আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ পঞ্চদশ সংখ্যা ● ১-১৫ আগস্ট, ২০২৫ ● ১৬-৩১ শ্রাবণ, ১৪৩২

প্রবন্ধ

ভারতে অনেক বড় পরিবেশগত বিপর্যয়ের জন্য তৈরি থাকুন

গৌতম হোড়


গত ২০ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৬ দিনেই হিমাচল প্রদেশে ১৯টি ক্লাউড বার্স্ট বা মেঘফাটা বৃষ্টি হয়েছে, ২৩টি ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা চকিত বন্যা হয়েছে, তার জেরে ৭৮ জন মারা গেছেন। প্রতিবছর মেঘফাটা বৃষ্টি, চকিত বন্যা এবং তাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে হিমাচলে। বাড়ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। এই বছর ১৬ দিনে যে ৭৮ জনের মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে ৫০ জন মারা গেছেন ভূমিধস, বন্যা ও মেঘফাটা বৃষ্টির কারণে, আর ২৮ জন সড়ক দুর্ঘটনায়, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়।

২৪ জুলাই 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'র রিপোর্ট বলছে, হিমাচল প্রদেশের এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এসইওসি) জানিয়েছে, রাজ্যের ৩৪৪টি রাস্তা এখনও বন্ধ আছে। তার মধ্যে ২৩২টি রাস্তা মান্ডিতে, যেখানে সবচেয়ে বেশি মেঘফাটা বৃষ্টি, চকিত বন্যা হয়েছে। মান্ডি জেলায় ৯৮টি ট্রান্সফর্মার এখনও কাজ করছে না। ৬৫টি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প থেকে জল সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা যায়নি। ফলে অনেক অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও জল নেই। এসইওসি জানিয়েছে, ২০ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ১৩৭ জন মারা গেছেন। ২০২৫ সালে বর্ষার তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

২০২৪ সালে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত হিমাচলে বর্ষার তাণ্ডবে ৬৫ জন মারা গেছিলেন। ফলে সংখ্যাটা এবার ইতিমধ্যে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। তার আগে ২০২৩ সালে হিমাচলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মারা গেছিলেন ৪২৮ জন। নিখোঁজ ৩৯ জন। আট হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। সেই বছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুলু, মানালি, সিমলা। সিমলায় ধসের ফলে পুরো বাড়ি ভেঙে পড়ার ভাইরাল ভিডিও আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। কালকা-সিমলার রাস্তার অনেকটা অংশ ধসের ফলে তলিয়ে গেছিল।

হিমাচলের রাজধানী এবং বাঙালি পর্যটকদের কাছে খুব প্রিয় জায়গা সিমলায় ২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বৃষ্টি, বন্যা, ধসে ৯১ জন মারা গেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ২০২৪ সালে ৪০ জন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটির রিপোর্ট হলো রাজধানী সিমলায় মেঘফাটা বৃষ্টি হয়েছে, ধস নেমেছে, আগুন লেগেছে। প্রচুর বাড়ি, গোশালা ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতগুলো বছরের হিসাব দিতে হলো, বিপর্যয়ের চরিত্রটা বোঝাবার জন্য। বছরের পর বছর যেভাবে বিপর্যয়ের ফলে হিমাচলের পাহাড়ের মানুষ বিপদের মুখে পড়েছেন এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটা বোঝানোর জন্য। আর এটা বোঝার জন্য পরিবেশবিদ হওয়ার দরকার পড়ে না যে, ভবিষ্যতে আরও খারাপ দিন আসছে। আরও বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মেঘফাটা বৃষ্টি, চকিত বন্যা হবে। পরিকাঠামোর বিপুল ক্ষতি হবে। আরও অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হতে পারে, সেরকম সম্ভাবনাও থাকছে।

