আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ দ্বাবিংশ সংখ্যা ● ১৬-৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ● ১-১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

সমসাময়িক

কোনো প্রশ্ন কোরো না


অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে বাংলার মহামান্য প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, শ্রীযুক্ত শ্রীল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখ আছে। সিঙ্গুর জমি অধিগ্রহণ বিক্ষোভের সময়ে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

আজকের বাংলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তার সঙ্গীরা আছেন - তারা আছেন কিশোর পাঠ্য ইতিহাসের পাতায়।

তারা আছেন বর্তমানে - খবরের কাগজের পাতায়, মিডিয়ার বাইটে। আছেন বাঙালির যৌনতা বঞ্চিত গোপন জীবনে লিবিডোর অনুপ্রেরণা হয়ে।

তারা আছেন, তারা থাকবেন।

কারণ বাঙালি এখন প্রশ্ন করে না। বাংলা মিডিয়া বান্ধবীদের নিয়ে বাইট দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয়েছিল ইতিমধ্যে নিযুক্ত ২৫,৩২৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। মামলা চলাকালীন তদন্তকারী সংস্থা, আইনজীবীরা কিছু জনের 'ওএমআর শিট' জোগাড় করে আদালতে দেখিয়েছিলেন; সেই শিট ছিল ফাঁকা; তারা শূন্য পেয়েও চাকরি পেয়েছিলেন। এদের সংখ্যা অন্ততপক্ষে ৮,৩২৪ জন। তবে শূন্য তো শুধু শূন্য নয়, সঙ্গে মালকড়ি ছিল - তার কিছু উচ্ছিষ্ট অংশ জমেছিল শ্রীযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বান্ধবীর দুটি অ্যাপার্টমেন্ট-এ।

যোগ্য শিক্ষকদের এই পরিণতির জন্য প্রধান দায়ী নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশন, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সর্বোপরি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার। এটি একটি সংগঠিত দুর্নীতি এবং এই প্রক্রিয়ায় কয়েকশো কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন হয়েছে।

মিডিয়া প্রশ্ন করেনি এই চূড়ান্ত দুর্নীতি নিয়ে যা ইতিমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রমাণিত। কেন আজ স্কুলগুলোর ১৫-১৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়ে পথে বসেছেন? প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শিক্ষকহীন স্কুলগুলো সম্পর্কে তার দায়িত্ব কি তিনি অস্বীকার করতে পারেন? রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করছে যে নিয়োগ তার দায় কি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী নেবেন? এই দায় কার?

মিডিয়া প্রশ্ন করতে ভয় পায়।

আর তাই ডঙ্কা বাজিয়ে, বাজি ফাটিয়ে, মিছিল করে, কলকাতা কাঁপিয়ে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্জলি যাত্রার অন্যতম প্রতিনায়ককে অভ্যর্থনা করে গৃহে নিয়ে যায় তার সাগরেদরা।

কে জানে ভবিষ্যতে তিনিই হয়তো আবার হবেন নতুন বাংলার, নতুন বেহালার নব কারিগর।

এই ফাঁকে, আসুন, আমরা বঙ্গবাসী একটু শীতঘুম ঘুমিয়ে নিই।

কোনো প্রশ্ন করি না।
কথা বলি না
শব্দ করি না,
আমরা নিদ্রা গিয়েছি
গোলযোগ সইতে পারি না।