আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ ষোড়শ সংখ্যা ● ১৬-৩১ আগস্ট, ২০২৫ ● ১-১৫ ভাদ্র, ১৪৩২

সমসাময়িক

বধ্যভূমি প্যালেস্টাইন


মৃত্যু যদি কোন দেশের সমার্থক হয়, প্যালেস্টাইন সম্ভবত সেই দেশ। মৃত্যু এদেশে আর কোনো খবর নয়, বরং কোনোদিন যদি কোনো নাগরিকের গুলি বা বোমার আঘাতে মৃত্যু না হয়, সেটাই হয়ত খবর হবে। একটা গোটা দেশকে কীভাবে জবরদখল করে ফেলা যায় তার বাস্তব উদাহরণ হল প্যালেস্টাইন। একটা গোটা প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার নরমেধ যজ্ঞের নাম প্যালেস্টাইন। প্রতিদিন খবর হয় কীভাবে কেবল খাবার জোগাড় করতে গিয়ে মানুষ পোকামাকড়ের মতো মারা পড়ছে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার জন্যই এক পরিণতি। দখলদাররা কোনো বাছবিচার করেনি। সবার জন্যই তারা বুলেট খরচ করে থাকে কোনো ফারাক না রেখে। আজকে প্যালেস্টাইনবাসীর ভবিতব্য দুটি, হয় না খেয়ে মরো নয়ত দখলদারদের বন্দুকে মরো। জায়নবাদীর কড়া পাহারায় ত্রুটি নেই। প্যালেস্টাইন আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। অথচ বিশ্বের তথাকথিত প্রগতিশীল দেশ থেকে শুরু করে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সবাই যেন ভুলেই গিয়েছে যে প্যালেস্টাইন নামে একটি দেশ ছিল। সেই দেশে জায়নবাদী দখলদাররা নরমেধ উৎসব করছে। সবাই অন্যদিকে তাকিয়ে আছে, সবাই চুপ। কিন্তু কেন?

প্যালেস্টাইনের এই দুর্ভোগের শিকড় গভীরে প্রোথিত, যা ১৯৪৮ সালের নাকবা থেকে শুরু। তখন থেকেই ইজরায়েল প্যালেস্টাইনী ভূমি দখল করে চলেছে, এবং গাজা স্ট্রিপকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজার উপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের পর থেকে ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক অভিযান গাজাকে একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। আজকের হিসাবে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ১৪ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬১,১৫৮ প্যালেস্টাইনী নিহত হয়েছে এবং ১,৫১,০০০-এরও বেশি আহত। এর মধ্যে শিশু এবং মহিলাদের সংখ্যাই বেশী। এই একটি তথ্যই বোঝায় হামাসের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান কি পরিমাণ যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে। কিন্তু সে সবই আজ চাপা পড়েছে, কারণ জাতিসঙ্ঘ আজ ঠুঁটো জগন্নাথ। গাজার ২১ লক্ষ জনসংখ্যার ৯০ শতাংশই বাস্তুচ্যুত, যাদের অধিকাংশই অপর্যাপ্ত আশ্রয়, খাদ্য এবং চিকিৎসা পরিষেবা ছাড়া বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ-এর রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩,২০,০০০ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, এবং ৪০,০০০ শিশু মৃত্যুর ঝুঁকিতে। অনাহারের কারণে মৃত্যু সংখ্যা ২৩৫-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০৬ জন শিশু। ২০২৫ সালের আগস্টে, ইজরায়েলের আক্রমণে ৮৯ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৩১ জন সাহায্যপ্রার্থী। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আরও ভয়াবহ। এই আগস্ট মাসেই, ইজরায়েল গাজা সিটিতে আজ অবধি ৬১ জনকে হত্যা করেছে, এবং সার্বিকভাবে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনটি শিশু অনাহারে মারা গেছে, এবং সাহায্য সংস্থাগুলোকে ব্যানের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অনাহারকে আরও গভীর করছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজা সিটি পুরোপুরি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন, যা জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার প্রধান 'অবিলম্বে থামানো'র দাবি করেছেন। বলাই বাহুল্য এই আবেদনে গাজবাসীর ভবিষ্যৎ পাল্টাবে না। গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত, যাকে খোদ জাতিসঙ্ঘই 'মেডিসাইড' বলে অভিহিত করেছে।

