আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা ● ১৬-৩১ মার্চ, ২০২৫ ● ১-১৫ চৈত্র, ১৪৩১

প্রবন্ধ

জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অবহেলা

প্রতীশ ভৌমিক


।। ১ ।।

মেদিনীপুর হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ ‘রিঙ্গার ল্যাকটেট’ (আর. এল.) স্যালাইনে একজন প্রসূতির মৃত্যু ও আরও কয়েকজনের সঙ্কটজনক পরিস্থিতিকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ পশ্চিমবঙ্গবাসীর নজর কেড়েছে, তাদের আতঙ্কিত করেছে।

খবরে প্রকাশ ওই আরএল স্যালাইনটি ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং বোতলে ছিল ছত্রাক। যে স্যালাইন ব্যবহার করা হয়েছিল সেই কোম্পানির স্যালাইনকে ইতিমধ্যে কর্নাটক সরকার ও রাজ্য সরকার উভয়েই নাকি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ৯ ও ১১ নভেম্বর ২০২৪ - এই সংস্থার আরএল-এ সংক্রমণের কারণে চারজন মহিলার মৃত্যু ঘটেছিল কর্নাটকের বেল্লারিতে। ওই স্যালাইনে ক্ষতিকারক ‘ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোটক্সিন’ পাওয়া গেছিল। রায়গঞ্জে অবস্থিত 'পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস্' কোম্পানির তৈরি রিঙ্গার ল্যাকটেট সহ আরও কয়েক রকম আইভি স্যালাইন-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। তারপরেও কলকাতার SSKM, NRS মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ এই আরএল স্যালাইন নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তাতেও সরকারের ঘুম ভাঙ্গেনি। এরপরও স্বাস্থ্য ভবন, সি. এম. এস.-এর কোনো নজরদারি ছিল না। যেহেতু মেডিক্যাল স্টোর কর্তৃপক্ষ খাতায় এন্ট্রি করে ওষুধের তালিকা সহ প্রত্যেকটি ওষুধের তথ্য রাখে, সেজন্যই একথা বুঝতে হবে যে স্টোর থেকে ওষুধ বন্টনের সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ফাংগাস আক্রান্ত ওষুধ অথবা নিষিদ্ধ ওষুধ সেইসব না জেনে বা জেনেই ছাড়া হয়েছিল অসুস্থ রোগীর ব্যবহারের জন্য। এতবড় গাফিলতির জন্য সকলের অভিযোগের আঙুল স্বাস্থ্য ভবনেরই দিকে। রাজ্য সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রক এতো বড় গাফিলতি ও দুর্নীতিকে অস্বীকার করে ঘটনার দায়ভার সরাসরি ঠেলে দিয়েছিল ছয়জন জুনিয়র ও ছয়জন সিনিয়র চিকিৎসকের উপরে। সরকারী চূড়ান্ত গাফিলতি ও দুর্নীতি চাপা দিতে কয়েকজন চিকিৎসককেই বলি দিতে চেয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

২০১২ সাল পরবর্তীতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের স্যালাইন বোতলে ছত্রাক, অথবা ফেয়ার প্রাইস থেকে কেনা মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ অথবা অতিশয় নিম্নমানের ওষুধ পাওয়ার বেশ কিছু পুরানো খবর পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৩ সালের ৪ মে-র খবরে প্রকাশিত ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান সম্পর্কে 'ডক্টরস ফোরাম'-এর থেকে তোপ দেগে বলা হয়েছিল ওই দোকানগুলোতে ওষুধ কম পুঁজির, অনামী কোম্পানি হতে তৈরি করে ইচ্ছেমতো দাম ছাপিয়ে মানুষকে ডিসকাউন্টের লোভ দেখিয়ে চূড়ান্তভাবে ঠকাচ্ছে। সেইসব ওষুধের কোম্পানির পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় গুণমান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না, স্বাস্থ্য বিভ্রাট ঘটছে৷ উপরন্তু এইসব ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দিয়েও বাজারের অন্যান্য নামি কোম্পানির ওষুধের থেকে অনেক বেশি।

