আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ প্রথম সংখ্যা ● ১-১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ● ১৬-২৯ পৌষ, ১৪৩১
সমসাময়িক
অশান্ত মায়ানমার
গৃহযুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ভারতের পুবের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার। সেখানকার বাসিন্দাদের নিত্যদিন ঘুম ভাঙছে কামান-বন্দুকের গোলাগুলির শব্দে। কোথাও কোথাও চলছে বিমানবাহিনীর বোমা হামলা। এলাকায় এলাকায় শুধুই ভারী বুটের পদধ্বনি! পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে সিরিয়ার মতো ওই দেশের শাসনভারও বিদ্রোহীদের হাতে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। স্বভাবতই ভারতের জন্য চিন্তার বিষয়। বাংলাদেশও কি স্বস্তিতে আছে?
একুশ শতকে অল্প কিছু সময়ের জন্য গণতন্ত্রের মুখ দেখেছিল মায়ানমার। ২০২১-র ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী আউং সান সু চি’র দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’র নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করেছিল মায়ানমার সেনা। শুরু হয়েছিল সামরিক জুন্টার শাসন। তার আড়াই বছরের মাথায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে সে দেশের তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী - ‘তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ), ‘আরাকান আর্মি’ (এএ) এবং ‘মায়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’ (এমএনডিএএ)-র নয়া জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ সামরিক জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল 'অপারেশন ১০২৭'।
পরবর্তী সময়ে জুন্টা-বিরোধী যুদ্ধে শামিল হয় ‘চিন ন্যাশনাল আর্মি’ (সিএনএ), ‘চায়নাল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স’ (সিডিএফ), ‘কাচিন লিবারেশন ডিফেন্স ফোর্স’ (কেএলডিএফ) এবং সু চি’র সমর্থক স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’-এর সশস্ত্র বাহিনী ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’ (পিডিএফ)। মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী শক্তির স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’, জুন্টা বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘শান স্টেট প্রোগ্রেস পার্টি’ এবং তাদের সশস্ত্র শাখা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির প্রতি সমর্থন জানায়। বিদ্রোহীদের মদতপুষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘দ্য ইউনাইটেড ওয়া স্টেট পার্টি’ (ইউডব্লিউএসপি) ইতিমধ্যেই কয়েকটি ‘মুক্ত’ এলাকায় সমান্তরাল সরকার চালানো শুরু করে দিয়েছে। ক্ষমতা দখলের চতুর্থ বর্ষপূর্তির বাকি মাত্র দেড়-দু’ মাস। বিদ্রোহী বাহিনীর অগ্রগতির মুখে ততদিন কি টিকতে পারবে জুন্টার বাহিনী?
মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সু চি’র সমর্থক স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ জানিয়েছে, চিন প্রদেশের ৮৫ শতাংশই বিদ্রোহী জোটের দখলে চলে এসেছে। সামরিক জুন্টা সরকারের বাহিনীকে হটিয়ে তাইল্যান্ড এবং চীনের সীমান্তবর্তী এলাকার বড়ো অংশ কয়েক মাস আগেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বিদ্রোহী জোট। ডিসেম্বরের (২০২৪) শুরুতে বৃহত্তম বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী 'আরাকান আর্মি’র নেতৃত্বে বিদ্রোহী জোট দখল করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশ। জুন্টাবিরোধী নতুন জোট ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর শরিক ‘ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স’, সাগাইন অঞ্চলে সক্রিয় ‘ইয়াও আর্মি’ এবং ‘মনিওয়া পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’ চিন প্রদেশ দখলের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ মায়ানমারের তাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে মানেরপ্লা গ্রাম দখল করে ‘কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ বা কেএনইউ নামের সশস্ত্র গোষ্ঠী। একসময়ে এখানেই ছিল তাঁদের সদর দফতর। প্রায় তিন দশক পর সেই এলাকা কেএনইউ পুনর্দখল করল। কেএনইউ এই ঘটনাকে 'বড়দিনের উপহার' বলে বর্ণনা করেছে। জুন্টা সেনার বিপুল হাতিয়ার এবং গোলা-বারুদ কব্জা করেছে কেএনইউ। এর মধ্যে রয়েছে ১২০ এবং ৮১ মিলিমিটারের ছোটো কামান।
১৯৪৮ সাল থেকে স্বাধীন কারেন রাজ্য প্রতিষ্ঠার দাবিতে মায়ানমারের সরকারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে আসছে সেখানকার বিদ্রোহী কেএনইউ গোষ্ঠী। ১৯৭৫-এ মানেরপ্লার ‘কাউথুলেই’তে রাজধানী তৈরি করে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। কিন্তু পরবর্তী কালে সেখানকার একাধিক উপদলের সাহায্য নিয়ে ১৯৯৫-এর জানুয়ারিতে মানেরপ্লা দখল করে সামরিক বাহিনী।
