আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ নবম সংখ্যা ● ১-১৫ মে, ২০২৫ ● ১৬-৩১ বৈশাখ, ১৪৩২
প্রবন্ধ
সাভারকরের হিন্দুধর্ম এবং সংঘ পরিবার
রঞ্জন রায়
প্রস্তাবনা
আজকের ভারতে সংঘ পরিবারের ইতিহাসের নবনির্মাণ অভিযানে সবচেয়ে বড় আইকন হলেন - বীর সাভারকর।
তার দুটো কারণ - এক, কালাপানি ফেরত স্বাধীনতা সংগ্রামী বলতে তাদের আর কেউ নেই। দুই, তাঁর তীব্র মুসলমান বিদ্বেষ থেকে উৎপন্ন দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং ‘হিন্দুত্ব’ নামক ধারণাটি এখন তাদের প্রচারের ভাবাদর্শগত ভিত্তি। তাই সেলুলার জেলের নতুন নামকরণ হয়েছে সাভারকরের নামে, তাঁর ছবি স্থান পেয়েছে সংসদের দেয়ালে এবং মাঝেমাঝেই শোনা যাচ্ছে তাঁকে 'ভারতরত্ন' দেবার প্রস্তাব।
কিন্তু দুটো জিনিস বিস্ময়কর।
এক, সাভারকর বারবার বলছেন - হিন্দুত্ব এবং হিন্দুধর্ম আলাদা। ‘হিন্দুত্ব’ হল একদিকে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ইতিহাস এবং অন্য দিকে পিতৃভূমি, পূণ্যভুমি ও রক্তধারার ভিত্তিতে এক জাতিসত্তা গঠনের আহ্বান।
আর হিন্দুধর্ম হল কিছু প্রথা এবং উপাসনা পদ্ধতির সমাহার।
দুই, এখানেই সংঘ পরিবার পড়ে যায় অস্বস্তিতে। সযত্নে চেপে যায় যে সাভারকর গরুকে 'মাতা' বলা মূর্খতা মনে করতেন। গোমাতার ভক্তদের ‘বুদ্ধিহীন’ বলে উপহাস করতেন। ভারতকে আধুনিক রাষ্ট্র হওয়ার জন্য শাস্ত্রচর্চা তাকে তুলে রেখে বিজ্ঞান ও টেকনোলজিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলতেন।
তিন, ভুলিয়ে দেওয়া হয় যে একসময় নাসিকের ব্রাহ্মণেরা এককাট্টা হয়ে বোম্বাইয়ের গভর্নরকে সংযুক্ত পিটিশন দিয়ে হিন্দুবিরোধী সাভারকরকে নাসিক জেলার বাইরে নির্বাসন দিতে আবেদন করেছিল।
চার, তিনি বামপন্থী চিন্তাবিদ মানবেন্দ্রনাথ রায়ের (এম. এন. রায়) সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতেন, অথচ, ‘দৈবী’ ক্ষমতাসম্পন্ন হিন্দু বাবাজীদের সহ্য করতে পারতেন না। এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদা তোলার বিরোধিতা করে টাকাটা দেশের বুভুক্ষু দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে বলতেন।[১]
মনুবাদী বর্ণব্যবস্থার বিরোধে পতিতপাবন মন্দির বানিয়েছিলেন যেখানে দলিতের অবাধ প্রবেশ।
পাঁচ, নিজে চিতপাবন মারাঠি ব্রাহ্মণ, কিন্তু নিজের ছেলে বিশ্বাস রাওয়ের উপনয়ন করাননি। নিজের স্ত্রী’র শ্রাদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে বারণ করে দিয়েছিলেন।[২]
আশি বছর বয়সে সিঁড়িতে পা পিছলে উরুর হাড় ভেঙে যাওয়ায় সার্জারি করতে হল। বাড়ি ফিরে বিছানায় তিনমাস শয্যাশায়ী। কয়েকজন জ্যোতিষ তাঁকে শুভ-অশুভ যোগ নিয়ে পরামর্শ দিতে এলে তাঁদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে ভাগিয়ে দিলেন।[৩]
এইখানে একটু থেমে যাই। বর্তমান প্রবন্ধের উদ্দেশ্য কি সাভারকরের স্তুতিগান? তাঁকে মহিমামণ্ডিত করা?
