আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ দশম সংখ্যা ● ১৬-৩১ মে, ২০২৫ ● ১-১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২
প্রবন্ধ
সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং উত্তাল চল্লিশঃ একটি পাঠ প্রতিক্রিয়া
দেবকুমার সোম
প্রেক্ষাপট
১৯৪০'এর দশকে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, যারা মূলত সাম্যবাদের চর্চা করেছে, তাদের মধ্যে যুদ্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নে বহুকৌণিক বিতর্ক ছিল। কমিউনিস্ট ভাবধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বহুমত-বহুপন্থাকে আন্তঃপার্টি লাইনে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। অথচ আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কমিউনিস্ট পার্টিগুলো (সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লব্জে 'লিগ্যাল' কমিউনিস্ট), আধিপত্যবাদের কারণেই এসব বিতর্ককে বর্জন করেই চলেছে। এই কারণে তারা বহু টুকরো হয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। তাদের দীর্ঘদিনের বাইনারি ন্যারেটিভ (হয় রাশিয়া, নয় চিন) যাতে পার্টির মধ্যে নেতৃত্বকে সমস্যায় না ফেলে, তার জন্য এখনও তারা অতি সক্রিয়। ফলে সব মিলিয়ে আমাদের দেশের কমিউনিস্ট রাজনীতির ইতিহাস আজও বিশ্বস্ত হয়ে উঠল না। তবে আশার কথা কার্পেটের নীচে চেপে রাখা সেই বিতর্কগুলো বেঁচে আছে। পৃথা চ্যাটার্জি, বাসু আচার্য সম্পাদিত 'Saumyendranath Tagore and The Roaring Forties' সংকলন গ্রন্থটি তার প্রমাণ।
ইতিহাস যেমন একপেশে নয়, তেমন ইতিহাসচর্চাও একপেশে হতে পারে না। যাঁরা দীর্ঘদিন ক্ষমতার শীর্ষে থাকেন তাঁরা এই সামান্য কথাটা মনে রাখেন না। এই কারণে কোনো দেশে রাজনৈতিক অশান্তির মধ্যে দিয়ে ক্ষমতার বদল ঘটলে প্রথম কোপ পড়ে রাষ্ট্রনায়কদের মূর্তির উপর। সৌম্যেন্দ্রনাথের ধাঁচটা বরাবর ছিল এই ব্যক্তিপুজোর বিরুদ্ধে - যে কারণে নকশালবাড়ি রাজনীতিকে 'বিপ্লবের খোকারোগ' বলতে তিনি কসুর করেননি। তিনি সেই বিরল ক্লাসিক্যাল মার্কসিস্ট, যিনি উপরিতল থেকে নয়, সমাজের নীচে যেখানে রাজনীতির নির্মমতা সবচেয়ে প্রাণঘাতী, সেখানে খুঁজতে চেয়েছেন বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকতা। হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে, তাঁর ব্যক্তিত্বে অসহিষ্ণুতা যেমন ছিল, তেমনই তিনি চিন্তাভাবনায় চরমভাবাপন্ন ছিলেন। এই কারণে তাঁকে বার বার সংঘত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু তাঁর মনন, তাঁর দর্শনের মধ্যে যে যুক্তি এবং বিশ্লেষণ খুঁজে পাওয়া যায়, তাকে অস্বীকার করা যাবে না। সেই কারণে যাঁরা প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে নিজেদের মার্কসবাদের অনুশীলনকে আটকে রেখেছেন, তাঁদের পক্ষে সৌম্যেনবাবু অবশ্যই অস্বস্তিকর এক নাম।
এই সংকলনে সম্পাদকেরা সৌম্যেন্দ্রনাথের আটটি লেখাকে, যার অধিকাংশ ভারতের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির (RCPI) মুখপত্র 'রেড ফ্রন্ট'-এ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৯-৪৫ সালে, সংকলিত করেছেন। সেই কারণে এই লেখাগুলোর মূল্য অস্বীকার করা যায় না। পূরণচাঁদ যোশির নেতৃত্বাধীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, কিংবা মানবেন্দ্রনাথ রায়ের 'সর্বভারতীয় কমিউনিস্ট সেন্টার' (AICC) প্রবলভাবে স্ট্যালিন ভজনার মধ্যে দিয়ে সেদিন যে ভুল রাজনৈতিক দিশা দেখাচ্ছিলেন, সৌম্যেনবাবুর সজাগ দৃষ্টি ছিল সেদিকে।
