আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ দশম সংখ্যা ● ১৬-৩১ মে, ২০২৫ ● ১-১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২
সম্পাদকীয়
যুদ্ধবিরতির পরে
পহেলগামের নৃশংস এবং নারকীয় উগ্রপন্থী আক্রমণের প্রেক্ষিতে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানে অবস্থিত নয়টি উগ্রপন্থী ঘাঁটির উপর আক্রমণ চালায় ৬-৭ মে-র রাতে। এই হামলার ফলে ১০০-র অধিক উগ্রপন্থী মৃত, এবং লস্কর-এ-তৈবা তথা জৈশ-এ-মহম্মদের মতো উগ্রপন্থী সংগঠনের মূল কার্যালয় ধ্বংস হয়েছে বলে ভারতীয় সেনা তথা সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে। অপারেশন 'সিন্দুর' পাক সেনা নয়, পাকিস্তানে অবস্থিত উগ্রপন্থী সংগঠন ও পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে সংঘটিত এই কথাও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন ভারতীয় বিদেশ সচিব এবং সেনাবাহিনীর মুখপাত্ররা।
এর প্রত্যুত্তরে পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমে অবস্থিত বহু শহরে বায়ুপথে হামলা চালায়। ড্রোন, মিসাইল এবং যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়। কিন্তু ভারতীয় বায়ুসেনা দাবি করে যে তারা পাক হামলাকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রত্যুত্তরে পাক সেনাবাহিনীর বেশ কিছু পরিকাঠামো ভারত ধ্বংস করেছে। বিশেষভাবে রাওয়ালপিণ্ডি তথা লাহোরে পাক বায়ুসেনার পরিকাঠামোয় সরাসরি আক্রমণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ লাহোর পাকিস্তান পাঞ্জাবের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং রাওয়ালপিণ্ডি পাক সেনার মুখ্য কার্যালয়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাক সেনাবাহিনী লাগাতার ভারতীয় সেনা তথা সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালায় যার ফলে কিছু নিরপরাধ মানুষের প্রাণ যায়।
পরিস্থিতি যখন তপ্ত হয়ে উঠেছে, যখন মনে হচ্ছে যে সামরিক এই উত্তেজনা যুদ্ধে পর্যবসিত হতে পারে, সাধারণ মানুষের কানে যখন রণডঙ্কা প্রবলভাবে বাজছে, বিভিন্ন শহরে ব্লাক আউট করে দিতে হচ্ছে, ঠিক তখন ১০ মে দুপুরে হঠাৎ যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় বিদেশ সচিব একটি কয়েক মিনিটের সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে ১০ মে দুপুর ৩:৩৫ মিনিটে পাক সেনার ডিজিএমও ভারতীয় সেনার ডিজিএমও-কে ফোন করে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব দেন এবং ভারত তা মেনে নেয়। দু'পক্ষ বিকেল পাঁচটা থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে সমস্ত সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখবে বলে ঐকমত্য হয়। দেশের মানুষের একটা বড়ো অংশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন যে দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে না। সাধারণ জনজীবন আর ব্যাহত হবে না। তাই এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো সুস্থ মানুষকেই স্বস্তি দেবে। পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি কবে হবে, বা আদৌ হবে কি না, তা কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু আপাতত যুদ্ধ যদি আটকানো যায়, স্থগিত করা যায় তা দুই দেশের সাধারণ জনগণের জন্যই ভালো। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতি অত সহজ যুক্তিতে চলে না। তাই এই যুদ্ধ বিরতিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রশ্ন ওঠে।
প্রথমত, ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার আগে মার্কিন রাষ্ট্রপতি এক্স হ্যান্ডেলে (ট্যুইটার) এই ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাঁর টিমের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হয়েছে। পাকিস্তান সরকার ট্রাম্পকে এই মধ্যস্থতা করার জন্য ধন্যবাদ জানায়। এখানেই প্রথম প্রশ্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতি যদি হয়ে থাকে তাহলে সেটা ভারতের বহু পুরোনো আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিপন্থী। ভারত বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বলে এসেছে যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো তৃতীয় শক্তির হস্তক্ষেপ ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের পরে সই হওয়া শিমলা চুক্তিতে দুই দেশ এই প্রশ্নে সহমতও হয়। তাহলে এখন ২০২৫ সালে কীভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হল? কেন ট্রাম্প দুই দেশের সরকারী ঘোষণার আগেই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করলেন বা করতে পারলেন? যুদ্ধবিরতির পরে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে তিনি ট্রাম্পের নামও উল্লেখ করেননি। বলেছেন যে পাকিস্তান প্রবল সামরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে সারা পৃথিবীর দেশগুলির কাছে কাঁদছিল যুদ্ধ বিরতির জন্য। তারপরে পাকিস্তানের ডিজিএমও ফোন করেন ইত্যাদি। তাই যদি হয়, তাহলে ট্রাম্প কি মিথ্যা বলছেন? বললে কেন বলছেন? এই প্রশ্নগুলির কোনো উত্তর ভারত সরকারীভাবে দেয়নি। ট্রাম্পের কথাও সরাসরি নাকচ করা হয়নি। কিন্তু কেন?