কদাপি নয়। এটাও ভোলা উচিত নয় যে সাভারকর শিবাজীর সমালোচনা করেছিলেন এইজন্যে যে তিনি বন্দী বিজাপুরের সুলতানের স্ত্রী-কন্যাকে সসম্মানে মুক্তি দিয়েছিলেন। সাভারকরের মতে সাপকে দেখলে মেরে ফেলা হয়, সাপিনী বা বাচ্চা সাপ বলে দয়া করা হয় না। মুসলমানেরা একই ব্যবহার পাবে।
উদ্দেশ্য শুধু সংঘ পরিবারের দ্বিচারিতাকে স্পষ্ট করা। বর্তমান ভারতে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং নেতাদের ভাষণে গোমাতার নামে মুসলমান হত্যাকে ন্যায়োচিত কার্য এবং শাকাহারকে পবিত্র ও মাসাহারকে ধর্মবিরোধী বলে জনমানসে গেঁথে দেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে সাভারকরকে নিয়ে উচ্ছাস মেলে না।
লেখাটির উদ্দেশ্য, হিন্দুধর্মের ‘আবশ্যক অঙ্গ’ (essential practice) হিসেবে যা যা বলা হয় তার অধিকাংশই তাদের আইকন সাভারকর মানতেন না, সেটা তুলে ধরা। কারণ, একই সমালোচনা অন্য কেউ করলে তারা হিন্দুবিরোধী, তকমা পেয়ে শারীরিক ও মৌখিক আক্রমণের শিকার হয়।
সাভারকর এবং গোমাতা
"গরু উপকারী পশু; মোষ ঘোড়া কুকুর বা গাধাও তাই। গরু আমাদের মাতা নয়, এতে কোনো দেবতা বাস করেন না, এ নিজেও দেবতা নয়"।[৪]
অবাক হবেন না, এটি সাভারকরের উক্তি। তিনি আরও বলেছেন - গো-পালন হোক, গো-পূজন নয়। যখন গরু (বেশি বয়সে) মানুষের উপকারে আসে না, তখন গোরক্ষার নামে বাড়াবাড়ি না করাই ভাল। গো-মাতা বলে বুক চাপড়ানোকে সাভারকর বলছেন - পাগলামি, ছ্যাবলামি, মূর্খতা। গো-পূজা হল ‘রাষ্ট্রের বুদ্ধিহত্যার পাপ’।[৫]
১৯৩৪ সালে গোঁড়া হিন্দুরা গোমাতা নিয়ে সাভারকরের তেতো প্রবন্ধের জন্য 'মহারাষ্ট্র সারদা' নামে সাময়িক পত্রিকার এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধটি নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। সাভারকর জুলাই সংখ্যায় জবাবে বলেন, গোমাতা নিয়ে হিন্দুদের উদ্ভট আচার আচরণের সমালোচনা তিনি একবছর পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন।[৬]
গো-মূত্র এবং গোবরের অসুখ সারানোর ক্ষমতা নিয়ে কথা জনমানসে প্রভাবশীল। সাভারকর বললেন -
"কেন, মানুষের নিজের পেচ্ছাপেও তো কিছু সারানোর শক্তি রয়েছে। তার জন্য কি আমরা পুজোর সময় পঞ্চগব্যে সেটা মেশাবো? কফের রোগীর জন্যে ব্র্যান্ডি ভাল ওষুধ। কিছু বিষেরও নির্দিষ্ট অসুখ সারানোর ক্ষমতা আছে। সেগুলো নির্দিষ্ট রোগীকে দেয়া হয়, সবাইকে নয়। পুজোতেও নয়। আসলে ‘অসুখ সারানোর ক্ষমতা’ বলার জন্য বলা। গোমূত্র, গোবর, ঘি এগুলো পুজোয় ব্যবহৃত হয় কেবল অন্ধ সংস্কারের বশে। এসব অন্ধ মুর্খতাপূর্ণ সংস্কারকে উড়িয়ে দাও, তুলোধোনা কর - শুধু এতেই আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভা বিকশিত হবে"।
একজন বলল - লোকমান্য তিলকের মাতা নিয়মিত পঞ্চগব্য সেবন করতেন, তাই অমন পুত্র জন্মেছিলেন। সাভারকরের ব্যঙ্গ - কেন? তিনি তো চাল, আটা, শাকসব্জি, ফল - এসবও খেয়েছিলেন। এগুলো কারণ নয়?[৭]
সাভারকরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল - তিনি আমাদের পুজ্য সংস্কৃতিকে অপমান করছেন। সাভারকরের জবাব -
"যদি আমাদের সনাতনী বন্ধুরা সত্যিই চান যে আমাদের প্রিয় সংস্কৃতি এবং পরম্পরা হাসির পাত্র না হয় তাহলে ওরা সবার আগে ‘পুঁথিনিষ্ঠ মূর্খতা’ বন্ধ করুক। আর আমাদের লিখতে বাধা না দিক, আমরা লেখার মাধ্যমে এইসব বোকামির দিকে মানুষের চোখ খুলে দিচ্ছি"।[৮]
"বলা হয় গাভীর শরীরে তেত্রিশ কোটি দেবতার বাস। কিন্তু শাস্ত্র তো বিষ্ণুর বরাহ অবতারের কথাও বলে। তাহলে খালি গোরক্ষা কেন, শুয়োর-রক্ষা সমিতিও হওয়া উচিত"।[৯]
আমাদের কি বীফ বা পর্ক খাওয়া উচিত?