এই আটটি লেখার পাশাপাশি যদি আমরা স্মরণ করতে পারি যোশির গান্ধি ও জিন্নাকে লেখা চিঠিগুলো, কিংবা এম. এন. রায়ের ফ্যাসিবাদের উপর লেখা পুস্তিকাটি, তবে এটা স্পষ্ট হবে উত্তাল চল্লিশে সৌম্যেন্দ্রনাথের কণ্ঠ ছিল একক, এবং ঐতিহাসিকভাবে সত্য। রাশিয়ায় স্ট্যালিনের জমানায় আরও অনেকের মতো সৌম্যেনবাবু নেতৃত্বের সরকারি বয়ানকে পাথেয় করেননি। তিনি সেই ১৯৩৯ সালেই বুঝেছিলেন স্ট্যালিনের অভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রগুলো। যখন জার্মানির সঙ্গে গোপন চুক্তিতে পোল্যান্ড ভাগ করে নেওয়া কিংবা হিটলারকে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতির কথাগুলো চেপে গিয়েছিলেন যোশি কিংবা রায়ের মতো কমিউনিস্ট নেতারা। সৌম্যেন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন -
"The Russian bourgeoisie came to power without any special effort on their part. Power came to them as apleasant surprise..."।
এমন মর্মঘাতী সত্য উচ্চারণের জন্য একজন কমিউনিস্ট নেতাকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করে দেওয়ার নিদান ছিল সে সময়। অবস্থার তারতম্য ঘটলেও আজও সেই ট্র্যাডিশন রয়ে গেছে। একজন বিপ্লবীর সঙ্গে প্রতিবিপ্লবীর মূল ফারাকটা হল প্রশ্ন তোলায় নয়, কোন সময় সেটা তোলা হচ্ছে সেটায়। 'জনযুদ্ধ'-র প্রশ্নে যখন সারা ভারতবর্ষের কমিউনিস্টরা উত্তাল, সেই কালপর্বে সঙ্গত কারণেই সৌম্যেন্দ্রনাথ নস্যাৎ করে দিয়েছেন আগমার্কা 'জনযুদ্ধ' শব্দটিকে। কারণ তিনি বহু আগেই বুঝেছিলেন স্ট্যালিন জমানায় ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল আমলাদের হাতে। তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন রাশিয়ার যুদ্ধ নীতি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে যখন ক্রমে আমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত হয়েছে স্তালিনের একনায়কতন্ত্রের রূপ ও বিকাশ, যখন আলেকজান্ডার সোলঝেনিৎসিন'র 'দ্য গুলাগ আর্কিপেলাগো'র প্রকাশ ঘটছে, যখন আমরা হাতে পাচ্ছি মিখাইল বুলগাকভের 'দ্য মাস্টার এন্ড মার্গারিটা', তখন আমরা এই ভেবে অবাক হচ্ছিলাম, যে-সময় 'জনযুদ্ধ'র প্রসঙ্গে সৌম্যেন্দ্রনাথ সমালোচনা করেছেন, সে-সময় বুর্জ়োয়া ডেমোক্র্যাটরা সংশোধনবাদী বলে তাঁর গায়ে স্টিকার মেরে আদতে আমাদের দেশের কমিউনিস্ট রাজনীতির পায়ে কুড়ুল মেরেছিলেন। স্ট্যালিনের পোঁ ধরে আমাদের দেশের কমিউনিস্টরা যুদ্ধের সময় সাম্রাজ্যবাদের দালালি করে যে অবিমৃশ্যকারিতার পরিচয় দিয়েছিলেন, সেই কালো ইতিহাস আজও তাঁদের পিছু ছাড়েনি। সেদিন একক কণ্ঠ হিসেবে সৌম্যেনবাবু দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলেন -
"Only when a people's government fights to protect itself or when it goes to the aidof a revolutionary uprising in response to an invitation of the masses of another country, can such a war be called a people's war. The mere fact that the people have been drawn into a war and are compelled to fight their masters' battles does not make a war a people's war." - 'Red Front' March, 1942.
মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি (১৯৩৯ সালে নাৎসি জার্মানি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি অ-আগ্রাসন চুক্তি) যে সারা বিশ্বের কমিউনিস্টদের চোখে ঠুলি পরিয়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে দাঁড় করানোর কুনাট্য, তা যে ক'জন বিশ্ব কমিউনিস্ট নেতার কাছে স্পষ্ট হয়েছিল, সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর তার মধ্যে একজন।
গ্রন্থ প্রতিক্রিয়া
এই গ্রন্থটি পাঠ করার আগে পাঠককে সব ফেলে যে কাজটি করতে হবে, সেটি হল পাদটীকা সহ তিরিশ পৃষ্ঠার ভূমিকা অংশটি পড়ে ফেলা। এই অংশে চল্লিশের যুদ্ধে ভারতের রাজনীতির, বিশেষত কংগ্রেস, সোশ্যালিস্ট এবং কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর অবস্থান অসম্ভব দক্ষতায় তুলে ধরা হয়েছে। কেবল কেতাবি দক্ষতা নিয়ে এমন কাজ করা যায় বলে আমার মনে হয় না। এর সঙ্গে থাকতে হয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ইতিহাসের পূর্বাপর সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা। আর তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন উদ্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা। ব্যক্তি সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর সমালোচনার ঊর্ধ্বে এমনটা নন। যে কারণে পান্নালাল দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর সংঘাত প্রসঙ্গও ভূমিকায় বাদ যায়নি। সবচেয়ে বড়ো কথা সেই সময় ভারতের কমিউনিস্ট রাজনীতির পরিসরে বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও পৃথা এবং বাসু পাঠকদের পরিচয় ঘটিয়েছেন। সৌম্যেন্দ্রনাথের রাজনীতি কেন বাংলা-অসমের বাইরে প্রভাব ফেলতে পারেনি তার একটা আঁচ এখান থেকে পাওয়া যায়।
সংকলনটিকে পাঠক দুটো ভাগে ভাগ করে নিতে পারেন। প্রথম পাঁচটি প্রবন্ধ বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কিত। পরের তিনটি ভারত ছাড়ো (অর্থাৎ অগস্ট ক্রান্তি)। যদিও এই দুটো ভাগে দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষ ফারাক নেই। প্রথম অংশে স্ট্যালিন এবং যুদ্ধে তাঁর অবস্থান সৌম্যেনবাবুর আক্রমণের ফোকাল পয়েন্টে হলে, দ্বিতীয় পর্বে গান্ধিজী এবং যুদ্ধে তাঁর অবস্থান সমালোচনার সূচিমুখে এসেছে। এখানে একটা কথা বলে নেওয়া ভালো, ক্লাসিক্যাল মার্কসিস্ট চিন্তাবিদ হলেও সৌম্যেনবাবু ছিলেন অনেকটা রোজ়া লুক্সামবার্গ-এর মতো সামনের সারির অ্যাক্টিভিস্ট। তবে লুক্সামবার্গ ছিলেন নন-লেনিনিস্ট, উলটোদিকে সৌম্যেনবাবু প্রো-লেনিনিস্ট।
এখন স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন আসতেই পারে, উত্তাল চল্লিশের সৌম্যেন্দ্রনাথের এই আটটি প্রবন্ধের ঐতিহাসিক মূল্য ছাড়া কি আজকের সময়ে তার আর কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে? এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে যে উত্তরগুলো উঠে আসবে, সেই সম্ভাব্য উত্তরগুলোই সংকলনকে সমকালের প্রাসঙ্গিকতায় দাঁড় করাবে। প্রথমে আসা যাক এই মুহূর্তের আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতির প্রসঙ্গে। এখন সার্বিকভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন কোণে যুদ্ধ জারি আছে। যত দিন যাচ্ছে সেই যুদ্ধ আরও প্ররোচনামূলক হয়ে উঠছে। কারণ এই সময়ের পৃথিবী আশ্চর্যজনকভাবে ডান দিকে হেলে পড়েছে। বুর্জ়োয়া গণতন্ত্রের মধ্যেই যে ফ্যাসিবাদের বীজ লুকিয়ে আছে, তা সৌম্যেনবাবুর এই লেখাগুলো থেকে আমরা বুঝে নিতে পারি। আর সেই ফ্যাসিবাদের অন্যতম কারণ যে কমিউনিস্ট দলগুলোর নঞর্থক ভূমিকা, তাও বেশ স্পষ্ট করে বুঝে নেওয়া যায় তাঁরই লেখা থেকে।
"The strongest front of the European proletariat was smashed by Hitler and his gang, due to the treachary of the Socialists and the profound political mistakes committed by the Stalinists of Germany." - 'Red Front' October, 1942.