প্রথম দিন থেকেই জুন্টা শাসনের বিরোধিতা করে এসেছে কেএনইউ। ২০২৪-এ আর এক সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পিপলস্ ডিফেন্স ফোর্স’-এর (পিডিএফ) সঙ্গে একযোগে তাই সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র মায়াওয়াদ্দি আক্রমণ করে কেএনইউ।
অন্যদিকে উত্তর মায়ানমারের নাগাল্যান্ড-মণিপুর সীমান্ত লাগোয়া ভামো এবং মানসি শহরে জোরালো আঘাত হানে ‘কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মি’ (কেআইএ)। গত ৪ ডিসেম্বর তাঁরা জুন্টার ৪৭ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সৈনিকদের থেকে ভামো’র একটি ঘাঁটি ছিনিয়ে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কেআইএ উত্তর মায়ানমারের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে স্বাধীন কাচিন রাজ্য তৈরি করতে চায়। ২০২১-এর সেনা অভ্যুত্থানের পর উত্তর মায়ানমারে কেআইএ আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়েছে। কাচিন ছাড়াও উত্তর সাগাইং এবং শান রাজ্যের অন্তত ১২টি শহর কেআইএ’র দখলে রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির হাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জুন্টার অন্তত ৩০০টি সেনাঘাঁটি।
এছাড়া ২০২৪-এর ডিসেম্বরে দক্ষিণ পূর্বের বঙ্গোপসাগর লাগোয়া রাখাইন রাজ্যের দখল নিয়েছে আরাকান আর্মি নামের আর একটি সশস্ত্র বাহিনী। মায়ানমারের এই এলাকাটির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক/নদী সীমান্ত রয়েছে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণে মায়ানমারের জুন্টা সরকারের ক্রমশ শক্তিক্ষয় হওয়ায় চীন বিপাকে পড়েছে। পূর্বের প্রতিবেশী দেশটিতে চীনের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের আওতায় সেখানে চলছে ‘চীন-মায়ানমার অর্থনৈতিক করিডর’ নির্মাণের কাজ। বিদ্রোহীদের আক্রমণে যা থমকে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই এলাকায় রয়েছে দুর্লভ খনিজ সম্পদের ভান্ডার। এত দিন কাচিন থেকে সেই খনিজ বিপুল পরিমাণে প্রতিবেশী দেশ চীন আমদানি করত। কিন্তু জুন্টা সরকারকে সরাসরি সমর্থন করে যাওয়ায় চীনের পক্ষে আর কতদিন খনিজ পদার্থ আমদানি করা সম্ভব তা বলা মুশকিল। কারণ, আপাতত কাচিন থেকে চীনের দুর্লভ খনিজ পাওয়ার রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
মায়ানমারের এই গৃহযুদ্ধ ভারতের পক্ষেও আশঙ্কার বিষয়। কারণ, ভারত-মায়ানমার সীমান্তের দৈর্ঘ প্রায় ১৬৫০ কিলোমিটার। বেশিরভাগ জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। পাহাড়-উপত্যকা সীমানা নির্ধারণ করে। তার উপরে সীমান্তের দু’ পাশেই একই জনজাতির মানুষের বসবাস। তা ছাড়া ২০০৫ থেকে রাখাইন এলাকায় চলছে ভারতের ‘কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রান্সজ়িট ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্পের কাজ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলকাতা বন্দর থেকে পণ্যসামগ্রী মায়ানমারের সিত্তয়ে বন্দর হয়ে রাখাইন রাজ্যের কালাদান নদী পেরিয়ে সরাসরি মিজোরামে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ধরনের প্রকল্পগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। যদিও আরাকান আর্মি রাখাইনের দখল নেওয়ার পর কালাদান প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছে। একই সঙ্গে এই সীমান্ত আবার ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে মাদক পাচারের জন্য উপযোগী। কাচিনের জুন্টা সরকার বিরোধী বাহিনী অবশ্য মাদক পাচার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তা বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ রাখাইনের ‘আন’ শহর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় আরাকান আর্মি। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আঞ্চলিক সেনা সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪, শুক্রবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি জানিয়েছে যে দু’ সপ্তাহ ধরে তীব্র লড়াইয়ের পর রাখাইনের আন শহরে অবস্থিত সরকারি সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের পতন হয়েছে। আন হাতছাড়া হওয়া ফৌজি সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। কেননা এটি ছিল রাখাইনে অর্থাৎ দেশের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি।
মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড রয়েছে ১৪টি। এসব কমান্ডের অধীনে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর আগে গত আগস্টে চীন সীমান্তবর্তী শান রাজ্যের রাজধানী লাশিও’তে অবস্থিত উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড হাতছাড়া হয়।
