আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ ষোড়শ সংখ্যা ● ১৬-৩১ আগস্ট, ২০২৫ ● ১-১৫ ভাদ্র, ১৪৩২

প্রবন্ধ

মেয়েদের দুয়ারে সরকার

অশোক সরকার


কয়েক বছর ধরে দেখছি সরকারের বিশেষ নজর পড়েছে মেয়েদের উপর। মমতা বলছেন তিনি দিয়েছেন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' আর 'কন্যাশ্রী', মোদী বলছেন তিনি দিয়েছেন 'ঊজ্জ্বলা গ্যাস', 'লাখপতি দিদি'। কেউ বলছেন সরকার নারী পুরুষের মধ্যে সাম্য আনার চেষ্টা করছে, কেউ বলছেন মেয়েদের আলাদা ভোট ব্যাঙ্ক তৈরি করতে চাইছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। আসলে কী হচ্ছে?

আসলে কী হচ্ছে দেখতে গেলে তথ্য লাগে। মেয়েদের জন্য আলাদা করে কী করা হচ্ছে বুঝতে হলে দেখতে হবে জেন্ডার বাজেট। এই কাহিনির শুরু ২০০৫-২০০৬ সালে। কেন্দ্রীয় সরকার ও তার পরে ক্রমশ রাজ্য সরকারও জেন্ডার বাজেট পেশ করতে শুরু করে, যাতে বোঝা যায় মেয়েদের জন্য সরকারের কী পরিকল্পনা আছে। জেন্ডার বাজেট দু' ভাবে তথ্যটি পেশ করে, ১) সেই সব কর্মসূচী যা ১০০ ভাগ মেয়েদের জন্য, আর ২) সেই সব কর্মসূচী যা আংশিকভাবে মেয়েদের জন্য। এই দুটি হিসেব যোগ দিয়ে বলা হয় জেন্ডার বাজেট। যেমন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের টাকা শুধু মেয়েরাই পায়, তাই তা প্রথম অংশে পড়ে, আর ১০০ দিনের কাজে মেয়ে পুরুষ সবাই কাজ পায় তাই তা দ্বিতীয় অংশে পড়ে।

কিন্তু প্রথম অংশের সব কর্মসূচী তো এক রকম নয়। এক ধরণের কর্মসূচী আছে যা সরাসরি মেয়েদের ব্যাঙ্কের খাতায় ব্যক্তিগত টাকা পৌঁছে দেয়। যেমন 'বিধবা পেনশন', বা 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'। আরেক ধরনের কর্মসূচী আছে যার টাকা মেয়েদের নামে দেওয়া হয়, কিন্তু উপকার পায় পরিবারের অনেকে। যেমন 'আবাস যোজনা', 'জাতীয় গ্রামীণ আজীবিকা মিশন'। অন্য এক ধরনের কর্মসূচী আছে যা এক অর্থে মহিলা কেন্দ্রিক, কিন্তু টাকা মেয়েরা পান না, তবে সুফল মেয়েরাই পেয়ে থাকেন, যেমন স্কুলে মেয়েদের জন্য টয়লেট।

আসুন দেখি এই তিন খাঁচায় কেন্দ্রীয় সরকারের জেন্ডার বাজেটের প্রথম অংশের বড় খরচাগুলিকে বন্দি করলে ছবিটা কেমন দাঁড়ায়।

কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৪-২৫ সালের জেন্ডার বাজেটে ১০০ ভাগ মহিলা কেন্দ্রিক খরচার বরাদ্দ (কোটি টাকায়)

  প্রকল্প টাকা (কোটিতে)
যে টাকা সরাসরি মেয়েরা পান বিধবা পেনশন ২০২৬
যে টাকা মেয়েদের নামে দেওয়া হয়, কিন্তু সুফল মেয়ে পুরুষ সবাই পান নামো ড্রোন দিদি (স্বনির্ভর দলকে চাষের কাজের জন্য ড্রোন বিতরণ) ৫০০
  প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহরে) ২৬১৭০
  প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামে) ৫৪৫০০
  এলপিজি কনেকশন ৯০৯৪
  জাতীয় গ্রামীণ আজীবিকা মিশন ১৫০৪৭
যে টাকা মেয়েরা পান না, কিন্তু প্রকল্পের সুফল মূলত মেয়েরা পেয়ে থাকেন পোষণ ২.০ ৪৫০
  সম্বল যোজনা ৬২৯
  সামর্থ্য যোজনা ২৩৬৬