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপর যে দায়ভার চাপানো হচ্ছিল সেই মিথ্যের পর্দা ফাঁস হয়েছে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরের মাধ্যমে। জনস্বাস্থ্য ও তার অধিকারকে জলাঞ্জলী দিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই প্রয়াস রুখে না দিলে সরকারি হাসপাতালে মানুষের মৃত্যুর ঢল বাড়বে। কেবল সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যের ওষুধ, স্যালাইন ও ফেয়ার প্রাইস থেকে কেনা ওষুধের থেকেই বিভ্রাট হচ্ছে। বাজার হতে কেনা রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন, বেসরকারি হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির স্যালাইন নিয়ে কোনো অভিযোগ হয়নি। তাহলে কি একথা বুঝতে হয় যে জনগণের জন্য হাসপাতালের বিনামূল্যের ওষুধের নামে বিষাক্ত ওষুধের কারবারিদের সযত্নে লালন পালন করা হচ্ছে, তাও আবার মানুষের জীবনের বিনিময়ে!

২০১৩ সালের ১ জুন দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত খবর বলছে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। প্রকাশিত খবরে বলছে কনভেন্ট রোডের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে জানানো হয়েছিল চিকিৎসকদের অভিযোগ, তবে এইজন্য ড্রাগ কন্ট্রোল উদ্বিগ্ন হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি৷ বরঞ্চ আবারও ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে ন্যায্য মূল্যের দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের গায়ে নতুন স্টিকার লাগিয়ে মানুষ মারার ব্যবসা করেছে ফেয়ার প্রাইসের এই ঠিকাদারেরা।

১৪ জানুয়ারি, ২০১৫ আবারও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে রাজ্যজুড়ে স্টিকার লাগিয়ে দ্বিগুণ দামে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে। শুনলে আরও অবাক হতে হয়, বিনা টেন্ডারে পেসমেকার কেনার অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে - সেকারণেই প্রশ্ন উঠেছে ওষুধের গুণ ও মানের। পাশাপাশি শীর্ষ কর্তাদের চোখ এড়াতে ড্রাগ কন্ট্রোলের সমীক্ষা রিপোর্ট নাকি ফাইল থেকে বেরই করা হয়নি, তথ্য চেপে যাওয়া হয়েছিল।

২০১৬-র ১২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর হল, বিনামূল্যের চিকিৎসার নামে গরীব মানুষকে প্রতারণা করা হচ্ছে, বিশেষত ন্যায্য মূল্যের ওষুধের নামে রাজ্যে ভাওতাবাজি চলছে, ফলে জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় অসঙ্গতি ও ভেজাল ওষুধের জন্য চিকিৎসকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হলেও নাকি কোনো লাভ হয়নি।

হাসপাতালে সরবরাহ করা চিকিৎসা সরঞ্জাম, সিরিঞ্জ, গ্লাভস নিয়ে যখন রিসাইক্লিং সম্পর্কিত দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য আর. জি. কর কাণ্ডে প্রশ্নের সম্মুখীন হয় রাজ্য প্রসাশন তখন কি বুঝতে পারে দুর্নীতি আজ জনস্বাস্থ্যের শক্ত ভীত সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছে?

১৯ অক্টোবর, ২০১৩-র প্রকাশিত খবর, উত্তর দমদম পৌরসভায় পরিচালিত মাতৃসদনে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাঠানো স্যালাইন বোতলে ছিল ছত্রাক, যা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

৮ আগস্ট, ২০১৪ হাওড়া হাসপাতালের ন্যায্য মূল্যের দোকানের আবারও স্যালাইনের বোতলে ছত্রাক মেলে। এখন প্রশ্ন হল, যে বিষাক্ত স্যালাইন থেকে মানুষের যে ক্ষতি হচ্ছে, কিডনি, হার্ট, ব্রেইন, লিভার প্রভৃতি নষ্ট হচ্ছে, মারা যাচ্ছে সেইসব তো নতুন ঘটনা নয়, যা ক্রমান্বয়েই ঘটে আসছে। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে এই রিঙ্গার ল্যাকটেট থেকে বিষক্রিয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে যা রাজ্য প্রশাসনের অজানা নয়। প্রকাশিত সমস্ত তথ্যাদি প্রমাণ করে যে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের দেউলিয়া মনোভাব এই রাজ্যের মানুষের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীন। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা, সুরক্ষা আজ অনিশ্চিত।

