আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ত্রয়োদশ সংখ্যা ● ১-১৫ জুলাই, ২০২৬ ● ১৬-৩২ আষাঢ়, ১৪৩৩
প্রবন্ধ
অটো পাইলট নয়, এ.আই.-এর ভূমিকা হোক কো-পাইলট
গৌতম সরকার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভিন গ্রহের কোনও বিষয় নয়, ধীরে ধীরে এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। বাড়ির স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে সুপার মার্কেটের সেল্ফ চেকআউট সবেতেই এখন এ.আই.-এর প্রয়োগ। এ.আই. নিয়ে বিশ্বে প্রথম আলোচনা হয় ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকার্থী এবং মার্ভিন মিনস্কি পরিচালিত ডার্টমুন্ড কলেজের একটি কর্মশালায়। ভারতে এ.আই.-এর প্রবেশ ঘটে ১৯৬০ সালে এইচ.এন.মহাবালার হাত ধরে। এরপর ১৯৮৬ সালে ইউএনডিপি দ্বারা নির্মিত 'নলেজ বেসড কম্পিউটিং সিস্টেমস' ভারতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। বিগত দশকগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত প্রথম সারির দেশগুলো এ.আই. গবেষণা ও আবিষ্কারে অনেকটা এগিয়ে গেলেও ভারত সাধ্যমত এই বিষয়ে তার জ্ঞান ও গবেষণা প্রসারিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারতে এ.আই. ব্যবহারের একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল শিক্ষা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এ.আই.-এর প্রয়োগ দিন দিন বাড়ছে। পঠনপাঠনের মাধ্যম, স্মার্ট ক্লাসরুম, এবং প্রশাসনিক কাজগুলোতে সেই পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ভাবা হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ আমাদের দেশের শিক্ষার পরিকাঠামোর খোলনলচে বদলে দিতে পারে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে শিক্ষাদান ও শেখার প্রক্রিয়াকে কয়েকগুণ উন্নত করা সম্ভব হবে। এআই-এর বিশেষত্ব হল, এটি প্রতিটা বাচ্চার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে পাঠ্যক্রমকে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সাজাতে এবং উপস্থিতি ও গ্রেডিংয়ের মত কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে। এই উপলক্ষ্যে এডটেক প্ল্যাটফর্মগুলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের সুবিধার্থে শিক্ষাক্ষেত্রে এ.আই. টুল ব্যবহার করে। এই টুলগুলো যেকোনো প্রশ্নপত্র তৈরি করতে, প্রোগ্রামের ফিডব্যাক দিতে এবং কন্টেন্টের কঠিনতার মাত্রা বুঝে সেটির প্রয়োজনীয় সমন্বয় ঘটাতে সাহায্য করে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-তে নয়া পাঠ্যক্রমের ভাবনা মাথায় রেখে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের এ.আই. শেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিবিসিএস ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলো তাদের নতুন পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, ৮-৯ বছরের বাচ্চাদের পক্ষে ব্যাপারটি একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না কি! এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের বক্তব্য, শুধু প্রযুক্তিগত বোধ সঞ্চার করাই নয়, শিশুদের মধ্যে এ.আই. বিষয়ে নীতিগত ও সামাজিক সচেতনতা জাগিয়ে তোলাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কিভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, এ.আই.-কে যাতে ভুলপথে চালনা না করা হয়, অর্থাৎ কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল সেই সূক্ষ্ম ও শুদ্ধ বোধগুলি শৈশব থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে গেঁথে দেওয়ার প্রচেষ্টা। এছাড়া শিক্ষা এবং ব্যবহারিক জ্ঞান থেকে নিজেকে উন্নীত করার বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আগামী দিনে প্রতিযোগিতার অভিমুখের বদল ঘটবে। বিশ্বব্যাপী এই কঠিন প্রতিযোগিতায় ভারতের ছেলেমেয়েরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে সে বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাচেলর কোর্সে 'এ.আই. টাস্ক ফোর্স' প্রস্তাবিত বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের মতে ন্যাসকম ও শিল্প বিশ্লেষকদের মতে আদ্যিকালের মুখস্থ বিদ্যানির্ভর তাত্ত্বিক শিক্ষাব্যবস্থার যুগ শেষ হতে বসেছে, তাই প্রথম সেমেস্টার থেকেই বাস্তবমুখী প্রজেক্ট, জেনারেটিভ এ.আই., এম.এল.অপস-এর মতো 'ফাউন্ডেশনাল মডেল ডেভলপমেন্ট' উপযোগী বিষয়গুলিকে হাতেকলমে শেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেটা ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের অফুরান যুবশক্তিকে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করে তোলা কতটা জরুরি সেটা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট। 'ফিউচার অফ জব' শীর্ষক এই রিপোর্ট জানাচ্ছে, আগামী কয়েকবছরে বিশ্বে প্রায় সাড়ে আট কোটি সনাতনী গতানুগতিক কাজের অবলুপ্তি ঘটবে, পরিবর্তে এ.আই. ও মেশিন লার্নিংয়ের সৌজন্যে সাড়ে নয় কোটিরও বেশি নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। প্রযুক্তিগত এই বদলের সাথে তাল মেলাতে এবং বিপুল যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'-এর সুবিধা পেতে কারিগরি এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে এ.আই.-এর তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক অন্তর্ভুক্তি খুব জরুরি।