সাভারকরের অভিমত - "এটা ধর্মের বিষয় নয়, পরিপাক শক্তির বিষয়। খাদ্যাখাদ্য বিচার হবে ডাক্তারের পরামর্শ, হজম করা, অসুখ থেকে উঠলে স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা খাওয়া - এসব দিয়ে। কোন বই কী বলেছে বা এতদিন ধরে কী চলে আসছে তা নির্ণায়ক নয়। সমস্ত প্রাণীর জীবন মূল্যবান, সে গরু, কুকুর, ঘোড়া, তোতাপাখি, গাধা যাই হোক। যদি ভারতের গরু পবিত্র হয়, তাহলে আমেরিকায় গেলে সেখানে গোমাংস খেতে বাধা কোথায়"?[১০]
কিন্তু সাভারকরের রাজনৈতিক গুরু তিলক তো গোমাংস খাননি, তাহলে?
- "ওটা ওঁনার ব্যক্তিগত রুচি, শাস্ত্রবিধানের জন্য নয়। তাই যদি হত তিলক সাগর পেরিয়ে ম্লেচ্ছদের দেশে গেলেন কেন? তাদের সাথে একত্র বসে ভোজন করলেন কেন? এগুলোও তো শাস্ত্রে নিষিদ্ধ"![১১]
'মনুস্মৃতি' কী বলে?
সাভারকর উদ্ধৃতি দিয়ে দেখালেন - যজ্ঞে এবং শ্রাদ্ধে মাংসাহার করা এবং পরিবেশন করা ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের পরম কর্তব্য। 'মনুস্মৃতি' আরও বলছে - যে শ্রাদ্ধবাসরে মাংসাহার করবে না, সে আগামী তেইশ জন্মে পশুযোনিতে জন্মগ্রহণ করবে। কিসের মাংস? মহিষ, বলদ এবং জংলী শুয়োর।[১২]
সাভারকর প্রশ্ন তুলেছেন 'মনুস্মৃতি'র মতো শাস্ত্রগ্রন্থ কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?
"এই বলছে পুজোয় এবং যজ্ঞে নিহত পশুপাখি সোজা স্বর্গে যায়, আবার মাঝখানে একটা শ্লোক বলছে - কোনো অবস্থাতেই মাংসাহার উচিত নয়!
দ্বিজ যদি ব্যাঙের ছাতা, পোষা শুয়োর, পোষা মুরগী, পেঁয়াজ রসুন, শালগম খায় তবে তৎক্ষণাৎ পতিত হবে।[১৩] কোনটা মানবেন?
কাজেই খাদ্যাভাসের ঔচিত্য নির্ধারণ করতে হবে মেডিক্যাল সায়েন্স এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা দেখে, কোন পুঁথি কী বলেছে তার হিসেবে নয়"।[১৪]
বটগাছের দৈবত্ব
আমরা হরদম শুনি - বটগাছ বড় পবিত্র, বটসাবিত্রীর ব্রতকথা। এর কাণ্ডের গায়ে লাল সুতো বেঁধে প্রদক্ষিণ করে পূণ্যার্জন করার কথা। আরও বলা হয় - এতে দেবতার বাস, তাই কাটলে অমঙ্গল হয়। হাসপাতাল বা রাস্তা নির্মাণে বটগাছ কাটতে গিয়ে কত লোক অসুখে পড়ে, মারা যায়।
সাভারকর তিরস্কারে নির্মম - "এগুলো মূর্খতা। মুসলিম এবং ক্রিশ্চানরা তো এই গাছ কাটে, তাদের কোন অমঙ্গল হয়েছে? বটগাছ, তুলসী গাছ - এদের ভৈষজিক মূল্যের জন্য সুরক্ষা করা উচিত। যেই কোনো আস্থা এবং আচরণের গায়ে ধর্মের শীলমোহর লাগিয়ে দেওয়া হয়, অমনই সেটা অন্ধ বিশ্বাসে পরিণত হয় - সেটা হিন্দু, মুসলমান বা ক্রিশ্চান, ইহুদি যারই হোক। এই বিন্দুতে এসে বুদ্ধি থেমে যায়, ভক্তি শুরু হয়"।[১৫]
নবগ্রহ
গ্রহ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। ওরা জড় পদার্থ, নিজস্ব এবং পূর্বনির্ধারিত গতিতে ঘুরে চলেছে। তুমি তাদের পুজো করলেও গতিপথ বদলাবে না। সূর্য বন্দনা করলে রোদের তেজ কমে না। তাদের খুশি করতে যজ্ঞ করা এবং ব্রাহ্মণকে দক্ষিণা দেওয়া হল মূর্খতার উপাসনা।[১৬]
পঞ্জিকার নির্দেশ হল পাগলামি এবং ঠগবাজির সমাহার।[১৭]
আজকে ইলেক্ট্রিসিটি আছে। আমরা কি পূর্বপুরুষদের অনুকরণে ঘরে প্রদীপ জ্বালাবো?[১৮]
অনেক জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায় বলে যে তাদের ঈশ্বরই আসল, এবং সবচেয়ে শক্তিমান। যজ্ঞ, মন্ত্রপাঠ, উপবাস এবং দানের মাধ্যমে ওরা ঈশ্বরের আরাধনা করে। কিন্তু শক্তিশালী শত্রুর আক্রমণে এরা বারবার পরাজিত হয়। কোনো দৈবী শক্তি বাঁচাতে আসে না।[১৯]
আমাদের যত অনুষ্ঠান, বিশ্বাস, মন্ত্রপাঠ আজ বিজ্ঞানের আবিষ্কার বা ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে তা পরিত্যাগ করতে হবে। মন্ত্রপাঠ সোমনাথ মন্দিরকে বাঁচায়নি, বিশ্বশান্তি আনবে? যখন প্লেগের মতো মহামারী আসে তখন হিন্দু-মুসলমান সবাই মালা জপে, দেবতার কাছে বলি দেয়, মাদুলি-তাবিজ পরে, নামাজ এবং প্রার্থনা শুরু করে। কিন্তু এগুলো কোনো কাজে আসে না।
ইউরোপে ওরা টিকা বের করল। নগর এবং ঘরে ঘরে ইঁদুর মারল, নোংরা পরিষ্কার করল।...
আমরা জলে নৌকো ভাসাতে গেলে আগে নারকোল ফাটাই, মন্ত্র পড়ি। কিন্তু নৌকোতে ফুটো হলে গীতার শ্লোক, কোরানের আয়াত, বাইবেলের সুসমাচার বা মাদুলি মাঝিকে রক্ষা করে না।
বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং চর্চায় ধর্মশাস্ত্র, জ্যোতিষের স্থান নেই। দুই অণু হাইড্রোজেন এক অণু অক্সিজেন মিলিয়ে জল পাওয়া যাবে। সেটা হিন্দু, মুসলমান বা ক্রিশ্চান যেই করুক। মুহূর্তটি শুভ বা অশুভ যাই হোক।[২০]
ইংরেজরা যে বিশাল প্রাসাদ বানিয়েছে সেটা কি আমাদের বাড়িগুলোর থেকে দুর্বল? ওরা কোন বাস্তুশাস্ত্র মেনেছে? আকাশে তাদের এরোপ্লেন ওড়ে কোন ধর্মশাস্ত্র মেনে?