প্রথম অংশের মোট ১,১২,৩৯৪ কোটি টাকার মধ্যে এই ক'টি খরচার বরাদ্দই হল ১,১০,৭৮২ কোটি, অর্থাৎ ৯৯%। বাকি আরও ২০-২১টা আইটেম যোগ দিলে হবে ২,০০০ কোটি টাকার কম। গত বছর এই প্রথম অংশে মোট বরাদ্দ ছিল ৮৩,০০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ বেড়েছে, যার মধ্যে শুধু 'আবাস যোজনা'তেই বেড়েছে ২৬,০০০ কোটি টাকা। 'বিধবা পেনশন'-এ বরাদ্দ গত তিন বছর ধরে একই আছে। আর গ্যাস কানেকশনে বরাদ্দ বেড়েছে ৫০০ কোটি।

এর মধ্যে 'সম্বল' ও 'সামর্থ্য' প্রকল্পদুটি গুরুত্বপূর্ণ। 'সম্বল' আসলে চারটি প্রকল্পের সংযুক্ত নাম - 'ওয়ান স্টপ সেন্টার', 'মহিলা হেল্পলাইন', 'বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াও', আর 'নারী আদালত'। এর প্রত্যেকটি কোনো না কোনোভাবে মেয়েদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সারা দেশের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৪৫০ কোটি। 'সামর্থ্য' প্রকল্প মেয়েদের অর্থনৈতিক সশক্তিকরণের জন্য চলতে থাকা চারটি প্রকল্পের সংযুক্ত নাম - 'ক্রেশ', 'স্বাধারগৃহ', 'মাতৃবন্দনা যোজনা', ও মহিলা কর্মীদের জন্য হস্টেল। এতে সারা দেশের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২,৩৬৬ কোটি। অর্থাৎ এই প্রকল্পগুলি মহিলাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকারের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

দ্বিতীয় অংশের কাহিনিটা যথেষ্টই ঘোলাটে। কারণ এই অংশে যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, দাবি করা হয়, তার ৩০ থেকে ৯৯ ভাগ মহিলাদের জন্য। এর মধ্যে ১০০ দিনের কাজে কতজন মহিলা মজুরি পান তার তথ্য জনসমক্ষে আছে, এবং তা ৫০ ভাগের বেশি। কিন্তু আদিবাসীদের জন্য যে 'একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়' আছে, তাতে কতজন মেয়ে রয়েছে, বা বৃদ্ধ পেনশনও যে কতজন মহিলা পাচ্ছেন তা জনসমক্ষে নেই। আইআইটি বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যে অর্থ সাহায্য যাচ্ছে তাতে কত ভাগ মেয়েরা উপকৃত হচ্ছেন তাও জানার উপায় নেই। দ্বিতীয় অংশে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের যে সব প্রকল্প আছে তা হলো -

কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৪-২৫ সালের জেন্ডার বাজেটে ৩০-৯৯% ভাগ মহিলা কেন্দ্রিক খরচার বরাদ্দ (কোটি টাকায়)

প্রকল্প টাকা (কোটিতে)
বৃদ্ধ বয়সের পেনশন ৬৬৪৫
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা ১৪৪৭
১০০ দিনের কাজ ২৮৮৮৮
সমগ্র শিক্ষা অভিযান ১১২৫০
অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র ১৫৯০০
একলব্য আবাসিক বিদ্যালয় ১৯১৯
তপশীলি জাতি ছাত্রদের জন্য স্কলারশিপ ১৯০৪
কুসুম প্রকল্প ১৯৯৬
রুফ টপ সোলার ৪৫৫৫
জল জীবন মিশন ৩৪১৬২
স্বছ ভারত মিশন (গ্রামে) ২৫৭৯
প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা ৩৬০০
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো চালু রাখা ৬৬৬৪
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সশক্তিকরণ ১৫৪৫৬