'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর শিক্ষা রূপকল্প হল দক্ষতা উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে সক্ষমতা অর্জনের জন্য একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমাদের দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ১৫ লক্ষ, সেখানে ৮৫ লক্ষেরও বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন এবং বছরে প্রায় ২৬ কোটি ছাত্রছাত্রী সেই সব স্কুলে ভর্তি হয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে রয়েছে ১০০০-এরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৪২,০০০ কলেজ, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি। প্রথাগত শিক্ষব্যবস্থায় এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যা শিখছে এবং চাকরি পাওয়ার যোগ্যতার মধ্যে বিশাল ফাঁকের শিকার হচ্ছে। এন.ই.পি ২০২০-এর মূল উদ্দেশ্য হল পঠন ব্যবস্থার সার্বিকীকরণ থেকে ব্যক্তিগতকৃতকরণের দিকে রূপান্তর, যেটি একমাত্র শিক্ষাব্যবস্থায় এআই-এর প্রয়োগের মাধ্যমেই সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পাঠ্যক্রমকে নতুন করে সাজানো থেকে শুরু করে, প্রশ্নোত্তর তৈরি, ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রতিটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এই পরিবর্তনগুলো অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক ব্যবস্থার সমকক্ষ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। সকল স্তরের পাঠ্যক্রমে এআই-এর অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, কোডিং এবং কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিংয়ের মত বিষয়গুলিতে পারদর্শী করে তোলাই নয়া শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য। সি.বি.এস.ই বোর্ড নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যক্রমে এআই-কে একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আইবিএম-এর সাথে অংশীদারিত্বে জেনারটিভ এআই-এর মত 'স্কিলসবিল্ড' প্রোগ্রাম চালু করেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদের সিলেবাসে রোবোটিক্স ও এ.আই. চালু করেছে। এছাড়া ইন্টেলের সহযোগিতায় একটা 'এ.আই. ফেসিলিটেটর হ্যান্ডবুক' তৈরি করেছে যেটি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সামগ্রী ও বাস্তব জীবনের উদাহরণ সরবরাহ করে পড়ানোর কাজটা সহজ করে দেয়। শুধু সি.বি.এস.ই নয়, অন্যান্য কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, আই.আই.এম এবং আই.এস.বি-এর মতো শীর্ষস্থানীয় বিজনেস স্কুলগুলোর পাঠ্যক্রমেও এআইএর গ্রহণযোগ্যতা দিনদিন বাড়ছে।
ভারতবর্ষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশলের মূল ভিত্তি হল এ.আই.-এর গণতন্ত্রীকরণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজী তাঁর বক্তৃতায় সবসময় 'ডেমোক্রেটাইজড এআই'-এর উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর কথায়, শুধু বিজ্ঞানী বা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নয়, এই প্রযুক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত হোক, সবাই সমান মাত্রায় সুযোগ পাক। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ দেশগুলির জন্য এটা খুব জরুরি। একথা অনস্বীকার্য যে অদূর ভবিষ্যতে এ.আই. একটি কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। এ.আই. প্রযুক্তি শুধু যন্ত্র বা মেশিনকে স্মার্ট করছেনা, মানুষের ক্ষমতাকেও বহু গুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই এ.আই. কী করতে পারে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ এ.আই. ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে কী করতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন আবিষ্কারের মতন এ.আই.-এরও ভালোমন্দ দুটো দিকই আছে। এটি যেমন একাধারে বিপুল সম্ভাবনাময়, তেমনি এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার গভীর সামাজিক সংকট ডেকে আনতে পারে। তাই এর নীতিগত ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের উপর নজরদারি খুব জরুরি। এই বিষয়ে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হল স্কুল-কলেজের সিলেবাসে 'দায়িত্বশীল এআই' বা 'রেসপন্সিবল এআই'-এর অন্তর্ভুক্তিকরণ। অ্যালগরিদম-এর নিজস্ব কোনো অনুভূতি থাকে না, প্রযুক্তিকারের মনস্তাত্বিক বোধগুলিই তার মধ্যে সঞ্চারিত হয়। যেকোনও ধরনের বায়াস বা পক্ষপাতিত্ব এআইয়ের মূল গঠনেই গণ্ডগোল সৃষ্টি করতে পারে। তাই কারিগরি প্রয়োজনের সাথে নিপুণতার সঙ্গে একাধারে কর্পোরেট অভিজ্ঞতা ও অন্যদিকে নৈতিকতার মেলবন্ধন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে ভরসা হল 'সোশ্যাল শেপিং অফ টেকনোলজি' তত্ত্ব, যেখানে বলা হচ্ছে নতুন প্রযুক্তিকে সমাজ তার প্রয়োজন ও নৈতিকতা অনুযায়ী গড়ে নেয়।