এতকিছুর পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খবরে প্রকাশিত তথ্য বলছে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। আসলে ওষুধ নিয়ে দুর্নীতি আজ এক প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সমস্ত ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের অবতারণা করতেই হয় -

১) এই ঘটনা তো প্রথম নয়, অনেক দিন ধরেই ঘটছে, তাহলে রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য ভবন সব জেনেও এত দিন চুপ করে ছিল কেন?

২) নিজেদের সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতি জেনেও চিকিৎসকদের উপর দায় চাপানো হল কেন?

৩) আগেই এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ হয়নি কেন?

৪) 'পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস্' কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে?

অবশেষে যদিও স্বাস্থ্য সচিব নির্দেশিকা জারি করল আদর্শ গুণমান সম্পর্কিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নেওয়া হবে বলে, ড্রাগ কন্ট্রোল দেখতে চায় রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে। এই হল রাজ্য প্রশাসনের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রশ্নহীন আনুগত্যের চেহারা।

।। ২ ।।

কেন্দ্রীয় সরকারের কথা তথৈবচ। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার মূল্য নিয়ন্ত্রিত ওষুধের সংখ্যা কমিয়ে কর্পোরেটদের সুযোগ করে দিতে মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বদলেছে।পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ ও ভ্যাক্সিন সংস্থাগুলোকে রুগ্ন করে কর্পোরেটদের হাতে সঁপে দিয়ে মানুষের অধিকারকে ছিনিয়ে নিয়েছে। ওষুধের দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া অথচ কোম্পানির পরিকাঠামো নেই ফলে ওষুধের পর্যাপ্ত গুণমান থাকছে না। করোনাকালে দেখেছি রাষ্ট্রের কাছে সমস্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচার থাকা সত্ত্বেও দুটি কর্পোরেটকে ভ্যাক্সিন তৈরির বরাত দিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তারা ইলেক্টোরাল বন্ড কিনে ঘুষ দিয়েছিল কেন্দ্রের সরকারি দলকে। করোনাকালে এই ওষুধের মৌল বা এ. পি. আই. পাওয়া যাচ্ছে না বলে বাজারের বিক্রিত ওষুধের দাম ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল - কর্পোরেটদের স্বার্থে সেই দাম আর কমানো হয়নি।

এর পরেও একবার ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল। আর বছর বছর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি তো এখন নিয়ম করেই হচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনের সময় ঝুলি থেকে বের হল আরেকটি বেড়াল। কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই শাসকদল ইলেক্টোরাল বন্ডের নামে ওষুধ কোম্পানিগুলো থেকে বিশাল পরিমাণ ঘুষ নিয়েছে, পরিবর্তে, মনে করা যায়, তারা ভেজাল ওষুধের বিক্রেতাদের ছাড় দিয়েছে, ফলে ওষুধ এবং জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় মানুষ এখন সরকারের খাঁচায় বন্দী গিনিপিগ ছাড়া আর কিছু না।