উপরের প্রকল্পগুলি দেখলে এটাই পরিষ্কার হয় যে ৩০-৯৯% এর ভিত্তিটা একটা আনুমানিক ভিত্তি। এবং এই তথ্য থেকে দুটি সোজা প্রশ্ন তোলা যায়। প্রথমত, এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পে কত মেয়ে উপকৃত হচ্ছে তার সুস্পষ্ট হিসাব নেওয়া সহজেই সম্ভব, তবু তা জনসমক্ষে নেই কেন? আর দুই, কিছু প্রকল্পে যেমন স্বাস্থ্য পরিকাঠামো চালু রাখা প্রকল্পে সত্যিই কে উপকৃত হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়, এবং সেগুলির এখানে স্থান হওয়া উচিত নয়।

তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জেন্ডার বাজেটের চিত্রটা বেশ অন্যরকম। মেয়েদের দুয়ারে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেবার ব্যাপারে রাজ্য সরকার অনেকটাই এগিয়ে। রাজ্যের নিজস্ব বরাদ্দ কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে অনেক বেশি।জেন্ডার বাজেটের প্রথম অংশের মোট বরাদ্দ ২১,৩৮০ কোটি টাকার মধ্যে ১৯,৭৬৮ কোটি টাকাই (৯২%) সরাসরি মেয়েদের দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছেন মমতা। এমনকি দেশের মধ্যেও এ ব্যাপারে তিনি অগ্রগণ্য বললে ভুল হবে না।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৪-২৫ সালের জেন্ডার বাজেটে ১০০ ভাগ মহিলা কেন্দ্রিক খরচার বরাদ্দ (কোটি টাকায়)

  প্রকল্প টাকা (কোটিতে)
যে টাকা সরাসরি মেয়েরা পান বিধবা পেনশন - জয় বাংলা প্রকল্প ২৬৭৩
  জাতীয় বিধবা পেনশন প্রকল্প ৩৪৩
  লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ১৪৪০০
  কন্যাশ্রী ১৩৮৪
  রুপশ্রী ৭০৪
  অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অতিরিক্ত ভাতা ২৬৭
যে টাকার মেয়েদের নামে দেওয়া হয়, কিন্তু সুফল মেয়ে পুরুষ সবাই পান জাতীয় গ্রামীণ আজীবিকা মিশন - আনন্দধারা ৭৬৬
যে টাকা মেয়েরা পান না, কিন্তু তার সুফল মূলত মেয়েরা পেয়ে থাকেন নিঃস্ব সংখ্যালঘু মেয়েদের পুনর্বাসন ৩২০

এর মধ্যে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পে গত বছরের তুলনায় ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বেড়েছে, আর 'কন্যাশ্রী'তে ১৫০ কোটি, আর 'বিধবা পেনশন'-এ ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ কমেছে।

কিন্তু দ্বিতীয় অংশের অস্পষ্টতা থেকেই যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতোই রাজ্য সরকারও এমন সব প্রকল্প এই খাতে দেখাচ্ছে, যার মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পে সত্যিই কত মেয়ে উপকার পেল তা গণনা করা সম্ভব কিন্তু তা জনসমক্ষে নেই, আর কিছু প্রকল্প কতজন মেয়ে উপকৃত হচ্ছেন তা গণনা করা প্রায় অসম্ভব। কয়েকটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৪-২৫ সালের জেন্ডার বাজেটে ৩০-৯৯% ভাগ মহিলা কেন্দ্রিক খরচার বরাদ্দ (কোটি টাকায়)

  প্রকল্প টাকা (কোটিতে)
যে সব প্রকল্পে উপকৃত মেয়েদের সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব কিন্তু তা জনসমক্ষে নেই কৃষকবন্ধু প্রকল্প ২৫৯২
  মৃত কৃষকের পরিবারকে এককালীন সহায়তা ৪৫৫
  বাংলা শস্য বীমা যোজনা ৩৬০
  সমগ্র শিক্ষা অভিযান ১৪৬১
  স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প ১৪০২
  ১০০ দিনের কর্ম নিশ্চয়তা প্রকল্প ১৪২৩
  গ্রামীণ আবাস যোজনা ৩২২৪
যে সব প্রকল্পে উপকৃত মেয়েদের সংখ্যা নির্ধারণ প্রায় অসম্ভব প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে প্রশাসনিক খরচা ১৪১৩২
  অ-সরকারি কলেজে সহায়তা ১২৯৫
  ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতগুলিকে সহায়তা ১৭৮৬

