেতে হয়নি। আর তার ভাষাবিদ্যা যখন সেতুভাষা এস্পেরান্তো আয়ত্তে আনল, আর তার এস্পেরান্তো চর্চা এক আদর্শের চেহারাও নিল (মনে আছে একবার যাদবপুরের তুলনামূলক সাহিত্যবিভাগে এক বক্তৃতা এস্পেরান্তোতেই করে ফেলেছিল), তখন তাকে দিয়ে তা রবীন্দ্রনাথের একটি প্রায়-প্রামাণ্য কবিতা-সংকলনও অনুবাদ করিয়ে নেয়। 'কড়ি ও কোমল' থেকে 'শেষলেখা' পর্যন্ত ছড়ানো প্রায় সব রকমের পঞ্চাশটি কবিতার অনুবাদ এস্পেরান্তোতে এই প্রথম। উৎসর্গ স্বর্গত বুদ্ধদেব বসুকে। এস্পেরান্তো-পাঠক কি Primico নাম্নী এই বই শুধু পড়েই ক্ষান্ত হবে, না তার আপন প্রথম ভাষায় সে-বইয়ের অনুবাদেও একসময় প্রবৃত্ত হবে - তা এক বিবেচ্য সম্ভাবনা। অনুবাদের সেতুভাষা হিসেবে অন্য ইউরোপীয় ভাষা অপেক্ষা এস্পেরান্তো যে অধিক কাম্য, তা মাথায় রেখেই মনে হয় আলফ্রেড নোবেল-এর সুইডিশ ভাষায় লেখা নাটক 'Nemesis', তার এস্পেরান্তো অনুবাদ থেকে প্রবাল 'নেমেসিস' নামে বাংলায় অনুবাদ করেছে। আমরা কেউ কেউ তা পড়েওছি। তবে রবীন্দ্রনাথে যে প্রবাল আটকে থাকেনি তারও অনেক স্বাক্ষর আছে। পরবর্তী নানা আন্তর্বয়ান শুনি তার লেখায় - কয়েকবারই আমার নমস্য সুধীন্দ্রনাথের। আর মনের এ-কোণে ও-কোণে যে কবিতা পুরে রেখেছে তার অভিজ্ঞানও। অথচ দর্শনেও তার রুচির অভাব নেই। আমি না হয় আমার ফুকোর 'রচয়িতা কী'-র খানিকটা করে ওঠা বঙ্গানুবাদ ফেলে রেখেছি, এক ইংরেজি 'ফুকো-রীডার' একবার সে-ই আমাকে উপহার দিয়েছিল। তার 'অধুনান্তিক'-এর প্রস্তাবনায় যে দেরিদা-ফুকোর সায় থাকবে তা মানবো বইকি। আর তার ইংরেজিতে লেখা 'The Otherness of English: India's Auntie Tongue Syndrome'-এর বিষয়বস্তু তো বটেই, শিরোনামও যে প্রশংসনীয় তা মানব না?

কিন্তু প্রবাল কেবল লেখা-পড়া নয়, প্রবাল স্নেহও। আর তাকে দেখতে পাব না, তা ভাবতে বেশ কষ্ট হয়। আমার যতীন দাশ রোডের তিনতলায় যখন মৌ-কণিকা-ইন্দ্রজিৎকে ডেকে নিলাম, তখন মাঝেমাঝেই সেখানে প্রবালের পা পড়ত। আশির গোড়ার দিকের কথা বোধকরি। মৌয়ের শৈশব তখনো ফুরোয়নি, 'প্রবাল পণ্ডিত' লিখতে গিয়ে 'প্রবাল পণ্ডত' লিখেছিল। ছবি-আঁকিয়ে ও তার নিজের মতো করে ভাবুক, ইন্দ্রজিতের সঙ্গে সেই পণ্ডতের কী কথাবার্তা শুরু হল, যা পরে আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল যখন আমাকে সুদ্ধ মৌ-কণিকা-ইন্দ্রজিৎ কণিকার সদ্যকৃত সল্ট লেকের বাড়িতে উঠে এল - আর যেখানেও মাঝেমাঝেই পা পড়ত প্রবালের - তার খানিক আভাস প্রবাল দিয়েছিল ইন্দ্রজিতের স্মরণসভায়। আর কণিকার সঙ্গে, এই পুরো সময়ে, তার কী স্নেহ গড়ে উঠেছিল, তারও পরিচয় পেলাম এই কয়েক বছর আগে কণিকার স্মরণসভায়। প্রবালকে বলতেই সে গান গাইল। আমার স্মরণসভার অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু প্রবাল তো সে-সুযোগ দিল না!