সাংবাদিকদের অবধি রেহাই নেই। অবরুদ্ধ গাজার কোনো খবর যাতে বাইরে না আসে তাই ইজরায়েলি দখলদারি বাহিনী ‘হামাস সহযোগী’ নাম দিয়ে সাংবাদিকদেরও খুন করতে পিছপা হচ্ছেনা। গাজায় ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত, সাংবাদিকদের জন্য এটি ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতে পরিণত হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে ১৯২ জন সাংবাদিক এবং মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮৪ জন ফিলিস্তিনি এবং বেশিরভাগই ইজরায়েলী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। 'কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এবং অন্যান্য সংস্থা যেমন 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স' (আরএসএফ) এবং 'ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস' (আইএফজে) অনুসারে, এই সংখ্যা ১৯৯২ সাল থেকে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ, যা বিশ্বের অন্য কোনো সংঘাতের চেয়েও বেশি মারাত্মক।

এই হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিকতম এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট, যখন ইজরায়েলী বিমান হামলায় গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে আঘাত করা হয়, যাতে 'আল জাজিরা'র চারজন সাংবাদিক - প্রখ্যাত প্রতিবেদক আনাস আল-শরিফ, মোহাম্মদ ক্রেইকেহ, ইব্রাহিম জাহের এবং মোহাম্মদ নৌফাল এবং দুজন ফ্রিল্যান্সার মোয়ামেন আলিওয়া এবং মোহাম্মদ আল-খালদি নিহত হন। ইসরায়েলী সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে আনাস আল-শরিফ হামাসের একটি সেলের নেতা ছিলেন এবং তিনি রকেট হামলা চালিয়েছিলেন, কিন্তু এই অভিযোগের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি। অন্যদিকে 'সিপিজে' এবং 'আল জাজিরা' দৃঢ়ভাবে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে এটি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত হামলা এবং যুদ্ধাপরাধ। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে 'আল জাজিরা'র ইসমাইল আল-ঘুল এবং রামি আল-রিফির হত্যা, যাদেরকে ইজরায়েল হামাসের সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছে কিন্তু প্রমাণহীনভাবে; ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হামজা আল-দাহদুহ, আল জাজিরার গাজা ব্যুরো চিফ ওয়ায়েল আল-দাহদুহের ছেলে, যিনি ড্রোন হামলায় নিহত হন; এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফটো জার্নালিস্ট ফাতিমা হাসুনা, যিনি তাঁর বাড়িতে হামলায় পরিবারসহ নিহত হন। মিডিয়া টেন্ট, গাড়ি এবং বাড়িগুলোকে নির্ভুলভাবে আঘাত করা হচ্ছে, এবং পরে তাদেরকে হামাসের সদস্য বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোনো প্রমাণ ছাড়াই। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেমন জাতিসংঘ, ইউনেস্কো এবং আরএসএফ এই হামলাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে, কারণ সাংবাদিকরা যুদ্ধক্ষেত্রে নিরপেক্ষ সাক্ষী এবং তাদের প্রতি হামলার লক্ষ্য করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। গাজায় বিদেশী সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় স্থানীয় সাংবাদিকরা একমাত্র সাক্ষী। ফলে তাদের ওপর আক্রমণ শুধুমাত্র সাংবাদিকতার উপর আক্রমণ নয়, বরং সত্যের উপর আক্রমণ, যা বিশ্বকে গাজার নির্যাতন থেকে অন্ধ করে রাখার চেষ্টা।

এই নীরবতার পিছনে রয়েছে জটিল ভূরাজনৈতিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং পক্ষপাতিত্বের এক অন্ধকার জাল। পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েলকে বার্ষিক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সাহায্য প্রদান করে চলেছে, যা গাজার চলমান অভিযানকে জ্বালানি যোগায়। এটি শুধুমাত্র কৌশলগত মিত্রতার কারণে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য। জাতিসংঘে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রস্তাবগুলো প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কবলে পড়ে, যা কোনো কার্যকর পদক্ষেপকে বাধা দেয়। মুসলিম দেশগুলোর ক্ষেত্রে, অনেক আরব রাষ্ট্র যেমন সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত, অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে চুপ করে থাকে। অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মতো চুক্তির মাধ্যমে তারা ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, যা মূলত ইরানের বিরুদ্ধে কৌশলগত। ফলে, প্যালেস্টাইনীদের দুর্ভোগ উপেক্ষিত হয়।

আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, মিডিয়া পক্ষপাত এবং ইসলামোফোবিয়া এই নীরবতাকে কীভাবে উস্কে দেয়। পশ্চিমা মিডিয়া প্রায়শই ইজরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দেয়, যেখানে প্যালেস্টাইনীদেরকে 'হুমকি' হিসেবে চিত্রিত করা হয়। জাতিসংঘের কাঠামোগত অসমতা, যেমন ভেটো ক্ষমতা, ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধগুলোকে অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে। জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা গাজায় ভেঙে পড়ছে'। কিছু দেশ যেমন ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদের উদাসীনতা দেখিয়েছে। এছাড়া, প্যালেস্টাইনী প্রতিবাদ এবং প্রতীকগুলোকে অনেক দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। অন্যদিকে ইজরায়েলী দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার অব্যাহত যে এটি হামাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ। ইজরায়েলের অভিযানকে তারা 'হামাসের ধ্বংস' হিসেবে দেখায়, এবং অনাহারের অভিযোগকে অস্বীকার করে। একটি আইডিএফ রিপোর্ট বলছে, গাজায় অনাহার নেই, কারণ সাহায্য প্রবেশ করছে, কিন্তু হামাস তা চুরি করে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, ইজরায়েল গাজা দখল করতে চায় না, তারা শুধু নিয়ন্ত্রণ নেবে যাতে হামাস পুনরায় শক্তি না পায়।

২০২৫ সালের সমীক্ষা বলছে আজ ৩৩ শতাংশ ইজরায়েলী গাজা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। তবে, অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদও আছে। ইজরায়েলের ভেতরেই গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং কথিত গণহত্যার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে, যা সামরিক বাহিনী, মানবাধিকার সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে থেকে উঠে আসছে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে, শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত ইজরায়েলী বিমান বাহিনীর অফিসাররা গাজায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে, যা NPR-এর রিপোর্ট অনুসারে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের একটি বিরল উদাহরণ। এই অফিসাররা যুদ্ধকে অমানবিক বলে অভিহিত করেছে এবং এর ফলে প্যালেস্টাইনীদের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে মত প্রকাশ করেছে, যা ইজরায়েলী সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভেদকে তুলে ধরে। এছাড়া, জুলাই ২০২৫-এ প্রথমবার দুটি প্রমুখ ইজরায়েলী মানবাধিকার সংস্থা - B'Tselem এবং Physicians for Human Rights Israel - গাজায় ইজরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে, যা গণহত্যা কনভেনশনের আর্টিকেল ২(সি) অনুসারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধ্বংসকে গণহত্যার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে। এই সংস্থাগুলোর রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ইজরায়েলের অভিযান প্যালেস্টাইনীদের জীবন ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিকল্পিত, এবং এটি ওয়েস্ট ব্যাঙ্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তেল আভিভে হাজারো ইজরায়েলী নাগরিক যুদ্ধের সম্প্রসারণ এবং গাজা দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পদযাত্রা করেছে, যেখানে তারা যুদ্ধ শেষ করার এবং হামাসের হাতে পণবন্দীদের মুক্তির দাবি তুলেছে। এই প্রতিবাদগুলো ইজরায়েলী সমাজের মধ্যে নৈতিক সংকটকে প্রতিফলিত করে, যেখানে অনেকেই আজ নেতানিয়াহু সরকারের নীতিকে অস্বীকার করছে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। যদিও তাদের জায়নবাদী সরকার এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে চলেছে।

সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বের নীরবতা শুধু অসংবেদনশীলতা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত উপেক্ষা, যা প্যালেস্টাইনকে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। তবে, জনসাধারণের প্রতিবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ কিছু পরিবর্তন আনতে পারে, যেমন সাম্প্রতিক প্রতিবাদগুলো সাংবাদিক হত্যার বিরুদ্ধে হয়েছে। এই নরমেধ যজ্ঞ থামাতে দরকার দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান এবং আন্তর্জাতিক চাপের, যাতে প্যালেস্টাইন আবার জীবনের প্রতীক হয়ে ওঠে। ইউএন-এর মতে, 'যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই'। কিন্তু আমেরিকা ব্যতীত বাকি বিশ্বের কার্যকরী প্রতিবাদ ছাড়া এই পরিস্থিতির কোনো আশু সমাধান নেই। বাকি দেশগুলির সাধারণ নাগরিকের প্রতিবাদই পারে সংশ্লিষ্ট দেশের নীরবতা ভাঙতে। শান্তিপ্রিয় মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ তাই আজ একান্ত কাম্য। প্যালেস্টাইনের ভাগ্য তাই আজ বিশ্ববাসীর হাতে। মানুষ যদি প্যালেস্টাইনকে ভুলে যায়, তাহলে তা হবে প্যালিস্তিনীয়দের মৃত্যু পরোয়ানাতে সই করা। ইতিহাস আজ মানুষের ভূমিকা দেখতে চায়। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে মানুষই আজ নিয়ন্ত্রক। তারা কি পারবে সেই দায়িত্ব পূরণ করতে?