ট্রাম্প শুধু এই একটি ট্যুইট করে থামেননি। তিনি যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে লাগাতার এর কৃতিত্ব দাবি করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত ভাষণের আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছেন তিনি যুদ্ধ থামিয়েছেন, তা না হলে নাকি কয়েক লক্ষ মানুষের প্রাণ যেত। তিনি এও বলছেন যে তিনি ভারত ও পাকিস্তানকে বাণিজ্যের গাজর দেখিয়ে যুদ্ধ থামিয়েছেন। সৌদি আরবে গিয়েও তিনি একই কথা বলছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর বিদেশ সচিব বলছেন যে কোনো একটি নিরপেক্ষ জায়গায় ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মীর সহ অন্যান্য সমস্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসবে! এটি একটি সাংঘাতিক দাবি যা ভারতের কাশ্মীর প্রশ্নে কয়েক দশকের অবস্থানের বিরুদ্ধে যায়। মার্কিন বিদেশ সচিব এই সমস্ত কথা বলে চলেছেন কিন্তু ভারতের বিদেশমন্ত্রীর এই নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই কেন? যেই ট্রাম্পকে মোদী আহমেদাবাদে নিয়ে এসে সংবর্ধনা দেন, তিনি এখন এই সমস্ত কথা বলছেন কেন? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর এখনও ভারত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে বহু বছর ধরে এই কথা বলে এসেছে যে পাকিস্তানের সঙ্গে একই বন্ধনীতে ভারতের নাম নেওয়া উচিত নয়। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ যারা উন্নয়ন করতে চায় দেশের মানুষের। যেখানে পাকিস্তান প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দেশ নয়, যারা দশকের পর দশক উগ্রপন্থাকে মদত দিয়েছে, গোটা বিশ্বে উগ্রপন্থীদের রপ্তানি করেছে, আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থীদের সেই দেশে আশ্রয় দিয়েছে। আগে পাকিস্তানকে সর্বাধিক সাহায্য করত আমেরিকা। কিন্তু ভারতের লাগাতার এই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবস্থান নেওয়া এবং পাকিস্তানের উগ্রপন্থাকে দুনিয়ার সামনে তুলে ধরার ফলে আমেরিকা আর ভারত পাকিস্তান শব্দদ্বয়কে এক সঙ্গে ব্যবহার করে না। তারা ভারতকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। রাষ্ট্রপতি ওবামা, মনমোহন সিংহের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় ভারতের সংসদে দাঁড়িয়ে মুম্বাই উগ্রপন্থী হামলার জন্য পাকিস্তানের নিন্দা করেন, সমালোচনা করেন। কিন্তু ট্রাম্পের বর্তমান সুর সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি পাকিস্তান পোষিত উগ্রপন্থা নিয়ে একটি শব্দও ব্যয় করেননি। ভারত ও পাকিস্তানকে একই বন্ধনীতে রেখে বয়ান দিচ্ছেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে একসঙ্গে ডিনারে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন, দুই দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। অর্থাৎ পাকিস্তান একটি উগ্রপন্থার কারখানা - ভারতের এই অবস্থানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন সহমত নয়। তাই তারা দুই দেশের মধ্যে কোনো তফাৎ করার চেষ্টা করছে না। বরং বারংবার যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে ভারতকে আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলছেন।
ইতিমধ্যেই খবরে প্রকাশ যে ট্রাম্প অ্যাপেল কোম্পানির মালিককে বলেছেন ভারতে তাদের কারখানা না খুলতে। অতএব বোঝাই যাচ্ছে যে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসন ভারতের সঙ্গে সেই দেশের সম্পর্ককে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কেন? এর উত্তর ভারত সরকারকে ভাবতে হবে। জনগণকে বলতে হবে কেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যের এতটা ফারাক থাকছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ কি সত্যিই হয়েছে? না হয়ে থাকলে তাকে সরাসরি অস্বীকার করা হচ্ছে না কেন?