হাসিখুশি চেহারা ছিল যতীন দাশ রোডে আসা প্রবালের। একটা মস্ত ছাত ছিল আমাদের। একবার প্রবাল এক স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে এল। খোলা আকাশের নীচে শোবে। আরেকবার একটা মজার ছড়া বানিয়েছিল প্রবাল: 'ওক্লাহোমা থেকে আমি/ ফোকলা ঠোঙা এনেছি।' মিলটা খুব ব্যতিক্রমী - গোড়ায়। আমার ভাইপো (অমিতাভ দেব চৌধুরী) - সেও তখন যতীন দাশ রোডের বাসিন্দা - শিলচর থেকে ফোনে মনে করিয়ে দিল, প্রবাল সেটা সুর করে গাইতও। সম্প্রতি দু-তিন বছর আগে, আমার নীচের পাটির আরো দুটো দাঁত পড়বার পর, 'ফোকলা' হয়ে যাওয়া আমি প্রবালকে ফোন করে তার ওই ছড়ার কথা স্মরণ করাই। অমিতাভ আরো মনে করিয়ে দিল, একাশিতে 'শব্দ' নামে যে-পত্রিকা ওর দু-তিনজন বন্ধুর সঙ্গে ও বের করেছিল, তা প্রবালকে দেখায় কণিকা। প্রবালের তা ভালো লাগে।

মনে পড়ছে প্রবাল-মালশ্রী সল্ট লেকেই এক অনতিদূর বাড়ির একতলায়। ভাড়াটে। বাড়িওয়ালা অবাঙালি, দোতলায়। কয়েকবার গেছি সেখানে। সেখানেই কি প্রবালকে তার 'কলকাতা প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে' আমার 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত' ও 'বুদ্ধদেব বসু' নাম্নী বইদুটো দিই? এবং সেখানেই প্রবাল বা মালশ্রীর কিঞ্চিৎ অসুস্থতা হেতু আমার প্রায়-প্রতিবেশী জীবনানন্দপ্রেমী ডাক্তার-বন্ধু ভূমেন্দ্র গুহকে নিয়েও একবার যাই? হাঁটাপথে। আলাপ করিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেতেও। তবে বেশিদিন প্রবালরা ওখানে থাকেনি। উঠে গেল সল্ট লেকেই একটু দূরে, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে ভাড়াটে হয়ে। তাই ভূমেনবাবুকে তেমন চেনা হয়ে ওঠেনি প্রবালের।

ইই ১০৮/৭, সল্ট লেকের এবাড়িতে অনেক সময়ই প্রবাল আসত তার শেষ কর্মস্থল আইএসআই, মানে ইন্ডিয়ান স্টেটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে। তখন প্রায়ই তার দু-কাঁধে থাকত দুই ঝোলা। তার কায়াবাদী ভাষাতত্ত্বের সঙ্গে আরো বহু বোঝা ও বইত। হয়তো নারীবাদ বা জনজাতি বিষয়ক কোনো বই, তার নিজের কোনো লেখার অর্ধসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি বা প্রুফ, কোনও হিস্পানির লেখা এস্পেরান্তো কবিতাগুচ্ছ। লিফ্‌ট নেই এবাড়িতে, কিন্তু চারতলায় উঠে এসে কখনো নালিশ করেনি প্রবাল। দরজা খুললেই ওর হাসিমুখ।