২০২৩ সালের অভিজ্ঞতার কথা বলি। হিমাচলে সেই ভয়ঙ্কর বৃষ্টি, বন্যা, ধসের কিছুদিন পর বরোগ গিয়েছিলাম। ততদিনে বর্ষার তাণ্ডবের পর মাস কয়েক কেটে গেছে। কালকা থেকে সিমলা যাওয়ার রাস্তা তখনও ঠিক হয়নি। যাতায়াতের পথে দেখতে পেলাম, অনেক জায়গায় রাস্তার অর্ধেকটা ধসে তলিয়ে গেছে। যাওয়ার পথে ধসের তাণ্ডবের চিহ্ন দেখতে দেখতে বরোগ পৌঁছাবার পর চোখ খুলে গেলো। আমরা ছিলাম একটা গ্রামের ভিতর খুবই সুন্দর একটা বিএনবি-তে। রাস্তায় ঘুরতে গিয়েই চোখে পড়ল পাহাড়ের গায়ে একের পর এক বিশাল বিশাল সাততলা বাড়ি। কোনওটা হোটেল, কোনওটা ফ্ল্যাটবাড়ি। যত্রতত্র সেই বাড়ি তৈরি হয়েছে। পাহাড় কেটে, অগুন্তি গাছ কেটে শুধু বাড়ি বানানো হয়েছে। অথচ, হিমাচলের নিয়ম হলো, পাহাড় থেকে যেখান দিয়ে বৃষ্টির জল নীচের দিকে যায়, সেখানে বাড়ি বানানো যায় না। কে শোনে কার কথা। সব জায়গায় বাড়ি। ভারতে নিয়ম ভাঙাটাই দস্তুর। পরিবেশের কথা সাধারণ মানুষ থেকে সরকারকে বোঝানোটা কোনও কলা বিভাগের ছাত্রকে বিজ্ঞানের কঠিন সূত্র বোঝাবার মতোই কঠিন। না হলে, প্রতিবছর দেওয়ালির পর দিল্লির অবস্থা গ্যাস চেম্বারের মতো হতো না। দিল্লির চারপাশের রাজ্যগুলিকে খড় পোড়ানো থেকে কৃষকদের সরিয়ে আনার কাজ করা হতো। সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দিল্লিতে নির্বিচারে বাজি ফাটত না। পরিবেশের কথা মাথায় থাকলে গঙ্গা, যমুনার জল এমন কলুষিত হতে পারত না। হিমাচল, উত্তরাখণ্ডে নির্বিচারে পাহাড় ও গাছপালা কেটে সুড়ঙ্গ করে রাস্তা ও একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করা হতো না।

ক্লার্কস হোটেলের পাশ থেকে সিমলার দৃশ্য খুবই নয়নমনোহর, বিশেষ করে রাতে যখন আলো জ্বলে ওঠে। দেখে মনে হয়, গোটা পাহাড়-জুড়ে আলোর রোশনাই। দিনের বেলায় যখন ওই পাহাড়ের গায়ে গিজগিজে বাড়ি দেখা যায়, তখন ভয় করে। একটা বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে, বিরাট এলাকা জুড়ে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। প্রশ্ন জাগে, কেন এইভাবে পাহাড়ে বাড়ি বানাতে দেওয়া হল? ঘটনাচক্রে আমার জন্ম সিমলায়। ছোটবেলা থেকে অনেকবার সিমলায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একসময় ঝকঝকে তকতকে, ছিমছাম পাহাড়ি শহর এখন শুধুই কংক্রিটের জঙ্গল। পরিবেশের তোয়াক্কা না করে শুধুই বাড়ি হয়েছে এবং হচ্ছে। যে সিমলার অধিকাংশ জায়গায় আগে গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে এখন গাড়ির দাপটে পথ চলা দায়।

আইআইটি রোপারের সমীক্ষা বলছে, হিমাচল প্রদেশের ৪৫ শতাংশ এলাকা ধসপ্রবণ। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, যে সব জায়গার ঢাল পাঁচ দশমিক আট ডিগ্রি থেকে ১৬ দশমিক চার ডিগ্রির মধ্যে তা ধসপ্রবণ ও বন্যাপ্রবণ এলাকা। যে সব জায়গায় এক হাজার ছয়শো মিটার খাড়াই আছে, সেগুলিও ধসপ্রবণ। হিমাচলে মোট ১৭ হাজার ১২০টি জায়গা ধসপ্রবণ। তার মধ্যে ৬৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও ঘনবসতি এলাকায়।

শুধু তো হিমাচল নয়, উত্তরাখণ্ডের অবস্থাও চিন্তাজনক। এই বছর এপ্রিল-মে মাসে চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, নন্দপ্রয়াগ, উত্তরকাশীতে মেঘফাটা বৃষ্টি ও চকিত বন্যা হয়েছে। প্রবল ধস নেমেছে। অন্ততপক্ষে ২০ জন মারা গেছেন। কয়েক বছর আগে কেদারনাথে ধস ও বন্যার কথা মানুষ নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। বর্ষার সময় এখন পাহাড়ে যেতে অনেকের বুক কাঁপে।

কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, মুম্বই শহরগুলিতে এমন বৃষ্টি হচ্ছে যে শহরগুলি ভেসে যাচ্ছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগে একমাস ধরে যে বৃষ্টি হতো, তা এখন একদিন বা কয়েকদিনে হচ্ছে। ফলে এই বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। অথচ, আমাদের পরিকাঠামো সেই আগের ব্যবস্থার কথা ভেবে বানানো। সেটা একটা পর্যায় পর্যন্ত বৃষ্টির মোকাবিলা করতে পারে। কিন্তু সারা মাসের বৃষ্টি একদিনে হলে, কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া দরকার, কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সেই সচেতনতাই প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের নেই। এখন দ্রুত আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, তার মোকাবিলা করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে, এই কথাটাই তারা বুঝতে চান না, বা বুঝলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রথমে তো সেই সচেতনতা আনা দরকার। আজ পর্যন্ত ভারতে ভোটের প্রচারে কখনও পরিবেশ নিয়ে প্রচার হচ্ছে দেখেছেন?