প্রধানমন্ত্রীর কথামত এআই-এর গণতন্ত্রীকরন ঘটাতে গেলে 'পপুলেশন স্কেল'-এ এআই-এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এর ফলে কৃষকেরা জানতে পারবেন কী কী করলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিচার ব্যবস্থাতেও চটজলদি সমস্যা সমাধানের উপায় বাতলে দিতে পারবে। 'এ আই ফর হিউম্যানিটি'- এই আদর্শকে সামনে রেখে মানুষকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেটা সম্ভব হলে এ.আই. স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থায় জনকল্যাণমূলক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারবে। তাই মানুষকে চালনা করার জন্য এ.আই. নয়, মানুষের সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিশ্বাসযোগ্য সহায়ক হিসেবে এআই-কে কাজে লাগাতে হবে। 'অটো-পাইলট' নয়, 'কো-পাইলট' হিসাবে এআই-এর ব্যবহারই পারবে জনগণের সার্বিক কল্যাণের উন্নয়ন ঘটাতে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জনকল্যাণে ব্যবহারের জন্য একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত 'এ.আই. স্ট্যাক' খুব জরুরি। এ.আই. স্ট্যাক পাঁচটি পরস্পর সংযুক্ত স্তর নিয়ে গঠিত, যেগুলি একত্রে ডেটা ও কম্পিউটিং ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিস্তৃত ও গঠনমূলক সমাধানের পথ বাতলাতে পারে।
প্রথম স্তরটি হল অ্যাপ্লিকেশন স্তর, একে এ.আই.-এর ব্যবহারমুখী স্তর বলা হয়। এই স্তরে কৃষি ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ, ভাষা অনুবাদ, চ্যাটবট ও প্রশাসনিক পরিষেবার মত অ্যাপ্লিকেশনগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে।
দ্বিতীয় স্তর বা এ.আই. মডেল স্তরকে এ.আই.-এর মস্তিষ্ক বলা হয়। এই স্তর ডেটার উপর প্রশিক্ষিত মডেল বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ভারত দেশীয় ভাষা, জন পরিষেবা এবং অন্যান্য একাধিক ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য দেশীয় এ.আই. মডেল তৈরি করছে, যাতে করে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন করা যায়।
তৃতীয় স্তর হল কম্পিউটার স্তর। এই স্তরের মূল কাজ হল এ.আই. নির্ভর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা কাজের জন্য কম্পিউটিং শক্তি সরবরাহ করা। সরকার পোষিত পরিকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে জনগণকে কম পয়সায় কম্পিউট সুবিধা দেওয়া হয়। INDIAAI Mission-এর আওতায় ক্লাউড ভিত্তিক GPU ও JPU অ্যাক্সেস, জাতীয় GPU ক্লাস্টার, দেশীয় সেমিকন্ডাকটার প্রকল্প এবং PARAMSiddhi-AI ও AIRAWAT-এর মতো সুপার কম্পিউটার স্থাপনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে গবেষণা, স্টার্ট আপ এবং প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করবে।
চতুর্থ স্তর অর্থাৎ ডেটা সেন্টার ও নেটওয়ার্ক স্তরটি হল এ.আই.-এর মেরুদণ্ড। অপটিক্যাল ফাইবার, ফাইভ-জি কভারেজ ও ডেটা সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে সারা দেশে এ.আই. ও ক্লাউড পরিকাঠামো শক্তিশালী করে তোলা হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ ভারতের ডিজিটাল সক্ষমতা আরও মজবুত করতে সাহায্য করছে।
পঞ্চম স্তর, যেটি শক্তি স্তর বল পরিচিত সেটি এ.আই. স্ট্যাককে সচল রাখে। ডেটা সেন্টার ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার পরিচালনার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ দরকার। সেই উদ্দেশ্যে ৫০০ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে, যার অর্ধেক আসবে অ-জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে, এমন একটি প্রকল্প ভারত সরকার রূপায়িত করতে চলেছে।
পরিশেষে বলা যায় একটি সমন্বিত এ.আই. স্ট্যাকের সাহায্য নিয়ে প্রযুক্তির সঠিক ও নৈতিক প্রয়োগ ঘটিয়ে এ.আই.-এর ব্যবহার কে সার্বজনীন করে তুলে মানবজাতির সার্বিক উন্নয়নই যেকোনো গতিশীল প্রযুক্তির আদর্শ। এই উদ্দেশ্যকে ফলপ্রসূ করতে দেশের সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। AI for Humanity-র আদর্শকে সফল করে তুলতে গৃহীত কৌশলগুলির অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, উন্নত জনপরিষেবা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কল্যাণের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া জরুরি।