আরেক রকম ● দ্বাদশ বর্ষ ত্রয়োদশ সংখ্যা ● ১-১৫ জুলাই, ২০২৪ ● ১৬-৩১ আষাঢ়, ১৪৩১
চিঠির বাক্সো
তারিখঃ ১ জুলাই, ২০২৪
চিঠি লিখেছেন মৃন্ময় সেনগুপ্ত
মাননীয় সম্পাদক,
আরেক রকম
মহাশয়,
'আরেক রকম' দ্বাদশ বর্ষ দ্বাদশ সংখ্যায় (জুন ১৬, ২০২৪) সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অষ্টাদশ লোকসভার নির্বাচনে বামপন্থীরা আটটি আসনে জিতেছেন। যার মধ্যে রয়েছে কেরলের একটি আসন। অথচ, কেরলে আরএসপি প্রার্থী এন. কে. প্রেমচন্দ্রন এই নিয়ে পরপর তিনবার জিতলেও, তাঁকে বাম প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হয়নি।
কোল্লাম লোকসভা কেন্দ্রে এন. কে. প্রেমচন্দ্রন এবার দেড় লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। কোল্লাম লোকসভা কেন্দ্রের সঙ্গে আরএসপি'র ইতিহাস মুছে দেওয়া সম্ভব নয়। ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে এই কেন্দ্রে আরএসপি প্রার্থী শ্রীকান্তন নায়ার জয়ী হয়েছিলেন। এরপরেও বিগত শতকের ষাট, সত্তর দশকে তিনি একাধিকবার এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন। ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন আরএসপি'র এন. কে. প্রেমচন্দ্রন।
২০১৪ সালে আরএসপি আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বারে বারে এলডিএফ-এর কাছে অনুরোধ করলেও সাড়া মেলেনি। তখন বাধ্য হয়ে আরএসপি একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে ইউডিএফ-এর থেকে আসা প্রস্তাবে সম্মত হয়ে এন. কে. প্রেমচন্দ্রন ইউডিএফ মনোনীত আরএসপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৪ সালে তিনি জয়ী হন। এরপর ২০১৯ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি জিতেছেন।
যখন সংসদে বাম সদস্য কমে যাওয়ায় জনজীবনের সমস্যা সংসদের ভেতর তোলার সুযোগ অনেক কমে যায়, তখন এন. কে. প্রেমচন্দ্রন বাম সাংসদ হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ২০১৯-২০২৪ মেয়াদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতর তিনি বারে বারে সোচ্চার হয়েছেন। বামেদের কন্ঠস্বর সংসদে তুলে ধরেছেন।
এবারের সাধারণ নির্বাচনে 'ইন্ডিয়া' জোট গঠনের ফলে জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলেছে। তামিলনাড়ু, বিহার, রাজস্থানে বামেরা ইন্ডিয়া জোটের হয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছেন। রাজস্থানে সিপিআই(এম) প্রার্থী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনেই জিতেছেন। তামিলনাড়ুতে সিপিআই(এম) ও সিপিআই প্রার্থী, বিহারে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন প্রার্থীরা জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে এক জোটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছেন। এমনকী পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাও এর ব্যতিক্রম নয়।
অথচ, কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে বাম প্রার্থী লড়ে জিতলে, তাঁকে বাম সাংসদ হিসেবে গণ্য করা হবে না কেন? কে বাম সাংসদ তা কি একটি বাম দলের সাথে জোট হয়েছিল কিনা তা দিয়ে নির্ধারিত হবে? আরএসপি বরাবরই বাম ঐক্যের পক্ষে। ১৯৬৪ সালে অনুষ্ঠিত আরএসপি-র পাটনা জাতীয় সম্মেলন থেকে বাম ঐক্যকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আরএসপি বর্তমান পরিস্থিতিতে বাম ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার কথা বললেও, দুঃখজনকভাবে একটা মহল থেকে আরএসপি সাংসদকে বাম সাংসদ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এন. কে. প্রেমচন্দ্রনকে বাম সাংসদ হিসেবেই গণ্য করা হলেও সাধারণভাবে তাঁকে বামপন্থী সাংসদদের সঙ্গে একই বন্ধনীতে দেখানো হচ্ছে না। 'আরেক রকম'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকীও কি সেই পথের পথিক হয়ে গেল? 'আরেক রকম'-এর নিয়মিত পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এই বার্তা বেদনাদায়ক।
ধন্যবাদান্তে,
মৃন্ময় সেনগুপ্ত