জর্মান ফ্যাসিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে যে কথাটা তিনি বলেছেন, মিলিয়ে দেখুন আজ ভারতে দক্ষিণপন্থার উত্থানে বামপন্থীদের দিশাহীন আত্মসমর্পণও ঠিক সেই একই বিশ্বাসঘাতকতা। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে চ্যুত হওয়ায় অনেকের ভাবনায় ছিল যে, এবার স্ট্যালিনপন্থীরা নিজেদের সংশোধন করবেন, দেশ ও আন্তর্জাতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা উচিত কর্তব্য পালনে দ্বিধা করবেন না। অথচ আমরা দেখলাম চূড়ান্ত হতাশার এক ছবি। আজ দেশের মুক্তমনাদের সিডেশন আইনে বিনা বিচারে জেলে পুরে 'আরবান নকশাল' শব্দধারায় দেশদ্রোহী করে দেওয়া হচ্ছে। নকশালপন্থীদের দেশ থেকে নিকেশ করার জন্য নির্বিচারে মিলিটারি অত্যাচার করা হচ্ছে, মেহনতী মানুষের উপর ধর্মের নিরিখে দ্বি-জাতি তত্ত্বের সফল প্রয়োগ হচ্ছে, অথচ প্রাতিষ্ঠানিক কমিউনিস্ট পার্টিগুলো এখনও ভোটের অংক কষে যাচ্ছে। এই রাজনৈতিক ভণ্ডামিকে বুঝে নেওয়ার জন্য সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই আটটি প্রবন্ধ ফিরে পড়া উচিত। আলোচনার টেবিলে রেখে ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করা উচিত। সম্পাদকেরা তাই নির্দ্ধিধায় জানিয়েছেন -
"Tagore's argument pivots around the idea that both fascism and democratic imperialism represent forms of capitalist dictatorship, and that the true struggle lies in the revolutionary overthrow of imperialist powers."
তাই ঠিক এই কারণে এই সংকলনের প্রতিটা প্রবন্ধের শুরুতে সম্পাদকেরা পরিবেশিত প্রবন্ধটির যৌক্তিকতা আজকের প্রেক্ষিতে যেমন বর্ণনা করেছেন, ঠিক তেমনই প্রবন্ধের শেষে প্রয়োজনীয় পাদটীকাও দিয়েছেন। প্রতিটা লেখাই যেহেতু আকারে ছোটো, তাই টীকায় বিক্ষত যাতে না-হয় সেদিকে তাঁরা সমদৃষ্টি রেখেছেন।
এই কাজ এই সময়ের দুই তরুণ রাজনৈতিক প্রাবন্ধিকের পক্ষে যে ভারবাহী হয়ে ওঠেনি, তা সংকলনের প্রতিটি পৃষ্ঠায় স্পষ্ট। অন্তরের শ্রদ্ধা থেকে অতীত ইতিহাসকে, ব্যক্তিত্বকে সমকালের আলোয় দেখার মধ্যে যে পরিশ্রম থাকা প্রয়োজন, সেই পরিশ্রমের প্রকাশ পাওয়া যায় বইটির নির্মাণে। সম্পাদকেরা যে কারণে আমার মতো অভাজন পাঠকের ধন্যবাদর্হ। সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তাঁর মধ্যে মিশেছিল সাহিত্য, সংগীতের প্রতি অনুরাগ। তাঁর বাংলায় লেখা প্রবন্ধগুলির মধ্যে যেমন ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন ভ্রমণ আছে, তেমনই আছে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্মারক বক্তৃতার লিখিত রূপ, ইউরোপ, রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে প্রবন্ধ ইত্যাদি। আশা রইল তাঁর বাংলায় লেখা সেসব প্রবন্ধগুলিও সুসংবদ্ধভাবে প্রকাশ করবেন এই দুই কৃতি সম্পাদক।

গ্রন্থ নামঃ Saumyendranath Tagore and The Roaring Forties
Compiled and edited by: Pritha Chatterjee, Basu Acharya
প্রকাশকঃ সেতু (কলকাতা)
প্রকাশকালঃ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৭৫ টাকা