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনীতিক কেউই সচেতন নন। উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠের বড় অংশ বসে গেল। অন্ততপক্ষে ছয়শোটি বাড়িতে ফাটল দেখা দিল। প্রচুর বাড়ি ভেঙে ফেলতে হল। রাস্তায় বিশাল ফাটল দেখা দিল। ২০ হাজার মানুষের জোশীমঠ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল। বিশেষজ্ঞরা বললেন, শহরে সমানে বেপরোয়া নির্মাণ, চারধাম যাত্রার জন্য সড়ক ও জাতীয় সড়ক চওড়া করা, প্রত্যেক বছর লাখ লাখ পর্যটকের চাপ এবং তপোবনে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মিলিত ফলে জোশীমঠের এই হাল হয়েছে। কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বাহাদুর সিং কোটিলা 'ইন্ডিয়া টুডে'কে বলেছেন, "ভৌগলিক দিক থেকে স্পর্শকাতর এলাকায় রাস্তা সাত মিটারের বেশি চওড়া হওয়া উচিত নয়। কিন্তু সরকার ১২ মিটার চওড়া রাস্তা বানাচ্ছে। তার ফলে এই স্পর্শকাতর এলাকা এমনিতেই ধসপ্রবণ হয়ে পড়েছে।"

পরিবেশবিদ ও নাট্যকর্মী মল্লিকা জানাল 'ডিডব্লিউ'কে বলেছেন, "ভারতে পরিবেশগত বিষয়ে কেউ দায় নেয় না। জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের দৈনিক অভ্যাসের জন্য হচ্ছে। আমাদের বুঝতে হবে, আমাদের দোষে আমাদের দেশ ও বিশ্বের ক্ষতি হচ্ছে, আমাদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে, না হলে কিছুই হবে না।'" তাঁর মতে, ''আমরা যখন একজন রাজনীতিককে জেতাই, তখন তার উপর আমাদের বিশাল প্রত্যাশা থাকে। তবে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে গেলে রাজনীতিক ও জনগণের মধ্যে আলোচনা হতে হবে, পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে হবে। এই পার্টনারশিপ এখন নেই। আমরা মনে করি, সবই রাজনীতিক করবে। এটা অসম্ভব। সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। আরও খারাপ হবে।''

কাউন্সিল ফর এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার (সিইইডাব্লিউ)-এর রিপোর্ট বলছে, ভারতে যত জেলা আছে, তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ জেলাই হল চরম আবহাওয়ার হটস্পট। ১৯৭০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ৩৫ বছরে তাপপ্রবাহ বা শৈত্যপ্রবাহের ২৫০টি ঘটনা ঘটেছিল। তারপরের ২০ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩১০টি। ২০০৫ সালের পর আরও ৫৫টি জেলা এই চরম আবহাওয়ার কবলে পড়েছে। ২০০৫ সালে ৬৯ জেলায় ১৪০টি বন্যা হয়েছে। ১৯৭০ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে বন্যা, ধস, মেঘফাটা বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়ের পরিমাণ ২০ গুণ বেড়েছে। একই সময়ে সাইক্লোনের পরিমাণ বেড়েছে ১২ গুণ। গত ১৫ বছরে ৬৯টি জেলা ভয়ংকর খরার কবলে পড়েছে। গত এক দশকে ২৫৮টি জেলায় সাইক্লোন হয়েছে। ভারতে ৪০ শতাংশ জেলা চরম খরাপ্রবণ থেকে চরম বন্যাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

তথ্যবিজ্ঞানী শ্রবণ প্রভুর গবেষণা বলছে, রাজস্থান, গুজরাত, মধ্য মহারাষ্ট্রের তহসিলগুলিতে যেখানে খুব কম বৃষ্টি হতো, সেখানে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেছেন, ভারতে যাঁরা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা যেন এটুকু বোঝেন, একই জেলায় খরা ও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ফলে তাদের স্থানীয় স্তর থেকে তথ্যসংগ্রহ করতে হবে। ভারত সরকারের উচিত সর্বস্তরে এই খামখেয়ালী আবহাওয়ার মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া।

আসলে পুরো আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। আগে যেখানে বেশি বৃষ্টি হতো, সেখানে কম হচ্ছে, যেখানে কম হতো, সেখানে বেশি হচ্ছে। ফলে পরিবেশকে গুরুত্ব দিতেই হবে। আগেকার ধ্যানধারণা, উন্নয়নের মাপকাঠি নিয়ে চললে বিপর্যয় বাড়বে, কমবে না। জলবায়ু পরিবর্তন একটা বড় সংকট, তার মোকাবিলা করতে গেলে অনেক সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে, অনেক অভ্যাসের বদল ঘটাতে হবে, অনেক বেশি কড়া নিয়ম চালু করতে হবে। এই বোধটা না হলে বিপর্যয় এড়ানো সম্ভবই নয়। ওই বোধ না এলে, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে, অনেক বড় বিপর্যয় আমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে।