আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ সপ্তদশ সংখ্যা ● ১-১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ● ১৬-৩১ ভাদ্র, ১৪৩২
প্রবন্ধ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধের নেপথ্যে
জয়ন্ত আচার্য
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের জন্য আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কাজ শুরু করার পর থেকেই বিশ্ব জুড়ে শোরগোল তুলেছেন নানা রকম বিবৃতি এবং ঘোষণার মাধ্যমে। এই ঘোষণাগুলির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হল বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির উপর মার্কিন সরকারের শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত। গত কয়েকমাস ধরে এই রকম উচ্চকিত ঘোষণার পর সে অনুযায়ী আমরিকা যুক্তরাষ্ট্র অনেক দেশের ক্ষেত্রেই শুল্কের হার বৃদ্ধি করে চলেছে, কোথাও শতকরা ২৫ ভাগ অথবা তারও বেশি। আমেরিকার কিছু মিত্র দেশকেও প্রথমে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রেহাই দেননি। যদিও তারাও পালটা শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, যেমন কানাডা বা মেক্সিকোর মতো দেশগুলি। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হঠাৎই ঘোষণা করে দিয়েছেন ভারতীয় পণ্য আমদানির উপর ২৫% শুল্ক চাপানোর কথা। তার উপর, ভারত রাশিয়া থেকে পেট্রোল কেনার কারণে উক্ত শুল্কের উপর চাপানো হবে আরও শতকরা ২৫% হারে অতিরিক্ত এক জরিমানা। ইতিমধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সব ঘোষণা কার্যকরী হতে শুরু হয়েছে।
কিন্তু কেন এমন ঘোষণা? অর্থনৈতিক যুক্তিতে বলে, কোনও দেশের আমদানি যখন রপ্তানির চেয়ে বেশি হয়, যাকে বলে বাণিজ্য ঘাটতি, তখন সেই ঘাটতি সামলাতে একটি দেশ এইভাবে আমদানির উপর শুল্ক বসিয়ে তার আমদানির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করে যাতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্য আসে। তাহলে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি কী এই চিরায়ত অর্থনৈতিক যুক্তিতে শুল্ক চাপানো শুরু করলেন? দেখা যাক, আমেরিকার বাণিজ্যে ঘাটতি এখন কত? অবস্থা কী খুবই সংকটজনক? ২০১৯ থেকে ২০২৪ - গত সাত বছরে আমেরিকার রপ্তানি অপেক্ষা আমদানির পরিমাণ ৫৭৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১০০০ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ তার বাণিজ্য ঘাটতি এখন ১ লক্ষ কোটি ডলারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
কী এত আমদানি করে আমেরিকা? কীসের ইঙ্গিত এই বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি? ২০২৩ ও ২০২৪ সালের কথাই ধরা যাক। ২০২৩-এ মোট ৩০৮০ বিলিয়ন ডলারের আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান মূলধনী দ্রব্য অথবা শিল্পজাত পণ্য, যেমন অটোমোবাইল, কম্পিউটার, ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি, সেমিকন্ডাক্টর, বিমানের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার। তারপরেই আছে ভোগ্যপণ্য। যথা পেট্রোলিয়াম, মোবাইল ফোন, পোশাক, ফার্নিচার, খেলনা সামগ্রী, ওষুধ ও ওষুধ প্রস্তুতের কেমিক্যাল, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, জুয়েলারি ও মূল্যবান পাথর। এই তালিকা এখানে দেওয়ার উদ্দেশ্য হল এই কথাটি বলে রাখা যে এই দ্রব্যগুলো এমন ধরণের যেগুলোর চাহিদা-স্থিতিস্থাপকতা কম, ট্রাম্প শুল্ক বসালে এবং তার ফলে দাম বাড়লেও আমেরিকার ব্যবসায়ী ও উপভোক্তাদের চাহিদা কমবে না। তাতে ঘাটতির তেমন বড় রকমের হেরফের হবে না।
আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতির সিংহভাগই যে দুটি দেশের সঙ্গে, সে দুটি দেশ হলো জাপান এবং চীন। এদের মধ্যে জাপান মিত্র দেশ হলেও চীনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক খুব মধুর তো নয়ই, বরং আর্থিক, রাজনৈতিক, সামরিক সবক্ষেত্রেই চীন সমান বলীয়ান ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। আমেরিকায় রপ্তানি করে চীনের যা ডলার উপার্জিত হয়, চীন তা আমেরিকার ট্রেজারি বণ্ডে বিনিয়োগ করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। আজ চীনের হাতে রয়েছে ৮০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমেরিকান ট্রেজারি বণ্ড বা সিকিউরিটি। সুতরাং জাপানের পরেই চীন শুধুমাত্র আমেরিকার বাণিজ্যের বৃহত্তম অংশীদারই নয়, চীনের কাছে আমেরিকার ঋণের পরিমাণও সর্বাধিক।
আমেরিকার মুকুটে পালক এখন অনেক। যেমন, সারা পৃথিবীতে সব দেশ মিলে একটি বছরে মোট যা দ্রব্য ও সেবা সামগ্রী সৃষ্টি করে তার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি শুধুমাত্র আমেরিকাতেই উৎপন্ন হয়। ২০২৩-এ আমেরিকার জিডিপি ছিল ২৭.৭২ ট্রিলিয়ন ভলার, মাথাপিছু আয় ৬৪২৩৩ ডলার। তবু তার ভরিল না চিত্ত। পৃথিবীর সবচেয়ে ঋণী দেশটির নামও আমেরিকা। প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকার ৪৭তম রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দেশটিকে পেয়েছেন, তা আজ গভীর সংকটে। যে সংকটের ছবিটা মাথাপিছু ৬৫০০০ ডলারের চাকচিক্য দিয়ে ঢাকা যাচ্ছে না। আমেরিকার জনজীবনে আয় ও সম্পদের বণ্টনের ভয়াবহ বৈষম্যের যে ছবি এঁকেছেন ফরাসী গবেষক টমাস পিকেটি, তা থেকে এই সংকটের গভীরতা ও ব্যাপ্তির আভাস পাওয়া যায় অবশ্যই।
আসলে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে সংকটের আবির্ভাব নতুন বা অপরিচিত ঘটনা নয়। ছোটখাটো সংকটের ঘটনার স্রোতে ভাসতে ভাসতে ধনতন্ত্রের এক অভূতপূর্ব সংকট দেখা দিল গত শতাব্দীর তিরিশের দশকে। 'মহামন্দা' নামে ইতিহাস-খ্যাত হয়ে থাকল ধনতান্ত্রিক দুনিয়ার এই সংকট। আমেরিকা ইওরোপের যেখানেই ধনতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল সেই সময়ে, সেখানেই এই মহামন্দার প্রভাবে দেখা গেল অভূতপূর্ব বেকারত্ব। আমেরিকায় তো প্রতি চারজনে একজন বেকার হয়ে পড়লেন। কলকারখানায় জমতে থাকল অবিক্রীত পণ্যের স্তূপ। ধনতন্ত্রের পূজারী যে সব অর্থনীতিবিদ ছিলেন, উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোর যাঁরা ছিলেন কর্ণধার, যাঁরা অবাধ প্রতিযোগিতামূলক 'মার্কেট'-এর অত্যাশ্চর্য ক্ষমতায় বিশ্বাস রাখতেন - যে ধনতন্ত্রই এনে দেবে সুখ, সমৃদ্ধি ও পূর্ণ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, তাঁরা 'মহামন্দা'-র সংকটে বিমূঢ় হয়ে পড়লেন। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট। কেম্ব্রিজে অর্থনীতি পড়াচ্ছেন জন মেনার্ড কেইনস। ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির উৎকর্ষে ঘোর বিশ্বাসী হয়েও তিনি বুঝলেন এই সংকটের তাৎক্ষণিক ও স্বল্পকালীন সমাধান হল রাষ্ট্রের উদ্যোগে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ। কারণ ধনতান্ত্রিক দেশগুলোর মানুষের চাহিদার ঘাটতি থেকেই মন্দার উদ্ভব। রুজভেল্ট এই নিদান ও পরামর্শ গ্রহণ করলেন। শুরু হল একাদিক্রমে রাষ্ট্রের সক্রিয় উদ্যোগে নানাবিধ কর্মকাণ্ড, নির্মাণ কাজ।
ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল প্রায় সবকটি ধনতান্ত্রিক দেশ যার ফলে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়তে থাকল। ফলে বিগত শতাব্দীর তিরিশের দশক থেকে 'মহামন্দা'-র কৃষ্ণগহ্বর থেকে বের হয়ে আমেরিকা ও অন্য পুঁজিবাদী দেশগুলিতে নিরবিচ্ছিন্ন ক্রম-উন্নতির সুবাতাস বইতে শুরু করল এবং সেই সুবাতাস চলল ১৯৭০-এর প্রথম দু' তিন বছর পর্যন্ত। আমেরিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল আর এক নতুন সংকটের আবির্ভাবে। বেঁধে গেল আরব-ইজরায়েল সংঘর্ষ। আরব সহ যেসব দেশ পেট্রোল উৎপাদন ও রপ্তানি করত তারা জোট বেঁধে তেলের দাম বাড়ালো চারগুণ। ফলে এক মহা বিপর্যয় গ্রাস করল শুধু আমেরিকার অর্থনীতিকে নয়, তৈল-সংকটের করাল ছায়া ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বজুড়ে। ধনতান্ত্রিক দেশগুলোতে একদিকে ইনফ্লেশন বা আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে স্ট্যাগনেশন বা উৎপাদনের শ্লথগতি এই দু'য়ে মিলে এক অভিনব পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটল। এই সংকট পরিচিত হলো 'স্ট্যাগফ্লেশন' নামে। ধনতন্ত্রীরা ভেবেছিল তাদের সমৃদ্ধির আকাশের সূর্য বুঝি আর কোনওদিন অস্ত যাবে না। কিন্তু এ কী দুর্দৈব? তখন আর কেইনস-এর মতো কোনও প্রজ্ঞাবান অর্থনীতিবিদ নেই যিনি ধনতন্ত্রকে এই সংকট থেকে বাঁচবার পথ বলে দিতে পারেন। তখন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ, ফেডারেল রিজার্ভের বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ পেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন মার্কিন ডলারের সঙ্গে সোনার বিনিময়-মূল্য যা ১৯৪৪ সাল থেকে ধার্য হয়েছিল ১ আউন্স সোনা ৩৫ ডলারের সমান, সেই গাঁটছড়া ছিন্ন করে দিলেন। অর্থাৎ ডলারের অবমূল্যায়ন করলেন। তাছাড়া পুঁজির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে দেশে দেশে শুল্কের যে প্রাচীর গড়ে উঠেছিল, বিশেষত, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দেশীয় শিল্প ও ব্যবসার স্বার্থে, সেই আত্মরক্ষার প্রাচীর ভেঙে মাটিতে নামিয়ে আনতে চাপ দিতে শুরু করল আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ঐ সব সংস্থাগুলো। এই হলো বিশ্বায়ন দর্শনের মূল মন্ত্র। বিপর্যস্ত সঙ্কটাপন্ন ধনতন্ত্রকে বাঁচানোর রাস্তা।
এইপথে ধনতন্ত্রের চলা পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হল। আবার সংকটের আবর্তে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। কিন্তু সময় বদলেছে। উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোর মধ্যে সেই সংহতি আর দৃশ্যমান নয়। ২৮ লক্ষ কোটি ডলারের সর্ববৃহৎ আয়ের দেশটির বশংবদ আর নেই গোষ্ঠীর অন্য অনেক দেশ। যজ্ঞের প্রধান পুরোহিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা হয়তো ভেবেছেন যে শুল্ক চাপিয়ে, পৃথিবী বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণায় অনুদান বন্ধ করে দিয়ে, কানাডাকে আমেরিকার অঙ্গরাজ্যে পরিণত করে, গ্রীনল্যান্ড দখল করে এই সংকট থেকে ধনতন্ত্রকে রক্ষা করা যাবে। এঁদের কারোরই তেমন অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা, ইতিহাস বোধ আছে বলে শোনা যায় না। মুক্ত আর অবাধ বাণিজ্যের জয়ধ্বনি তুলে যে ধনতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তার প্রতিভূদের মুখেই শুনি শুল্ক যুদ্ধের হুংকার। যে যুদ্ধের উদ্দেশ্যও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় স্পষ্টঃ "আমার কাছে আমেরিকার স্বার্থই প্রথম ও প্রধান কথা"। এ সেই সপ্তদশ শতাব্দীর মার্কেন্টাইলিস্টদের বাণী যা ঘৃণাভরে পরিত্যাগ করে অবাধ প্রতিযোগিতার দর্শন প্রচার করেছিলেন আধুনিক অর্থনীতির জনক এডাম স্মিথ আজ থেকে ২৫০ বছর আগে। গত শতাব্দীর তিরিশের দশকের মহামন্দার পর ধনতন্ত্রের সংকটের পুনরাবৃত্তির ইতিহাসে ধনতন্ত্রের পীঠস্থানে আমরা দেখলাম সংকটের নিদান হাতে নিয়ে দুজন রাষ্ট্রপতির উত্থান। যাঁদের একজন ১৯৭০-এর দশকে যে নিদান বাতলে দিলেন তার ফলে ঘটল লগ্নী পুঁজির বিস্ফোরণ ও বিশ্বায়ন। ঘনিয়ে এল বিশ্বব্যাপী ট্রাজেডি - দেশে দেশে দারিদ্র্য, আয়ের বিকট বৈষম্য, প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচার শোষণ ও নিষ্কাশন যে ট্রাজেডির নিত্য সঙ্গী। দ্বিতীয় জনের আবির্ভাব পঞ্চাশ বছর পরে যাঁর হাতে এই সংকট থেকে বের হওয়ার কোনও সঠিক নিদান নেই, অর্থনীতির পাঠ্যবইতেও এই সংকট নিরসনের নির্ধারিত বার্তাও নেই। তিরিশের দশকের পরিত্রাতা কেইনসকে বর্জন করা হয়ে গেছে সেই সত্তরের দশকেই, কার্ল মার্ক্স তো বলেইছিলেন ধনতন্ত্রের অনিবার্য পতনের কথা। সুতরাং তাঁর কাছ থেকেও কিছু নেওয়ার নেই। তাই এই পর্বের ইতিহাসে লেখা থাকবে বর্তমান শতকের বিশের দশকে উদ্ভূত ধনতন্ত্রের আর এক সংকটের কথা এবং তা সমাধানে অনুষ্ঠিত শুধুই এক মহাপ্রহসনের কথা।
পরিশেষে কার্ল মার্ক্সের একটি অনবদ্য প্রবন্ধের কথা বলে এই প্রসঙ্গ শেষ করা যাক। ১৮৫২ সালে লেখা এই প্রবন্ধের বিষয় হচ্ছে, ফরাসী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করে রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লুই নেপোলিয়ানের সামরিক অভ্যুত্থান এবং নিজেকে সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হিসেবে ঘোষণা। এই ব্যক্তিটি হলেন ফরাসী বিপ্লবের অন্যতম নায়ক নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ভ্রাতুষ্পুত্র। অনুপম ভাষায় তাঁর সমকালীন ঘটনার বিবরণ দিয়ে মার্ক্স মন্তব্য করেছেন, ইতিহাসে কখনও কখনও একই ধরণের ঘটনা এবং ব্যক্তির পুনরাবির্ভাব ঘটে। একবার ট্রাজেডি হিসেবে, পরে প্রহসন বা 'ফার্স' রূপে। সে কথারই প্রতিফলন দেখছি নাকি আজ আটলান্টিকের অন্য পাড়ে?