আরেক রকম ● দ্বাদশ বর্ষ ষোড়শ সংখ্যা ● ১৬-৩১ আগস্ট, ২০২৪ ● ১-১৫ ভাদ্র, ১৪৩১

সমসাময়িক

'নতুন' বাংলাদেশ


শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার এখন অতীত। পদত্যাগপত্র জমা দিয়েই শেখ হাসিনা দেশান্তরী। ৮ আগস্ট, ২০২৪ বাংলাদেশে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্থাপিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রকের উপদেষ্টারা কাজ শুরু করেছেন। সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টামন্ডলী কার কাছে দায়বদ্ধ তা পরিষ্কার নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এ এক নতুন ধারণা।

সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ সংস্কারের দাবিতে যে ছাত্র আন্দোলন ৫ জুলাই শুরু হয়েছিল তার অবসান হল ৫ আগস্ট। শেখ হাসিনার সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সংরক্ষণ সংস্কারের নির্দেশিকা জারি করার অব্যবহিত পরেই ছাত্র আন্দোলন হয়ে গেল গণ আন্দোলন। সেই আন্দোলনের একটাই শ্লোগান, - 'দফা এক, দাবি এক/ হাসিনার পদত্যাগ।' আন্দোলন দমনে নিষ্ঠুরতম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের সঙ্গে শাসকদলের সদস্যরাও আন্দোলন প্রশমিত করার কাজে নেমে পড়ায় গণ-ক্ষোভের তীব্রতা অনেক বেশি বেড়ে যায়। একদিকে সর্বাত্মক আন্দোলন অন্যদিকে প্রতিহিংসার প্লাবন। শাসকের খেয়াল ছিল না রবীন্দ্রনাথের বার্তা, "...শাসনে যতই ঘেরো, আছে বল দুর্বলেরও..."। ছাত্র আন্দোলন ঘিরে গত ১৬ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সংঘাত-সহিংসতায় ২১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর ৪ আগস্ট থেকে নতুন সরকার গঠনের পরও কয়েক দিনে ৩৬৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ১৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৫৮২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

যে আওয়ামী লীগের নাম এতদিন সে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল, সেই দলের বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন আখ্যা পেল আর এক নতুন 'স্বাধীনতার যুদ্ধ'। ৫ আগস্ট জনতার রোষাগ্নি প্রতিহত করতে না পেরে, একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে, পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আক্ষরিক অর্থে পালিয়ে গেলেন। ৮ অগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ নতুন অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে।

'নতুন' বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা করেছে গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এই ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত-বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার বিচার হয়। পরে তাঁদের সাজা কার্যকর করা হয়। এখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আরও অনেকের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁদের বিচার করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রায় সমার্থক হয়ে গেছিল। ১৯৭৫-এ শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ কার্যতঃ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ১৯৮১-তে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলটির হাল ধরেন। এবং বিভিন্ন ধরনের গণ আন্দোলন সংগঠিত করতে শুরু করেন। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সংসদে বিরোধী নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হন। অর্থাৎ দেশে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ বাস্তবে কার্যত একটি 'একনায়কতান্ত্রিক' সরকারে পরিণত হয়েছিল। ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে বাস্তবিক অর্থে আর কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সময়সীমায় অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের দু'টি হয়েছে অনেকটা একতরফা নির্বাচন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিলেও সেখানে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল, যে নির্বাচনকে 'রাতের নির্বাচন' বলেও অনেকে বর্ণনা করেন। এমনকি স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রভাব বিস্তার করেছে। সেসব নির্বাচনও বেশিরভাগ সময় একতরফা হয়েছে। যেখানে বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে, সেখানেই অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। ফলে গত ১৫ বছরে মানুষ আসলে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার বা মতামত জানানোর কোনো অধিকার পায়নি। সবমিলিয়ে একদা জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী আচরণ দলকে জনবিচ্ছিন্ন করে তোলে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ করেছে। এ বছরের শুরুতেই জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বিরোধী গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিরুদ্ধ মত দমন করা হয়েছে কঠোর হাতে। বিরোধী গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, দখল নেওয়া হয়েছে অথবা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশে গত বহু বছর ধরে সামাজিক মাধ্যমেও শেখ হাসিনা বা শেখ মুজিব বিরোধী বক্তব্য পোস্ট করার জের ধরে মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী মত দমনের জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো আইন করা হয়েছে। সরকার বিরোধী মত প্রকাশের জন্য মাসের পর মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এমন অভিযোগও উঠেছে।

বিভিন্ন দেশের ইতিহাসে দেখা গেছে, জোর করে ক্ষমতায় থাকা দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এক সময় আমলা, প্রশাসন বা পুলিশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম হয়নি বলে বিশ্লেষকরা এখন বলছেন। তাঁদের মতে, টানা বহুদিন ধরে ক্ষমতায় থাকার ফলে এক সময়ের মাঠ-ময়দানের রাজনৈতিক দল হলেও দলটির নেতা-কর্মীরা জনগণের কাছ থেকেও ক্রমশঃ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে দলটি পুরোপুরি প্রশাসন ও আমলানির্ভর হয়ে উঠেছিল। দলের বিভিন্ন স্তরে যেসব নেতাদের পদ দেওয়া হতো, অভিযোগ রয়েছে যোগ্যতার বদলে স্বজনপ্রীতি বা অর্থের বিনিময়ে এসব পদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পদ বা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন অনেক ব্যক্তিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে যাদের অতীতে রাজনীতির সঙ্গে কোনো সংস্রব ছিল না। তাদের অনেকেই এসব পদকে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করেছে। সাংবাদিক সহ পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে এমনভাবে দলীয় বিস্তার ঘটানো হয়েছে যাতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আসল বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করতে করতে দলটাকে দুর্বল করে ফেলে। অযোগ্য, অদক্ষ ব্যক্তিদের দলের শীর্ষ পদে বসানোর ফলে তাদের সব কিছু ছিল, কিন্তু দলটাকে খুঁজে পাওয়া গেল না। প্রতিটি গ্রামেগঞ্জে ছাত্র লীগ, যুব লীগের নামে, আওয়ামী লীগের নামে তাদের নেতাকর্মীরা যা করেছে, তাতে মানুষের ক্ষোভ জমতে জমতে এমন একটা অবস্থায় গেছে, এবার শুধু সেটার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।

গণ বিক্ষোভ দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিল। দুর্নীতি নিয়ে মানুষের ভয়, চক্ষুলজ্জাও উঠে গিয়েছিল। এসবের মধ্য দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্তরা বিত্ত অর্জন করেছে ও তা অন্যত্র পাচার করে দিয়েছে। যেখানে মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করছে, সেখানে নেতা-মন্ত্রীদের বিদেশে অঢেল সম্পদের তথ্য মানুষকে বিরক্ত আর ক্ষুব্ধ করেছে। বেতনের তুলনায় দুর্নীতির সুযোগ থাকার জন্য সরকারি চাকরি এত লোভনীয় হয়ে ওঠে যে চতুর্থ শ্রেণির চাকরির পেছনেও লাখ লাখ টাকা ঘুষ দেয়া-নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা নিজেই প্রকাশ্যে বলেছেন যে তাঁর নিজের দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও চারশো কোটি টাকার মালিক। সরকার দুর্নীতি দমনে কী করেছে? স্বভাবতই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর, পায়রা সেতু, রেল সংযোগের মতো বহু ব্যয়বহুল পরিকাঠামো উন্নয়ন করেছে। তাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মতো অনেক স্থানে অর্থনৈতিক পরিবর্তনও এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রীরা বারবার এসব উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে গেলেও তার খুব বেশি প্রতিফলন নিজেদের সাংসারিক বা ব্যক্তিজীবনে তেমন একটা দেখছিলেন না সাধারণ মানুষ। ফলে তারাও একটি পরিবর্তন চাইছিলেন।

বাংলাদেশের গত দু' বছর ধরে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ছুঁয়েছে। রাতারাতি ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে সব কিছুর ওপরে। সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম রাতারাতি বেড়ে গেছে। এসবের বোঝা পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে রিজার্ভের ঘাটতি, দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচার, ব্যাঙ্কিং খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দেশের গণমাধ্যমে। অথচ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের মধ্যে দিনে দিনে সরকার বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের মৌলবাদীদের চক্ষুশূল। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসরে মৌলবাদী শক্তি আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখকষ্টর জন্য ভারতের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে জল-হাওয়া জুগিয়ে গেছে। রান্নাঘরের পেঁয়াজ বা মশলা বাজারে পাওয়া না গেলে অথবা বেশি দামে কিনতে হলে ক্ষোভের অভিমুখ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দিতে অসুবিধা হয়নি। তিস্তা নদীর জলের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় ভারত বিরোধিতা আরও তীব্র হয়েছে।

দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকর্মণ্য প্রশাসনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার জন্য শেখ হাসিনা বাস্তব পরিস্থিতির স্পষ্ট চিত্র দেখতে পাননি। তিনি খেয়াল করেননি সামরিক বাহিনীরও তাঁর প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন থাকার সুবাদে একনায়কতন্ত্রের আবর্তে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ জনজীবনে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে তার খবর পাওয়ার সুযোগ ছিল না। অথবা তিনি রাখতে চেষ্টা করেননি।

উন্নয়নের স্বপ্ন ফেরি করতে গিয়ে তিনি পায়ের তলার মাটির খোঁজ রাখতে ভুলে গেছিলেন। ফলাফল, আর পাঁচটা স্বৈরশাসকের সঙ্গে তাঁর নামও একই বন্ধনীতে যুক্ত হল। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার কোন পথে চলতে চায় তার দিশা এখনও আন্দাজ করা না গেলেও একটা বিষয় পরিষ্কার যে তাঁরা মৌলবাদের সঙ্গে সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয়। শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুদিন ১৫ আগস্ট এবার 'জাতীয় শোক দিবস' হিসেবে উদযাপন করা হল না। মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত নায়ক কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদিনে শেখ মুজিবর রহমানের ধানমন্ডির বাসভবন যেতে পারেননি। এর আগেই বাড়িটি অবাধে লুটপাট করে প্রায় ধংস করে দেওয়ার পর সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি। বিভিন্ন ভাস্কর্য নির্বিচারে ভেঙে ফেলার পরও সরকারি তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার বিষয়ে মৌলবাদীরা শুরু থেকেই সক্রিয়। এখনও তার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মৌলবাদী শক্তির প্রভাব কত বেশি।

'নতুন' বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে নাকি মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে সে কথা ভবিষ্যতে জানা যাবে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টালমাটাল পরিস্থিতির অবসানের পর সেই পুরোনো আপ্তবাক্য আবার নতুন করে স্মরণ করার সময় এসেছে, - "জনগণই শেষ কথা বলে।"