প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের ভাষণে ভারতের পাকিস্তান নীতি তথা উগ্রপন্থী হামলার বিরুদ্ধে একটি নতুন নীতির কথা ঘোষণা করেছেন। প্রথমত, তিনি বলেছেন যে ভারত নিজের শর্তে পাকিস্তানের ব্যাপারে অবস্থান নেবে। এটি ভারতের পুরোনো নীতিরই অনুরণন যে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মানা হবে না। দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন যে 'নিউক্লিয়ার ব্লাকমেল' করে পাকিস্তান নিজেকে আড়াল করতে পারবে না। হঠাৎ 'নিউক্লিয়ার' শব্দটির প্রয়োজন পড়ল কেন? তবে কি পাকিস্তান এই কথা আন্তর্জাতিক মহলে বা আমেরিকাকে বলেছে? তাই যদি বলে থাকে তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং সেই কথা সরাসরি দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে জানানো উচিত। মার্কিন মধ্যস্থতার কথাতেও উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের হাতে এসে পৌঁছনোর পরে তারা তাদের তৎপরতা বাড়ায়। কী সেই তথ্য? একবিংশ শতাব্দীতে কি সত্যি সত্যি আনবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল দিন কয়েক আগে? আশা করি আমাদের সংশয় অমূলক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ওই শব্দের উল্লেখ এবং মার্কিন প্রশাসনের তরফে বারংবার লক্ষ মানুষের প্রাণ যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ থাকায় এই সংশয় দেশের অনেক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মনেও দেখা দিচ্ছে। এই দুনিয়ায় পারমানবিক বোমার কোনো জায়গা নেই। 'নিউক্লিয়ার ব্লাকমেল' নয় প্রয়োজন সম্পূর্ণভাবে পারমানবিক বোমা বর্জনের নীতি নেওয়ার। পাকিস্তানকেও বাধ্য করতে হবে তাদের এই মারণাস্ত্র ধ্বংস করতে। এক সময় ভারত বিশ্বে নিরস্ত্রীকরণ নীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল পেশ করত। কিন্তু এখন তা শুধুই অতীত।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে এখন থেকে ভারত আর উগ্রপন্থা-উগ্রপন্থী এবং উগ্রপন্থীদের মদতকারী দেশের মধ্যে কোনো ফারাক করবে না। অর্থাৎ আবার যদি পাকিস্তান মদতপুষ্ট উগ্রপন্থীরা ভারতের উপর আক্রমণ চালায় তাহলে ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করতে পারে। এই নীতি স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণপন্থীদের চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে ঘোষিত হয়েছে, যারা যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হওয়ার পরে দেশের বিদেশ সচিব ও তার পরিবারকে গালাগাল করতে পিছপা হয়নি। মোদী তাদের বলেছেন যে আপাতত যুদ্ধ বিরতি। কিন্তু পরে আবার এরকম কোনো ঘটনা ঘটলে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মঞ্চে কি এই নীতি সত্যিই ভারত চালিয়ে যেতে পারবে? প্রত্যেক উগ্রপন্থী হামলা যদি যুদ্ধের দিকে ভারতকে নিয়ে যায়, তা কি ভারতের মানুষের মঙ্গল করবে? ইতিমধ্যেই আমরা দেখছি পাকিস্তানকে কোনো কড়া নিন্দা করেনি আমেরিকা বা অন্য কোনো দেশ। তার মধ্যে ভারতের এই অবস্থানকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে না তো? সামরিক উত্তাপ কমে গেলে এই প্রশ্নগুলি নিয়ে ভারত সরকারের গভীরভাবে বিচার বিবেচনা করা উচিত।
কিন্তু আরও কিছু কথা থেকে যায়। পাকিস্তানে উগ্রপন্থাকে প্রশ্রয়, আশ্রয় এবং পৃষ্ঠপোষকতা করার দীর্ঘদিনের ইতিহাস রয়েছে। গোটা দক্ষিণ এশিয়া এবং পৃথিবীর সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি বড়ো অন্তরায়। অতএব, ভারতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে একঘরে করতে হবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র সামরিক অভিযান নয়, ব্যাপকভাবে কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাকিস্তানের ভিতরে সেনা বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু যুদ্ধজিগির তুলে এই সমস্ত জটিল পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়া সম্ভব হবে না। তাই ভারতকে ঠাণ্ডা মাথায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করতে হবে। বিদেশ সচিব বলেছেন যে পাক উগ্রপন্থীদের হামলা সংঘটিত হয়েছিল দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর উদ্দেশ্যে। তিনি বলেছেন যে দেশের মানুষের ঐক্যই পাকিস্তানের সামনে ভারতের বড়ো চ্যালেঞ্জ। সেই ঐক্যকে আরো দৃঢ় করতে হবে। কিন্তু বিজেপি-আরএসএস ভারতে যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তা এই ঐক্যকেই দুর্বল করে। তাই পাকিস্তানের মৌলবাদ এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে ভারতের মানুষের ঐক্য, ধর্মনিরপেক্ষতাকে সুদৃঢ় করতে হবে। কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করিয়ে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে নারীর ক্ষমতায়ন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তাই দেয়। এই বার্তাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাই যেই বিজেপি নেতা কর্নেল কুরেশির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করলেন, তাকে জেলে পুরতে হবে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে সমূলে উচ্ছেদ করতে হবে।
শেষে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে পহেলগামে যেই আতঙ্কবাদীরা ২৬ জন মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করল, তাদের শাস্তি দিতে হবে। তারা এখনও অধরা। তাদেরকে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সুরক্ষা ব্যবস্থায় কাদের বা কীসের গাফিলতি ছিল এই হত্যাকাণ্ড হওয়ার পিছনে, তা চিহ্নিত করতে হবে। উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারতের মানুষের ঐক্যের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত শক্তি ভারতের শত্রু। এই কথা সাধারণ মানুষের মনে প্রোথিত করতে হবে।