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১০০ দিনের কাজের বরাদ্দ যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। তবে এই কয়েকটা উদাহরণ দেখলেই বোঝা যাবে, কোন প্রকল্পে কতজন মেয়ে উপকৃত হচ্ছেন তা বলা যায়, আর কোন প্রকল্পে তা বলা কঠিন বা প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু মূল কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার।

এক) প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি বাজেটের মাত্র ৫ ভাগ জেন্ডার বাজেটের অংশ, গত ১৫ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে তা আড়াই থেকে ৫ ভাগ হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষেত্রে তা রাজ্য বাজেটের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ। একটি হিসেবে দেখছি অনেকগুলি রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রেই জেন্ডার বাজেট, রাজ্যের বাজেটের হয় চার ভাগের এক ভাগ নয়ত তিন ভাগের এক ভাগ। কিন্তু দুটি ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় অংশের বরাদ্দ প্রথম অংশের প্রায় আড়াইগুণ। অর্থাৎ রাজ্য সরকারের তুলনায় কেন্দ্রীয় সরকার মেয়েদের দিচ্ছে অনেক কম, বলছে বেশি।

দুই) জেন্ডার বাজেটের দ্বিতীয় অংশটি কেন ৩০ থেকে ৯৯ ভাগ মহিলাদের জন্য দেখানো হবে? কেন মহিলা ও পুরুষের তথ্য আলাদা করে সংগ্রহ করে সুস্পষ্ট করে বলা যাবে না যে কোন প্রকল্পে সত্যিই কত মহিলা উপকৃত হচ্ছেন। আর যে সব প্রকল্পে তা করা কঠিন সেখানে কেন তা স্বীকার করা হবে না?

তিন) প্রথম অংশের মোট বরাদ্দ, বিশেষত যেখানে টাকা সরাসরি মেয়েরা না পেলেও সুফল মূলত তাঁরাই পেয়ে থাকেন, তার বরাদ্দ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে বাড়বে না? 'নারী আদালত', 'মহিলা হেল্পলাইন', কর্মরত মেয়েদের হস্টেল ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা মেয়েদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা দুইই বাড়ায়, কেন সেই ধরনের প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ অতি নগণ্য হয়ে থাকবে?

মূল প্রশ্নটা থেকেই যায়। জেন্ডার বাজেট সরকারি খরচার কোনটা কতটা মেয়েদের জন্য তা দেখায়, কিন্তু সরকারি খরচার দিশা নির্দেশটা কী? নারী পুরুষের সাম্য আমাদের সংবিধানের একটা প্রতিশ্রুতি। তাহলে কোন কোন পথে তার দিকে সবচেয়ে ফলপ্রসূ উপায়ে এগোনো সম্ভব, এবং বাজেটে তার প্রতিফলন কী? এর উত্তরে নানা মুনির নানা মত হবে। কেউ বলবেন মেয়েদের হাতে আরও টাকা পৌঁছে দাও তাহলে তাদের সামাজিক ক্ষমতা ও কণ্ঠস্বর বাড়বে, কেউ বলবেন আরও বেশি মেয়েদের রোজগার দাও, তাহলে মেয়েরা স্বাধীন হবে। কেউ বলবেন ভারতের মাটিতে নারী পুরুষ সাম্যের লড়াইটা মূলত সমাজ-মানসিক, তাই এমন প্রকল্প নিতে হবে যাতে সমাজ-মানসিকতা পালটায়। কেন্দ্রীয় সরকারের জেন্ডার বাজেট থেকে নারী পুরুষ সাম্যের পথে বাজেটের দিশা নির্দেশটা কী তা স্পষ্ট হয় না। বরং রাজ্যের বাজেট থেকে মনে হয়, মেয়েদের দুয়ারে টাকা পৌঁছে দেওয়াটাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। যদি মমতার টাকা আর মোদীর টাকা বলে কিছু থাকত তাহলে পশ্চিমবঙ্গের মেয়েরা অন্তত বলতেন যে 'আমরা দিদির টাকাই বেশি পেয়েছি, মোদীর টাকা যৎসামান্য।'