প্রবালের মা-বাবা থাকতেন রিজেন্ট টাওয়ারে এক উঁচুতলায়। তাঁদের জানলা দিয়ে ওই দক্ষিণতম কলকাতার অনেকটা দেখা যেত। মানসীদির বিশেষ জ্ঞান ছিল মনস্তত্ত্বে, ছিলেন শ্রী শিক্ষায়তন কলেজের অধ্যক্ষ, শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রভবনেরও দেখাশোনা করেছেন তারপর, কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় তিনি লেখক। তাঁর লেখায় নারীবাদের একটা চেহারা ফুটে ওঠে। প্রবাল তাঁর দুটো বইয়ের এস্পেরান্তো অনুবাদ করে: 'ঘুমন্ত ঘরবাড়ি' ও 'কম বয়সের আমি'। ভালো গাইতেন মানসীদি - তার কিছুটা উত্তরাধিকার দিয়েওছিলেন প্রবালকে। 'ঐতিহাসিক' পত্রিকা-খ্যাত অরুণবাবু ছিলেন নরম প্রকৃতির মানুষ। তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল গেলেন। তাঁকে দেখতেও গেলাম, ফিরলাম মনে আছে প্রবালের সঙ্গে। তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ল। আর, এমনই হাসপাতাল যে - প্রবাল ব্যথিতচিত্তে ফোন করে বলল - সে-মারাত্মক খবর প্রথমে বাড়ির লোককে না দিয়ে সরাসরি রোগীকেই দিল। বাড়ি ফিরে এলেন অরুণবাবু। শেষ পর্যন্ত তাঁকে হারাতেও হল। তাঁর শ্মশান মনে আছে। বোড়াল। (সেই বোড়ালেই ছাই হয়েছে পুত্র প্রবালও।) তিন বছর পর হারাতে হল মানসীদিকেও। তাঁর অসুস্থতার শুরু বাড়িতেই পড়ে গিয়ে। চলৎশক্তি-রহিত হয়ে ভুগেছিলেন অনেকদিন। একবার তাঁকে এক নার্সিংহোমে দেখতেও গিয়েছিলাম, আমার পুরোনো পাড়া যতীন দাশ রোডে। এর পরের কথা আর খুব মনে পড়ছে না। সম্ভবত আমি তখন কিছুদিন শহরে ছিলাম না। রবীন্দ্রসার্ধশতবর্ষে চীন গিয়েছিলাম? পরে কখনো 'The Hindu'-তে মানসীদিকে নিয়ে কী লিখেছিল প্রবাল তা পড়েছিলাম।

আমার এবারকার জন্মদিনে প্রবাল শুভেচ্ছা জানিয়েছিল বার্তা লিখে। বলেছিল, ফোন করেনি, কারণ ওর কানের সমস্যা বেড়ে গেছে। তাছাড়া ফোনে কানেকশন কেটে কেটে যায়। আমি উত্তরে বলেছিলাম, তিরানব্বইতে (যদিও খাতায়কলমে বিরানব্বইতে) পা! আর কতদিন জানি না। পারলে একদিন এসো, অনেকদিন তোমায় দেখিনি। তারপরই শুনলাম শুভার কাছে, প্রবাল বলেছে শুভার সঙ্গে একবার আসতে চায়। এলও। বাংলা নববর্ষের দিনকয় আগে। চমৎকার গল্প হল সেদিন। মানসীদির সদ্যপ্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'শমিতার ছক্কা' আমায় দিল। আমিও আমার সাম্প্রতিক প্রবন্ধগ্রন্থ 'অনিশ্চয়তার পাদদেশে ও অন্যান্য' তাকে দিলাম। আমরা তিনটে খুদে গেলাশে করে আমার মিউনিখ-বাসী বন্ধু প্রভু মজুমদারের দিয়ে যাওয়া জর্মন রেড ওয়াইন একটু চাখলাম। আর, যখন নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় বললাম, 'খুব ভালো লেগেছিল সেদিন', তার উত্তরে ['১৪৩৩ যেন আপনারও ভালো কাটে' লিখে] বলেছিল, 'আমারও!'

সেই প্রবাল ছবি হয়ে গেল?