সংবাদে প্রকাশ, এক ব্যক্তি বুকে হেঁটে প্রয়াগরাজ থেকে হরিদ্বার গিয়েছে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্যে। সাভারকর বললেন - "ঈশ্বর তোমাকে দুটো পা দেননি"?[২১]
সাভারকর কোনো বিশ্ব-নিয়ন্তা বিধাতার বা করুণাময় ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না।[২২] প্রার্থনায় কোনো ফল হয় বলে মনে করেন না। তাঁর স্বপ্নের ভারতে সমস্ত মৃতদের সৎকার বৈদ্যুতিক চুল্লীতে হবে।
বরং বলেন মানুষকে বিশ্ব-প্রকৃতির নিয়মকে কার্য-কারণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বুঝতে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে। উদাহরণ হিসেবে বলেন, নাস্তিক রাশিয়া কেমন করে বিজ্ঞান ও যন্ত্রের ব্যবহারে এগিয়ে চলেছে![২৩]
অসুস্থ সাভারকর ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তাঁর মরদেহ বিনা আড়ম্বরে ইনসিনারেটরে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। বাড়ির কাছে কাকেদেরও কিছু আহার বা পিণ্ড দেওয়া হল না। সাভারকরের কাছে হিন্দু ধর্ম ব্যক্তিগত আচরণ না হয়ে রাজনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ রইল।[২৪]
তাহলে সংঘ পরিবারের সঙ্গে সাভারকরের চিন্তার ঐক্য কোথায়?
গবেষক ডক্টর জানকী বাখলে বলেছেন, ধার্মিক আচার আচরণ এবং খাদ্যখাদ্য বিচারে সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও সাভারকরের একবগ্গা মুসলিম ঘৃণা আমাদের অবাক করে।
সংঘ পরিবার হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি নিয়ে সাভারকরের তিক্ত মন্তব্য এ জন্যেই লুকিয়ে রাখে। কারণ, এসব সত্ত্বেও এই একটি জায়গায় দু’জনের বড্ড মিল।
তথ্যপঞ্জিঃ
১) Purandare, "Savarkar, The True Story of The Father of Hindutva", p. 345.
২) ibid, p. 346.
৩) ibid, p. 348.
৪) সমগ্র সাভারকর বাঙ্ময়, খণ্ড ২, পৃঃ ৬৭৮ এবং খণ্ড ৩, পৃঃ ৩৪১।
৫) সাভারকর সমগ্র, খণ্ড ৭, পৃঃ ৩১৫-১৬, ৪৪৩-৪৬, ৪৪৫-৪৯ এবং খণ্ড ৮, পৃঃ ৩৫৬-৬৮, ৩৭৬-৯৭, ৪২১-৩৪।
৬) সাভারকর সমগ্র, খন্ড ৮, পৃঃ ৩৫৬-৬৭, ৩৭৬-৮৬, ৩৮৭-৯৬, ৪২৩-২৪।
৭) সাভারকর সমগ্র, খণ্ড ৮, পৃঃ ৪৩৩।
৮) অরুণ শৌরি, "দ্য নিউ আইকন", পৃঃ ৬; পেঙ্গুইন ভাইকিং, ২০২৫।
৯) সাভারকর সমগ্র, খণ্ড ৮, পৃঃ ৩৫১।
১০) ঐ, পৃঃ ৪৪৬-৪৭।
১১) সাভারকর সমগ্র, খণ্ড ৮, পৃঃ ৪৭২-৭৩।
১২) সাভারকর উদ্ধৃত করেছেন - 'মনুস্মৃতি' ৩/২৭০, ৫/২৩ এবং ৫/৩৫।
১৩) 'মনুস্মৃতি' পঞ্চম অধ্যায়, শ্লোক ৩৫, ২৭, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৮, ৪৯।
১৪) সাভারকর সমগ্র, খণ্ড ৮, পৃঃ ৪৩৭-৪১।
১৫) সাভারকর সমগ্র, খণ্ড ৮, ৬৭৩-৭৪ এবং ৪৬২-৬৫।
১৬) ঐ, খন্ড ৩, পৃঃ ৬৫৯-৬০, ৬৬৭-৬৮।
১৭) ঐ, পৃঃ ৬৬৯-৭০।
১৮) ঐ, পৃঃ ৬৭১।
১৯) ঐ, খন্ড ৭, পৃঃ ৩৮৫-৯৪।
২০) সাভারকর সমগ্র, খণ্ড ৭, পৃঃ ৪১৫-১৬, ৪৯৯-৫০০।
২১) ঐ, খন্ড ৮, পৃঃ ৩৪৭-৫১।
২২) Keer, Dhananjay "Veer Savarkar", p. 201.
২৩) Ibid, p. 203-28, Tenth Chapter: "Rationalist and Author".
২৪) Purandare, "Savarkar, The True Story of The Father of Hindutva", p. 137.