।। ৩ ।।

কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই মহান সরকার কেবল নির্বাক দর্শকের ভূমিকায়। লুটেরা কর্পোরেট বন্ধুরা জনগণকে সবদিক থেকে ক্রমশ ঘিরে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের নজরদারি করতে ড্রাগের ডিপার্টমেন্টগুলোকেই সজাগ রাখার কথা। তারা ওষুধের গুড ম্যানুফ্যাকচারিং সার্টিফিকেট আছে কিনা দেখে। কোয়ালিটি, স্টেবিলিটি, কোয়ান্টিটি, পিওরিটি ঠিক আছে কিনা দেখে। সন্দেহ হলে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স স্পেকট্রোস্কোপি বা গ্যাস ক্রোম্যাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে জাল ওষুধ সনাক্ত করে দোষীদের শাস্তি দেয়। তারা ছাড়পত্র না দিলে বাজারে ওষুধ বিক্রি হওয়া মুশকিল। ড্রাগ অথরিটি কড়া হাতে পদক্ষেপ করলে ভেজাল ওষুধের উৎপত্তিস্থলেই তার সমাপ্তি ঘটে। উপরতলা থেকে নিচে রিটেল (বাজার) পর্যন্ত, সর্বত্র ড্রাগ ইন্সপেক্টরদের উপস্থিতি থাকলেও জাল ওষুধের কারবার ক্রমশ বাড়ছে কারণ আমাদের দেশের আইনের ফাঁক রয়েছে, নজরদারিতে ত্রুটি ও দুর্নীতি রয়েছে। বিদেশে কঠিন আইনের ঘেরাটোপে FDA-র নজরদারিতে ইউকে বা ইউএসএ-তে ২০ বছর পর্যন্ত জেল ও বিশাল পরিমাণ ফাইন দিয়ে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবার মতো অবস্থা হয়, সেকারণে দুর্নীতি করার সাহস থাকে না। অথচ আমাদের দেশে গত এক বছরে ২০২৪ মার্চ থেকে ২০২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯৭৬টি ওষুধে ভেজাল পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এই রাজ্যে পাওয়া ভেজাল ওষুধের সংখ্যা ৩০২টি।

প্রসঙ্গত করোনাকালে দেখেছি 'রেমডিসিভির' নামে এ্যান্টিভাইরাস ইনজেকশন নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, মৌল ওষুধটি নিয়ে কয়েকটি কোম্পানি ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করেছিল, ওই ওষুধের মধ্যেই ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতি ছিল, ফলে বহু মানুষের ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও, অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো কেন্দ্রের সরকারি দলকে ইলেক্টোরাল বন্ড উপহার দিয়ে ছাড় পেয়ে গিয়েছিল।

২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশের প্রায় ৩০টি কোম্পানি, এক হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ইলেক্টোরাল বন্ড মারফত কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকারি দলকে ঘুষ দিয়ে জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তারা ওষুধের দাম বাড়িয়ে তার উপর ডিসকাউন্ট দিয়ে দেশের ওষুধ বাজারে ভেজাল ওষুধ বিক্রির মৃগয়া ক্ষেত্র বানিয়েছে। তারা অনেকেই কোটি কোটি টাকার ইলেক্টোরাল বন্ড কিনে নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছিল। এরমধ্যে ডাঃ রেড্ডিজ ল্যাব, টরেন্ট, ন্যাটকো, হেটেরো ড্রাগ, হেটেরো ল্যাব, বায়োকন, এ্যালেম্বিক, এম. এস. এন., ইনটাস, লুপিন, ম্যানকাইন্ড, মাইক্রো প্রভৃতি কোম্পানিগুলো কেউ ইনকাম ট্যাক্স, কেউ এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট-এর চাপে, কেউ কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইস্যুতে কেন্দ্রের ও রাজ্যের সরকারি দলকে টাকা দিয়ে ছাড় পেয়েছে। আইনের চোখে ধুলো দিয়েছে। এখন সেই সরকারের তথ্যই বলছে গত এক বছরে ভ্যাক্সিন, ইনজেক্টেবল আইটেম, স্যালাইন সহ ৯৭টি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে যেগুলো Not Standard Quality, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কোম্পানির ৩০২টি ওষুধ রয়েছে।

আশ্চর্যজনকভাবে দেখি দেশের আইন ড্রাগস এ্যান্ড কসমেটিক এ্যাক্ট ১৯৪০-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকার ও কর্পোরেট ওষুধ সংস্থা উভয়েই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে, তাতে জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নাই বা থাকল। ফলে জনস্বাস্থ্যের অধিকার ও পরিষেবা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সরকারি সংস্থার পরিবর্তে বেসরকারী উদ্যোগের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মানুষের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।