আরাকান আর্মির তরফে জানানো হয়েছে যে রাখাইনে জুন্টা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ড ব্রিগেডিয়ার ও চিফ অব স্টাফকে আটক করা হয়েছে। প্রাণে বাঁচাতে চাইলে দ্রুত আত্মসমর্পণ করার আবেদন জানিয়ে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ মায়ানমারের জুন্টা বাহিনীর প্রধানের কাছে আর্জি জানিয়েছেন বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে ধৃত ব্রিগেডিয়ার। একই সপ্তাহে জুন্টা প্রধান ইয়ঙ্গনের হামাউবি টাউনশিপে মহিলা অফিসার ক্যাডেটদের ‘পাসিং আউট’ অনুষ্ঠানে কোনও অবস্থাতেই বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সেনাকে। তার পরেই এল ধৃত সেনাকর্তার এই বার্তা।
পাশের শান রাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর পালেতোয়ার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে আরাকান আর্মি। সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সীমান্ত–লাগোয়া শহর মংডু’র নিয়ন্ত্রণ নেয় আরাকান আর্মি। ফলে মায়ানমার ও বাংলাদেশের ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত পুরোপুরি আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। এখন শুধু রাজ্যটির রাজধানী সিত্তয়ে জুন্টার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ডিসেম্বরের প্রথম এক সপ্তাহের যুদ্ধে মংডু, বুথিডং, পালেতাওয়ার শহর-সহ মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি’র দখলে চলে যাওয়ায় সেখানে বসবাসকারী কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। বিদ্রোহীরা সীমান্ত দখলের পরে বাংলাদেশ সরকার টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে। ফলে অসুবিধায় পড়েছেন চট্টগ্রাম ডিভিশনের বহু মানুষ।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে একদা জুন্টার ‘চক্ষুশূল’ রোহিঙ্গা মুসলিমরা চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরকারি বাহিনীর সহযোগী হয়েছিল! ‘আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি’, ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ (আরসা) এবং ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন’ (আরএসও)-এর যোদ্ধারা গত ছ’মাস ধরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় জুন্টা ফৌজের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়েছে। যদিও তাতে ‘শেষরক্ষা’ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা মুসলিমরা নতুন করে আরাকান আর্মির নিশানা হতে পারেন বলে আশঙ্কা।
রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য বলছে, ২০১৭-র আগস্টে মায়ানমারে গোষ্ঠীহিংসা শুরুর পরে সাত লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন। যাঁদের অধিকাংশই রাখাইন প্রদেশের বাসিন্দা। তারপরেও এখনও মায়ানমারে রয়েছেন কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা। গৃহযুদ্ধের জেরে নতুন করে শরণার্থীর ঢল নামলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষমতা দখলের চতুর্থ বর্ষপূর্তির জন্য অপেক্ষা আর মাত্র দেড়-দু’ মাসের। কিন্তু বিদ্রোহী জোটের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে ইতিমধ্যেই বেসামাল মায়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকার। সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে পড়শি তাইল্যান্ড এবং চীনের সীমান্তবর্তী এলাকার বড়ো অংশ আগেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বিদ্রোহী জোট। এ বার মাউংড, বুডিথং, পালেতওয়া-সহ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অধিকাংশ এলাকাই বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি দখল করেছে।
বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার জেরে জুন্টা সেনার গতিবিধি এখন রাজধানী নে-পি-ড, প্রধান বাণিজ্য শহর ইয়ঙ্গন এবং আরও কিছু বড়ো জনপদ-শিল্পাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিদ্রোহী জোট সেই এলাকাগুলি দখল করতে পারবে কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মায়ানমারের রাজধানী-সহ বড় জনপদগুলিতে মূলত সংখ্যাগুরু ‘বামার’ জনগোষ্ঠীর বাস। তাঁদের বড় অংশ জুন্টার সমর্থক। প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এখনও জুন্টার পাশে রয়েছেন। অন্যদিকে, মূলত প্রান্তিক এলাকার শান, কারেনের মতো জনজাতি গোষ্ঠীগুলি রয়েছে বিদ্রোহীদের জোটে।
একুশ শতকের প্রথম দশকে ভারতের বৈদেশিক নীতিতে যুক্ত হয়েছিল ‘লুক ঈস্ট’ সূত্র। পরের দশকে তা বদলে হয়ে গেল ‘অ্যাক্ট ঈস্ট’। দেশের পূর্ব দিগন্তে যেভাবে অশান্তির আলোড়ন চলছে তখন নতুন বছর ২০২৫-এ ভারত সরকার নতুন কোনো বৈদেশিক নীতির প্রবর্তন করে কিনা সেদিকেই এখন নজর রাখতে হবে।